০৪:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আক্কেল দাঁত কেন ওঠে, আর উঠলেই কেন এত ব্যথা? ধ্বংসের পর পুরোনো পথে নয়, নিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে এগোতে হবে নেপালকে চীনা পণ্য কিনতে বিনিময় কৌশলে নিষেধাজ্ঞা এড়াচ্ছে ইরান দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চিরকুট বিতর্কে চীন ফিলিপাইন শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরেও কাটছে না বাণিজ্য জট ট্রাম্প কিম চতুর্থ বৈঠক আয়োজনে মধ্যস্থতায় প্রস্তুত হলো চীন মিয়ানমারে টিন খনি চালু হলো জাতিসংঘ তদন্ত প্রত্যাখ্যান করল সরকার  হোয়াইট হাউসের সহকারীদের নগদ উপহার নিয়ে উঠল নৈতিকতার প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের দুই অংশের প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে দ্বন্দ্ব  নেপালে বন্যা পুনর্গঠনে পাঁচশ কোটি ডলার সহায়তা চাইল সরকার

হাসিনার মেয়ে সাইমা ওয়াজেদের হু আঞ্চলিক প্রধান পদত্যাগ

সাবেক বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সাইমা ওয়াজেদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। নয় সেপ্টেম্বর কার্যকর হওয়া এই পদত্যাগ আসে জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কের পর। জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক পদ থেকে হাসিনা-পরিবারের একজন সদস্যের এভাবে সরে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংস্থার পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে দুটি বিষয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, একটি চীন সফরের ভ্রমণ ভাতা সংক্রান্ত আর্থিক জালিয়াতি সংক্রান্ত এবং অন্যটি একাডেমিক সনদ ভুলভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন গত বছরের মার্চে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছিল। সাইমা ওয়াজেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ভ্রমণ ভাতার বিষয়টি কর্মীদের প্রশাসনিক ভুল মাত্র। প্রথম থেকেই তার এই নিয়োগ ঘিরে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল, কেননা তখন তার মা শেখ হাসিনা নিজেই বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ছিলেন। পেশাগতভাবে সাইমা ওয়াজেদ একজন স্কুল মনোবিজ্ঞানী এবং অটিজম বিষয়ক পরামর্শক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দেশে ফেরার আগে তিনি শুচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন হিসেবে অটিজম সচেতনতামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেই পরিচয়েই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান। দুই হাজার চব্বিশ সালে তাকে যখন আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়, তখনই তার প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো, কেননা জনস্বাস্থ্য প্রশাসনে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা সীমিত ছিল বলে সমালোচকরা মনে করতেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ থেকে পদত্যাগ করলেন সায়মা ওয়াজেদ | Protidiner  Chitro BD | Latest Online Bangla News | প্রতিদিনের চিত্র বিডি | অনলাইন  বাংলা সংবাদপত্র
গত বছরের জুলাই মাস থেকে তিনি বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে ছিলেন। সংস্থাটি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গোপনীয়তা রক্ষার কথা বলেছিল। পদত্যাগপত্রে সাইমা ওয়াজেদ লিখেছেন, তাকে দায়িত্ব পালনে বারবার বাধা দেওয়া হয়েছে বলে নেতৃত্বের ওপর তার আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তিনি আর্থিক কষ্টের কথাও উল্লেখ করেছেন। দীর্ঘ এই ছুটিকালীন সময়ে আঞ্চলিক কার্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছিল বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

এই ঘটনার পর সংস্থার আঞ্চলিক কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব কে দেবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মধ্যে হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে একের পর এক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে, আর এই পদত্যাগ সেই ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ অধ্যায়। আগামী দিনে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার অগ্রগতি এবং সংস্থার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার দিকে নজর থাকবে। এর পাশাপাশি নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া কত দ্রুত শুরু হয়, তাও দেখার বিষয়। এখনো এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি, ফলে সদস্য দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকতে হবে পর্যবেক্ষকদের।

দুই হাজার চব্বিশ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া একটি পরিবারের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনের শেষ বড় পদটিও এখন হাতছাড়া, আর এই ঘটনা আরও একবার মনে করিয়ে দেয় যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঢেউ সীমান্ত পেরিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানেও পৌঁছে যায়। জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠনগুলোয় শীর্ষ পদে বসা রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার প্রশ্ন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই আলোচনাও নতুন করে সামনে এনেছে এই ঘটনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

আক্কেল দাঁত কেন ওঠে, আর উঠলেই কেন এত ব্যথা?

হাসিনার মেয়ে সাইমা ওয়াজেদের হু আঞ্চলিক প্রধান পদত্যাগ

০২:১০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাবেক বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সাইমা ওয়াজেদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। নয় সেপ্টেম্বর কার্যকর হওয়া এই পদত্যাগ আসে জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কের পর। জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক পদ থেকে হাসিনা-পরিবারের একজন সদস্যের এভাবে সরে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংস্থার পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে দুটি বিষয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, একটি চীন সফরের ভ্রমণ ভাতা সংক্রান্ত আর্থিক জালিয়াতি সংক্রান্ত এবং অন্যটি একাডেমিক সনদ ভুলভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন গত বছরের মার্চে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছিল। সাইমা ওয়াজেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ভ্রমণ ভাতার বিষয়টি কর্মীদের প্রশাসনিক ভুল মাত্র। প্রথম থেকেই তার এই নিয়োগ ঘিরে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল, কেননা তখন তার মা শেখ হাসিনা নিজেই বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ছিলেন। পেশাগতভাবে সাইমা ওয়াজেদ একজন স্কুল মনোবিজ্ঞানী এবং অটিজম বিষয়ক পরামর্শক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দেশে ফেরার আগে তিনি শুচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন হিসেবে অটিজম সচেতনতামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেই পরিচয়েই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান। দুই হাজার চব্বিশ সালে তাকে যখন আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়, তখনই তার প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো, কেননা জনস্বাস্থ্য প্রশাসনে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা সীমিত ছিল বলে সমালোচকরা মনে করতেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ থেকে পদত্যাগ করলেন সায়মা ওয়াজেদ | Protidiner  Chitro BD | Latest Online Bangla News | প্রতিদিনের চিত্র বিডি | অনলাইন  বাংলা সংবাদপত্র
গত বছরের জুলাই মাস থেকে তিনি বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে ছিলেন। সংস্থাটি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গোপনীয়তা রক্ষার কথা বলেছিল। পদত্যাগপত্রে সাইমা ওয়াজেদ লিখেছেন, তাকে দায়িত্ব পালনে বারবার বাধা দেওয়া হয়েছে বলে নেতৃত্বের ওপর তার আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তিনি আর্থিক কষ্টের কথাও উল্লেখ করেছেন। দীর্ঘ এই ছুটিকালীন সময়ে আঞ্চলিক কার্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছিল বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

এই ঘটনার পর সংস্থার আঞ্চলিক কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব কে দেবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মধ্যে হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে একের পর এক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে, আর এই পদত্যাগ সেই ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ অধ্যায়। আগামী দিনে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার অগ্রগতি এবং সংস্থার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার দিকে নজর থাকবে। এর পাশাপাশি নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া কত দ্রুত শুরু হয়, তাও দেখার বিষয়। এখনো এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি, ফলে সদস্য দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকতে হবে পর্যবেক্ষকদের।

দুই হাজার চব্বিশ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া একটি পরিবারের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনের শেষ বড় পদটিও এখন হাতছাড়া, আর এই ঘটনা আরও একবার মনে করিয়ে দেয় যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঢেউ সীমান্ত পেরিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানেও পৌঁছে যায়। জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠনগুলোয় শীর্ষ পদে বসা রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার প্রশ্ন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই আলোচনাও নতুন করে সামনে এনেছে এই ঘটনা।