০৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডায়ানার আলোচিত ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ উঠছে নিলামে, দাম উঠতে পারে ৩ লাখ ডলার সেপ্টেম্বরের সেই দিন: ২৫ বছর পরও ৯/১১-এর ক্ষত অমলিন নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন, এক মঞ্চে পুতিন-পেজেশকিয়ানের পর মোদির সঙ্গে বসছেন শি জিনপিং বাব এল মান্দেব প্রণালীর কৌশলগত দ্বীপ দখলে হুথিরা, বাড়ছে বিশ্ববাণিজ্যে ঝুঁকি হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা, পুনর্গঠনে ৪.৭৮ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন নেপালের তাইওয়ানে রাশিয়ার সোভিয়েত আমলের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, জাপান-বিরোধী বয়ান নিয়ে নতুন উত্তেজনা ড্রোন হামলার পর দুই দিনের জন্য বন্ধ মিয়ানমারের মান্দালয় বিমানবন্দর তিয়েনআনমেন স্মরণসভার তিন নেতাকে কারাদণ্ড, জরিমানা হংকং অ্যালায়েন্সের মিন অং হ্লাইংকে আতিথেয়তা কম্বোডিয়ার, মানবাধিকার সংস্থার তীব্র নিন্দা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ও মিয়ানমারের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ

মিয়ানমারে টিন খনি চালু হলো জাতিসংঘ তদন্ত প্রত্যাখ্যান করল সরকার

মিয়ানমারের স্বশাসিত ওয়া রাজ্যে দুই হাজার তেইশ সাল থেকে বন্ধ থাকা মানমও টিন খনি ধীরে ধীরে আবার চালু হয়েছে, একই সময়ে মিয়ানমারের সামরিক সরকার জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দুটি ঘটনা একসঙ্গে মিয়ানমারের ভেতরে ক্ষমতা ও বৈধতার লড়াইয়ের ভিন্ন দুটি দিক সামনে আনছে।

ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মি নিয়ন্ত্রিত এই খনি একসময় চীনের টিন আমদানির প্রায় পুরোটাই সরবরাহ করত, তবে ওয়া গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দুই হাজার তেইশ সালে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বন্ধের পেছনে সশস্ত্র সংঘাত নয় বরং ওয়া বংশানুক্রমিক গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই মূল কারণ ছিল। চলতি বছরের প্রথমার্ধেই চীনে মিয়ানমার থেকে টিন আকরিক রপ্তানি প্রায় চল্লিশ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে গেছে, যা গত পুরো বছরের মোট রপ্তানিকেও ছাড়িয়ে গেছে। উপগ্রহ চিত্রে খনি এলাকায় নতুন নির্মাণ ও রাতের আলোকসজ্জা বৃদ্ধির প্রমাণও মিলেছে, যা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়।

একই সপ্তাহে জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের তেষট্টিতম অধিবেশনে মিয়ানমার বিষয়ক স্বতন্ত্র তদন্ত ব্যবস্থার প্রধান তদন্তকারী নিকোলাস কৌমজিয়ান বিমান হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। জবাবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তদন্তকে একতরফা অভিযোগ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। একই সময়ে সামরিক সরকারপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের কম্বোডিয়া সফরের পরিকল্পনার খবরও এসেছে, যা আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে বৈধতা আদায়ের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। জাতিসংঘের তদন্ত ব্যবস্থাটি এমনিতেই অর্থ সংকটে ভুগছে বলে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল, ফলে সামরিক সরকারের এই প্রত্যাখ্যান তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে বলে মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা। মিয়ানমারের সামরিক সরকার এর আগেও একাধিকবার আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে, ফলে এবারের প্রত্যাখ্যানকে অনেকে পুরনো কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন, যেখানে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়া হয়।

মিয়ানমারের ভেতরের এই দুই সমান্তরাল ঘটনাই বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক। টিন খনির মতো সম্পদ আহরণ চালিয়ে যাওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যেমন অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের শক্তিশালী করছে, তেমনি জান্তা সরকারের জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকেও প্রভাবিত করে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামো যত জটিল হচ্ছে, ততই কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রশ্নে কার সঙ্গে আলোচনা করা উচিত, তা নির্ধারণও কঠিন হয়ে উঠছে ঢাকার জন্য। একদিকে অর্থনৈতিকভাবে সংহত হতে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী, অন্যদিকে জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়া কেন্দ্রীয় সামরিক সরকার, এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে কূটনৈতিক অবস্থান ঠিক করাটাই বাংলাদেশের জন্য ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা। কম্বোডিয়ার সঙ্গে মিন অং হ্লাইংয়ের সাম্প্রতিক সখ্য আসিয়ান জোটের অভ্যন্তরেও মিয়ানমার প্রশ্নে মতভেদ কতটা গভীর, তারও একটি ইঙ্গিত বহন করে।

সম্পদ আহরণ আর জবাবদিহি এড়ানো, মিয়ানমারের ভেতরে ক্ষমতার এই দুই মুখই একসঙ্গে দেখিয়ে দেয় দেশটির সংকট কতটা বহুস্তরীয়। আন্তর্জাতিক মহল বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানালেও সংকটের প্রকৃত সমাধান এখনো অধরাই থেকে যাচ্ছে।

মেটা বিবরণ:
কী-ফ্রেজ:

জনপ্রিয় সংবাদ

ডায়ানার আলোচিত ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ উঠছে নিলামে, দাম উঠতে পারে ৩ লাখ ডলার

মিয়ানমারে টিন খনি চালু হলো জাতিসংঘ তদন্ত প্রত্যাখ্যান করল সরকার

০২:৫৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিয়ানমারের স্বশাসিত ওয়া রাজ্যে দুই হাজার তেইশ সাল থেকে বন্ধ থাকা মানমও টিন খনি ধীরে ধীরে আবার চালু হয়েছে, একই সময়ে মিয়ানমারের সামরিক সরকার জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দুটি ঘটনা একসঙ্গে মিয়ানমারের ভেতরে ক্ষমতা ও বৈধতার লড়াইয়ের ভিন্ন দুটি দিক সামনে আনছে।

ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মি নিয়ন্ত্রিত এই খনি একসময় চীনের টিন আমদানির প্রায় পুরোটাই সরবরাহ করত, তবে ওয়া গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দুই হাজার তেইশ সালে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বন্ধের পেছনে সশস্ত্র সংঘাত নয় বরং ওয়া বংশানুক্রমিক গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই মূল কারণ ছিল। চলতি বছরের প্রথমার্ধেই চীনে মিয়ানমার থেকে টিন আকরিক রপ্তানি প্রায় চল্লিশ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে গেছে, যা গত পুরো বছরের মোট রপ্তানিকেও ছাড়িয়ে গেছে। উপগ্রহ চিত্রে খনি এলাকায় নতুন নির্মাণ ও রাতের আলোকসজ্জা বৃদ্ধির প্রমাণও মিলেছে, যা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়।

একই সপ্তাহে জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের তেষট্টিতম অধিবেশনে মিয়ানমার বিষয়ক স্বতন্ত্র তদন্ত ব্যবস্থার প্রধান তদন্তকারী নিকোলাস কৌমজিয়ান বিমান হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। জবাবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তদন্তকে একতরফা অভিযোগ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। একই সময়ে সামরিক সরকারপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের কম্বোডিয়া সফরের পরিকল্পনার খবরও এসেছে, যা আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে বৈধতা আদায়ের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। জাতিসংঘের তদন্ত ব্যবস্থাটি এমনিতেই অর্থ সংকটে ভুগছে বলে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল, ফলে সামরিক সরকারের এই প্রত্যাখ্যান তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে বলে মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা। মিয়ানমারের সামরিক সরকার এর আগেও একাধিকবার আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে, ফলে এবারের প্রত্যাখ্যানকে অনেকে পুরনো কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন, যেখানে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়া হয়।

মিয়ানমারের ভেতরের এই দুই সমান্তরাল ঘটনাই বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক। টিন খনির মতো সম্পদ আহরণ চালিয়ে যাওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যেমন অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের শক্তিশালী করছে, তেমনি জান্তা সরকারের জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকেও প্রভাবিত করে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামো যত জটিল হচ্ছে, ততই কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রশ্নে কার সঙ্গে আলোচনা করা উচিত, তা নির্ধারণও কঠিন হয়ে উঠছে ঢাকার জন্য। একদিকে অর্থনৈতিকভাবে সংহত হতে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী, অন্যদিকে জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়া কেন্দ্রীয় সামরিক সরকার, এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে কূটনৈতিক অবস্থান ঠিক করাটাই বাংলাদেশের জন্য ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা। কম্বোডিয়ার সঙ্গে মিন অং হ্লাইংয়ের সাম্প্রতিক সখ্য আসিয়ান জোটের অভ্যন্তরেও মিয়ানমার প্রশ্নে মতভেদ কতটা গভীর, তারও একটি ইঙ্গিত বহন করে।

সম্পদ আহরণ আর জবাবদিহি এড়ানো, মিয়ানমারের ভেতরে ক্ষমতার এই দুই মুখই একসঙ্গে দেখিয়ে দেয় দেশটির সংকট কতটা বহুস্তরীয়। আন্তর্জাতিক মহল বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানালেও সংকটের প্রকৃত সমাধান এখনো অধরাই থেকে যাচ্ছে।

মেটা বিবরণ:
কী-ফ্রেজ: