জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাশিতম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। দুই জুন অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রিয়াস কাকৌরিসকে পরাজিত করে নিরানব্বই বনাম একানব্বই ভোটে জয়ী হন তিনি। আট সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া তার এক বছর মেয়াদি দায়িত্বকালে জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াও সম্
চার দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এই দায়িত্বে এসেছেন খলিলুর রহমান। এর আগে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা বিষয়ক হাইরিপ্রেজেন্টেটিভ হিসে
নিজের অধিবেশনের জন্য ছয়টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র নির্ধারণ করেছেন খলিলুর রহমান, যার মধ্যে রয়েছে শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গতি বাড়ানো, জলবায়ু পদক্ষেপ, মানবাধিকার, নতুন প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং জাতিসংঘের সংস্কার। আস্থা পুনরুদ্ধার ও রূপান্তর ব্যবস্থাপনা শীর্ষক প্রতিপাদ্য সামনে রেখে তিনি বলেছেন, আস্থা পুনর্গঠন, ঐকমত্য তৈরি এবং সরল বিশ্বাসে আলোচনার সুযোগ তৈরি করাই তার লক্ষ্য। জাতিসংঘের কাঠামোগত সংস্কারের প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও তা বাস্তবায়নে সভাপতির ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেও নজর থাকবে সদস্য দেশগুলোর।
স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশ্বিক পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী এক বছরে জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচনসহ একাধিক স্পর্শকাতর বৈশ্বিক ইস্যুতে সভাপতির আসন থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাকে, যা বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব মূলত পদাধিকারবলে নিরপেক্ষ সভাপতিত্ব হলেও এই আসনে বসা ব্যক্তি অধিবেশনের এজেন্ডা নির্ধারণ, বিতর্কিত ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরি এবং বৈশ্বিক সংকটে জাতিসংঘের অবস্থান স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে এই এক বছরে জাতিসংঘের সংস্কার আলোচনা কতদূর এগোয়, তা নিয়ে ছোট ছোট দেশগুলোরও আগ্রহ থাকবে, কেননা সংস্কার প্রশ্নে তাদের স্বার্থ প্রায়ই বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যে মানুষটি বছরের পর বছর জাতিসংঘের দরজায় দরজায় ঘুরেছেন, আজ সেই মানুষটিই জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সভার মধ্যমণি, আর এই পালাবদল বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য একধরনের প্রতীকী পূর্ণতা। আগামী দিনগুলোয় তার সভাপতিত্বে জাতিসংঘ ঠিক কোন দিকে এগোয়, সেদিকে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের নজর থাকবে। এক বছরের এই মেয়াদ শেষে ইতিহাস তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোয় তার সিদ্ধান্তগুলোর ওপরই, আর সেই মূল্যায়নের সঙ্গেই জড়িয়ে থা
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















