০৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সামরিক যোগাযোগে মাস্কের স্পেসএক্সের ওপর ব্রিটেনের নির্ভরতা বাড়ছে

A SpaceX Falcon Heavy rocket lifts off carrying NASA's Nancy Grace Roman Space Telescope at the Kennedy Space Center in Cape Canaveral, Florida, U.S., August 30, 2026. REUTERS/Joe Skipper

ব্রিটেন সামরিক যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্সের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়িয়েছে। দেশটি স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগসেবা স্টারশিল্ড ও স্টারলিংকে প্রায় ৪ কোটি ডলার খরচ করেছে। ইউরোপের দেশগুলো যখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, ঠিক সেই সময়েই ব্রিটেনের এই ব্যয় ও নির্ভরতার তথ্য সামনে এলো।

তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা এক আবেদনের জবাবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এসব তথ্য দিয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ব্রিটেনই প্রথম দেশ হিসেবে প্রকাশ্যে স্বীকার করল যে তারা স্পেসএক্সের সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য তৈরি স্টারশিল্ড ব্যবহার করছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার স্টারশিল্ড টার্মিনাল এবং ৫০০ স্টারলিংক টার্মিনাল রয়েছে। স্টারশিল্ডের টার্মিনাল ও ব্যবহারের খরচসহ ব্রিটেন এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড বা ১ কোটি ৭৬ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। অন্যদিকে, স্টারলিংকের পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ পাউন্ড।

ব্রিটেন ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে স্টারলিংক ব্যবহার শুরু করে। পরে সামরিক যোগাযোগের কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্টারশিল্ডে স্থানান্তর করা শুরু হয়। রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সাল থেকে ব্রিটেন বিদ্যমান স্টারলিংক টার্মিনাল ব্যবহার করেই স্টারশিল্ডের সেবা নেওয়া শুরু করে। গত বছর তারা প্রথমবারের মতো নিজেদের জন্য আলাদা স্টারশিল্ড টার্মিনাল কেনে।

স্টারলিংক মূলত সাধারণ ভোক্তা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য বাজারজাত করা হলেও স্টারশিল্ড তৈরি করা হয়েছে সরকার, সামরিক বাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত গ্রাহকদের জন্য। স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্কও বারবার বলেছেন, সামরিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্টারশিল্ডই বেশি উপযোগী।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্পেসএক্স স্টারলিংক ব্যবহারের ক্ষেত্র সীমিত করে দেওয়ার পর তারা স্টারশিল্ড গ্রহণ করে। স্টারলিংককে কেবল মনোবল বৃদ্ধি, কল্যাণ, বিনোদন ও প্রশিক্ষণের মতো কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর পর সামরিক যোগাযোগের জন্য স্টারশিল্ড ব্যবহারের দিকে যায় ব্রিটেন।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টারশিল্ডে উন্নত এনক্রিপশন বা তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক ব্যবহারের উপযোগী চুক্তির শর্ত, নেটওয়ার্কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং আরও নমনীয় লাইসেন্স সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি এর আওতাও তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত।

ব্রিটেনে ব্যবহৃত স্টারশিল্ড মূলত স্টারলিংকের একই স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক, গ্রাউন্ড স্টেশন ও স্থলভিত্তিক অবকাঠামো ব্যবহার করে। তবে স্টারশিল্ডের জন্য আলাদা টার্মিনাল এবং পৃথক স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক গেটওয়ে রয়েছে। ফলে সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে তুলনামূলকভাবে আলাদা কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।

তবে স্টারশিল্ডের খরচ স্টারলিংকের তুলনায় অনেক বেশি। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা মূল্যতথ্য অনুযায়ী, ব্রিটেনে স্টারশিল্ডের দুটি পরিকল্পনা রয়েছে। ৫ টেরাবাইট ডেটার জন্য মাসিক খরচ ৫ হাজার ৫০০ পাউন্ড। আর সীমাহীন ডেটা ব্যবহারের পরিকল্পনার জন্য মাসে দিতে হয় ২৫ হাজার পাউন্ড।

তুলনায় ব্রিটেনে স্টারলিংকের ব্যবসায়িক গ্রাহকেরা মাসে প্রায় ১ হাজার ৮৩০ পাউন্ডে ২ টেরাবাইট বৈশ্বিক ডেটা ব্যবহার করতে পারেন। এর বাইরে কম ডেটা বা সীমিত ভৌগোলিক কাভারেজের জন্য আরও কম দামের পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্টারশিল্ডের প্রতিটি টার্মিনালের দামও ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার পাউন্ডের মধ্যে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। এই দাম ব্যবসায়িক পর্যায়ের স্টারলিংক টার্মিনালের বিজ্ঞাপিত মূল্যের অন্তত দ্বিগুণ।UK deepens reliance on Musk's SpaceX, spending nearly $40 million on  satellite services | MarketScreener Hong Kong

ইউক্রেনে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর সামরিক বাহিনীর মধ্যে স্টারলিংকের ব্যবহার দ্রুত বাড়ে। যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ রক্ষা, ড্রোন পরিচালনা এবং অন্যান্য সামরিক কার্যক্রমে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর ফলে সামরিক যোগাযোগে বেসরকারি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের গুরুত্বও নতুন করে সামনে আসে।

এদিকে, স্টারশিল্ড নিয়ে শুধু ব্রিটেন নয়, যুক্তরাষ্ট্রের আরও কিছু অংশীদার দেশও আগ্রহ দেখাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা সামরিক কার্যক্রমে স্টারশিল্ডের কার্যকারিতা যাচাই করতে এটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করছে।

স্টারশিল্ড মূলত স্টারলিংক প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্পেসএক্স যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জন্য আলাদা স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কও তৈরি করে। কোম্পানির সর্বশেষ ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্টারশিল্ডের জন্য বহু বছরের চুক্তিতে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি বরাদ্দ দিয়েছে। এসব চুক্তির বড় অংশ নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরির দুটি বড় মার্কিন মহাকাশবাহিনী কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত।

স্পেসএক্স ২০২০ সালে স্টারলিংক চালু করার পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। বর্তমানে স্টারলিংক কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় আয়ের উৎসগুলোর একটি। ব্যবসাটির দ্রুত সম্প্রসারণ স্পেসএক্সের সাম্প্রতিক শেয়ারবাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে ব্রিটেনের জন্য এই নির্ভরতা একই সঙ্গে সুবিধা ও কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একদিকে দ্রুত ও তুলনামূলকভাবে উন্নত স্যাটেলাইট যোগাযোগ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একটি মার্কিন বেসরকারি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা ভবিষ্যতে নীতিগত ও নিরাপত্তাজনিত প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে ইউরোপ যখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে, তখন ব্রিটেনের স্পেসএক্সনির্ভরতা বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

ব্রিটেনের নিজস্ব সামরিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা ‘স্কাইনেট’ রয়েছে। একই সঙ্গে ফ্রান্সভিত্তিক ইউটেলস্যাটেরও অংশীদার ব্রিটেন। ইউটেলস্যাট বর্তমানে স্টারলিংকের বাইরে কার্যকর থাকা বড় নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথের ব্রডব্যান্ড স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কগুলোর একটি পরিচালনা করে।

ফলে ব্রিটেনের সামনে একদিকে স্পেসএক্সের উন্নত ও দ্রুত সম্প্রসারিত প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, অন্যদিকে নিজেদের ও ইউরোপীয় স্যাটেলাইট যোগাযোগ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনও রয়েছে। সামরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এই দুই পথের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই ব্রিটেনের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সামরিক যোগাযোগে মাস্কের স্পেসএক্সের ওপর ব্রিটেনের নির্ভরতা বাড়ছে

০৭:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রিটেন সামরিক যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্সের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়িয়েছে। দেশটি স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগসেবা স্টারশিল্ড ও স্টারলিংকে প্রায় ৪ কোটি ডলার খরচ করেছে। ইউরোপের দেশগুলো যখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, ঠিক সেই সময়েই ব্রিটেনের এই ব্যয় ও নির্ভরতার তথ্য সামনে এলো।

তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা এক আবেদনের জবাবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এসব তথ্য দিয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ব্রিটেনই প্রথম দেশ হিসেবে প্রকাশ্যে স্বীকার করল যে তারা স্পেসএক্সের সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য তৈরি স্টারশিল্ড ব্যবহার করছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার স্টারশিল্ড টার্মিনাল এবং ৫০০ স্টারলিংক টার্মিনাল রয়েছে। স্টারশিল্ডের টার্মিনাল ও ব্যবহারের খরচসহ ব্রিটেন এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড বা ১ কোটি ৭৬ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। অন্যদিকে, স্টারলিংকের পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ পাউন্ড।

ব্রিটেন ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে স্টারলিংক ব্যবহার শুরু করে। পরে সামরিক যোগাযোগের কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্টারশিল্ডে স্থানান্তর করা শুরু হয়। রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সাল থেকে ব্রিটেন বিদ্যমান স্টারলিংক টার্মিনাল ব্যবহার করেই স্টারশিল্ডের সেবা নেওয়া শুরু করে। গত বছর তারা প্রথমবারের মতো নিজেদের জন্য আলাদা স্টারশিল্ড টার্মিনাল কেনে।

স্টারলিংক মূলত সাধারণ ভোক্তা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য বাজারজাত করা হলেও স্টারশিল্ড তৈরি করা হয়েছে সরকার, সামরিক বাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত গ্রাহকদের জন্য। স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্কও বারবার বলেছেন, সামরিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্টারশিল্ডই বেশি উপযোগী।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্পেসএক্স স্টারলিংক ব্যবহারের ক্ষেত্র সীমিত করে দেওয়ার পর তারা স্টারশিল্ড গ্রহণ করে। স্টারলিংককে কেবল মনোবল বৃদ্ধি, কল্যাণ, বিনোদন ও প্রশিক্ষণের মতো কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর পর সামরিক যোগাযোগের জন্য স্টারশিল্ড ব্যবহারের দিকে যায় ব্রিটেন।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টারশিল্ডে উন্নত এনক্রিপশন বা তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক ব্যবহারের উপযোগী চুক্তির শর্ত, নেটওয়ার্কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং আরও নমনীয় লাইসেন্স সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি এর আওতাও তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত।

ব্রিটেনে ব্যবহৃত স্টারশিল্ড মূলত স্টারলিংকের একই স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক, গ্রাউন্ড স্টেশন ও স্থলভিত্তিক অবকাঠামো ব্যবহার করে। তবে স্টারশিল্ডের জন্য আলাদা টার্মিনাল এবং পৃথক স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক গেটওয়ে রয়েছে। ফলে সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে তুলনামূলকভাবে আলাদা কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।

তবে স্টারশিল্ডের খরচ স্টারলিংকের তুলনায় অনেক বেশি। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা মূল্যতথ্য অনুযায়ী, ব্রিটেনে স্টারশিল্ডের দুটি পরিকল্পনা রয়েছে। ৫ টেরাবাইট ডেটার জন্য মাসিক খরচ ৫ হাজার ৫০০ পাউন্ড। আর সীমাহীন ডেটা ব্যবহারের পরিকল্পনার জন্য মাসে দিতে হয় ২৫ হাজার পাউন্ড।

তুলনায় ব্রিটেনে স্টারলিংকের ব্যবসায়িক গ্রাহকেরা মাসে প্রায় ১ হাজার ৮৩০ পাউন্ডে ২ টেরাবাইট বৈশ্বিক ডেটা ব্যবহার করতে পারেন। এর বাইরে কম ডেটা বা সীমিত ভৌগোলিক কাভারেজের জন্য আরও কম দামের পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্টারশিল্ডের প্রতিটি টার্মিনালের দামও ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার পাউন্ডের মধ্যে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। এই দাম ব্যবসায়িক পর্যায়ের স্টারলিংক টার্মিনালের বিজ্ঞাপিত মূল্যের অন্তত দ্বিগুণ।UK deepens reliance on Musk's SpaceX, spending nearly $40 million on  satellite services | MarketScreener Hong Kong

ইউক্রেনে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর সামরিক বাহিনীর মধ্যে স্টারলিংকের ব্যবহার দ্রুত বাড়ে। যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ রক্ষা, ড্রোন পরিচালনা এবং অন্যান্য সামরিক কার্যক্রমে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর ফলে সামরিক যোগাযোগে বেসরকারি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের গুরুত্বও নতুন করে সামনে আসে।

এদিকে, স্টারশিল্ড নিয়ে শুধু ব্রিটেন নয়, যুক্তরাষ্ট্রের আরও কিছু অংশীদার দেশও আগ্রহ দেখাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা সামরিক কার্যক্রমে স্টারশিল্ডের কার্যকারিতা যাচাই করতে এটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করছে।

স্টারশিল্ড মূলত স্টারলিংক প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্পেসএক্স যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জন্য আলাদা স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কও তৈরি করে। কোম্পানির সর্বশেষ ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্টারশিল্ডের জন্য বহু বছরের চুক্তিতে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি বরাদ্দ দিয়েছে। এসব চুক্তির বড় অংশ নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরির দুটি বড় মার্কিন মহাকাশবাহিনী কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত।

স্পেসএক্স ২০২০ সালে স্টারলিংক চালু করার পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। বর্তমানে স্টারলিংক কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় আয়ের উৎসগুলোর একটি। ব্যবসাটির দ্রুত সম্প্রসারণ স্পেসএক্সের সাম্প্রতিক শেয়ারবাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে ব্রিটেনের জন্য এই নির্ভরতা একই সঙ্গে সুবিধা ও কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একদিকে দ্রুত ও তুলনামূলকভাবে উন্নত স্যাটেলাইট যোগাযোগ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একটি মার্কিন বেসরকারি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা ভবিষ্যতে নীতিগত ও নিরাপত্তাজনিত প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে ইউরোপ যখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে, তখন ব্রিটেনের স্পেসএক্সনির্ভরতা বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

ব্রিটেনের নিজস্ব সামরিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা ‘স্কাইনেট’ রয়েছে। একই সঙ্গে ফ্রান্সভিত্তিক ইউটেলস্যাটেরও অংশীদার ব্রিটেন। ইউটেলস্যাট বর্তমানে স্টারলিংকের বাইরে কার্যকর থাকা বড় নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথের ব্রডব্যান্ড স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কগুলোর একটি পরিচালনা করে।

ফলে ব্রিটেনের সামনে একদিকে স্পেসএক্সের উন্নত ও দ্রুত সম্প্রসারিত প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, অন্যদিকে নিজেদের ও ইউরোপীয় স্যাটেলাইট যোগাযোগ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনও রয়েছে। সামরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এই দুই পথের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই ব্রিটেনের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।