সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি স্থাপনায় ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর পাকিস্তান স্পষ্ট করেছে যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এখনই কোনো সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে না। গত সাত আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। সেপ্টেম্বরের আট থেকে দশ তারিখের মধ্যে হুথিরা কিং খালিদ বিমানঘাঁটিসহ একাধিক সৌদি স্থাপনায় হামলা চালায়, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দ্বিতীয় ফ্রন্ট খোলার শঙ্কা তৈরি করেছে। এই হামলার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে, যা তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান সাংবাদিকদের বলেন, এই মুহূর্তে এমন কিছু আলোচনার টেবিলে নেই এবং সময় এলে চুক্তি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, মক্কা চুক্তির সদস্য সংখ্যা সম্প্রসারণেরও কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামাবাদ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা তাৎক্ষণিক সামরিক জড়িত হওয়া এড়িয়ে কূটনৈতিক পথে সংকট মোকাবিলা করতে চায়। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজন হলে যথাযথ সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন, যা পাকিস্তানের অবস্থানে একধরনের
একইসঙ্গে পাকিস্তান হুথিদের প্রধান মিত্র ইরানকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং হামলার নিন্দা জানিয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়ার রূপরেখা দেয়নি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পাকিস্তান একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন কর
দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য এই ঘটনাপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাকিস্তান কোনো বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব গোটা অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে পড়তে পারে। বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতি
প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্ত সক্রিয় না করেও পাকিস্তান যেভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, তা প্রমাণ করে দেশটি এই মুহূর্তে সরাসরি সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক প্রজ্ঞাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে হুথি হামলা অব্যাহত থাকলে এই অবস্থান কতদিন বজায় রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হলে ইসলামাবাদের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Sarakhon Report 


















