বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য আবারও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে বারো ও তেরো সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় এই অধিবেশনে তিনি সত্যিই যোগ দেবেন কিনা, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার প্রশ্নে এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হয়ে উঠেছে।
আট সেপ্টেম্বর এক সাংবাদিক বৈঠকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এই বিষয়ে তার কাছে জানানোর মতো কোনো নতুন তথ্য নেই। এর আগে ঢাকায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তবে সেই সাক্ষাৎ মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবেই বর্ণনা করা হয়েছে, সফরের নির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা তাতে ঠিক হয়নি। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন সাক্ষাৎ সাধারণত বড় কোনো সফরের আগে সম্পর্কের পালস বোঝার একটি ধাপ হিসেবেই কাজ করে।

সফরের আগে একটি স্পষ্ট কূটনৈতিক এজেন্ডা ঠিক করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে। শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এখন সেই সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফরের প্রতীকী গুরুত্ব অনেক বেশি, তাই তড়িঘড়ি না করে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও পানি বণ্টনের মতো দীর্ঘদিনের বিষয়গুলোও এই এজেন্ডা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা। দুই হাজার চব্বিশ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। এর মধ্যে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পর্যায়ে একাধিকবার বৈঠক হলেও শীর্ষ পর্যায়ের সফর এতদিন হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সম্ভাব্য এই সফরকে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা, আর তাই উভয় পক্ষই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ব্রিকস সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা থাকায় দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত সশরীরে অংশ নেবেন নাকি প্রতিনিধি পাঠাবেন, তার ওপর নির্ভর করছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ। এত স্পর্শকাতর একটি সফরের সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখাটা নতুন সরকারের সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, যারা মনে করছেন যে কোনো সিদ্ধান্তই এখন দুই দেশের সম্পর্কের সুর বেঁধে দেবে।
একটি আমন্ত্রণ গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত কখনো কখনো নিছক প্রোটোকলের প্রশ্ন নয়, বরং তা পুরো একটি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সুর বেঁধে দেয়, আর ঢাকা ও দিল্লি দুই পক্ষই এখন সেই সুর মেলানোর অপেক্ষায়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই অপেক্ষার অবসান ঘটবে, আর তখনই একেবারে স্পষ্ট হয়ে যাবে সম্পর্ক পুনর্গঠনের গতি ঠিক কতটা দ্রুত হতে যাচ্ছে বাস্তবে।




















