০৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্যাক্সনি-আনহাল্টে আফডির বড় জয়, চীনের সঙ্গে জার্মানির নীতিতে কি বদল আসবে? বিশ্বে ক্ষুধা কমাতে গ্রামীণ জনপদে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান সাত বছর পর ভারতে যাচ্ছেন শি, মোদির সঙ্গে বৈঠকে নজর মক্কা চুক্তির অধীনে সামরিক পদক্ষেপ নেই পাকিস্তানের সাফ জবাব পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের একশ দিনে সাফল্য ও বিতর্ক পাশাপাশি যুদ্ধের ছায়ায় রাশিয়া, ভোটের আগে বাড়ছে মানুষের উদ্বেগ ন্যাটোর নজরদারিতে রাশিয়ার গোপন সাবমেরিন মহড়া, লক্ষ্য সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ তার জাপানের এআই স্যাটেলাইটকে ‘গুরুতর হুমকি’ বলল চীন সামরিক যোগাযোগে মাস্কের স্পেসএক্সের ওপর ব্রিটেনের নির্ভরতা বাড়ছে তাইজে তীব্র লড়াই, হুথিদের তিন ড্রোন ভূপাতিত

আকাশ-স্থল-সমুদ্র একসঙ্গে, চীনের ড্রোন যুদ্ধপ্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত

চীনের ড্রোন প্রযুক্তিতে এবার আকাশ, স্থল ও সমুদ্র—তিন ক্ষেত্রের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত যুদ্ধব্যবস্থা তৈরির দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। চীনের ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ বা সিইটিসি এ ধরনের ড্রোন সমন্বয়কে ভবিষ্যৎ যুদ্ধব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছে।

একই নেটওয়ার্কে আকাশ, স্থল ও সমুদ্র

সিইটিসির ভাষ্য অনুযায়ী, একই ধরনের ড্রোনের পরিণত ও সমন্বিত দল গঠন ভবিষ্যতে এমন একটি যুদ্ধ নেটওয়ার্ক তৈরির ভিত্তি হতে পারে, যেখানে আকাশ, স্থল ও সমুদ্রের মানববিহীন বিভিন্ন যন্ত্র পরস্পরের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করে একযোগে কাজ করবে।

এই ধরনের ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট ড্রোনের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে বহু ড্রোনকে একটি সমন্বিত কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। ফলে কোনো একটি যন্ত্র অকার্যকর হয়ে গেলেও পুরো ব্যবস্থার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ঝাঁক প্রযুক্তি

সিইটিসি ড্রোনের ঝাঁক প্রযুক্তিকে একটি বুদ্ধিমান ও বিকেন্দ্রীভূত যুদ্ধব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন মানববিহীন যন্ত্র নিজেদের মধ্যে তথ্য বিনিময় করে পরিস্থিতি অনুযায়ী সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

China surprises the world with its new drone that not only flies in the sky  but also emerges from the water, dives back down, can be launched from  submarines, and targets military

আকাশে উড়ন্ত ড্রোন, স্থলে চলাচলকারী মানববিহীন যান এবং পানিতে বা সমুদ্রে পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় যান একই নেটওয়ার্কের আওতায় এলে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং সামরিক অভিযানে সমন্বয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ভবিষ্যৎ যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে পারে

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আকাশ, স্থল ও সমুদ্রের ড্রোনকে একই ব্যবস্থায় যুক্ত করার প্রযুক্তি পরিণত হলে সামরিক বাহিনীর জন্য দ্রুত তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে মানববিহীন সক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ বাড়তে পারে।

চীনের সামরিক প্রযুক্তিতে ড্রোনের ঝাঁক নিয়ে গবেষণা নতুন নয়। তবে বিভিন্ন পরিবেশে পরিচালিত মানববিহীন যন্ত্রকে একই যুদ্ধ নেটওয়ার্কে যুক্ত করার ধারণা প্রযুক্তিটির পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ ধরনের প্রযুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হবে, তা নির্ভর করবে যোগাযোগব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বায়ত্তশাসিত নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ধরনের ড্রোনের মধ্যে সমন্বয় কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে করা যায় তার ওপর।

চীনের এই অগ্রগতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে একক শক্তিশালী অস্ত্রের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পরস্পর সংযুক্ত মানববিহীন যন্ত্রও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্যাক্সনি-আনহাল্টে আফডির বড় জয়, চীনের সঙ্গে জার্মানির নীতিতে কি বদল আসবে?

আকাশ-স্থল-সমুদ্র একসঙ্গে, চীনের ড্রোন যুদ্ধপ্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত

০৫:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীনের ড্রোন প্রযুক্তিতে এবার আকাশ, স্থল ও সমুদ্র—তিন ক্ষেত্রের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত যুদ্ধব্যবস্থা তৈরির দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। চীনের ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ বা সিইটিসি এ ধরনের ড্রোন সমন্বয়কে ভবিষ্যৎ যুদ্ধব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছে।

একই নেটওয়ার্কে আকাশ, স্থল ও সমুদ্র

সিইটিসির ভাষ্য অনুযায়ী, একই ধরনের ড্রোনের পরিণত ও সমন্বিত দল গঠন ভবিষ্যতে এমন একটি যুদ্ধ নেটওয়ার্ক তৈরির ভিত্তি হতে পারে, যেখানে আকাশ, স্থল ও সমুদ্রের মানববিহীন বিভিন্ন যন্ত্র পরস্পরের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করে একযোগে কাজ করবে।

এই ধরনের ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট ড্রোনের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে বহু ড্রোনকে একটি সমন্বিত কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। ফলে কোনো একটি যন্ত্র অকার্যকর হয়ে গেলেও পুরো ব্যবস্থার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ঝাঁক প্রযুক্তি

সিইটিসি ড্রোনের ঝাঁক প্রযুক্তিকে একটি বুদ্ধিমান ও বিকেন্দ্রীভূত যুদ্ধব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন মানববিহীন যন্ত্র নিজেদের মধ্যে তথ্য বিনিময় করে পরিস্থিতি অনুযায়ী সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

China surprises the world with its new drone that not only flies in the sky  but also emerges from the water, dives back down, can be launched from  submarines, and targets military

আকাশে উড়ন্ত ড্রোন, স্থলে চলাচলকারী মানববিহীন যান এবং পানিতে বা সমুদ্রে পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় যান একই নেটওয়ার্কের আওতায় এলে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং সামরিক অভিযানে সমন্বয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ভবিষ্যৎ যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে পারে

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আকাশ, স্থল ও সমুদ্রের ড্রোনকে একই ব্যবস্থায় যুক্ত করার প্রযুক্তি পরিণত হলে সামরিক বাহিনীর জন্য দ্রুত তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে মানববিহীন সক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ বাড়তে পারে।

চীনের সামরিক প্রযুক্তিতে ড্রোনের ঝাঁক নিয়ে গবেষণা নতুন নয়। তবে বিভিন্ন পরিবেশে পরিচালিত মানববিহীন যন্ত্রকে একই যুদ্ধ নেটওয়ার্কে যুক্ত করার ধারণা প্রযুক্তিটির পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ ধরনের প্রযুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হবে, তা নির্ভর করবে যোগাযোগব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বায়ত্তশাসিত নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ধরনের ড্রোনের মধ্যে সমন্বয় কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে করা যায় তার ওপর।

চীনের এই অগ্রগতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে একক শক্তিশালী অস্ত্রের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পরস্পর সংযুক্ত মানববিহীন যন্ত্রও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।