যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সাম্প্রতিক দুর্বল তথ্যের পর অক্টোবরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াবে, এমন প্রত্যাশা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ বেড়েছে এবং সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
সোমবার ১টা ৫০ মিনিট জিএমটিতে স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৮.১৭ ডলারে দাঁড়ায়। ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দামও ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৬.৪০ ডলারে পৌঁছায়।
শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে। একই সঙ্গে এর আগের দুই মাসের কর্মসংস্থানের হিসাবও বড় ধরনের সংশোধন করে কমানো হয়েছে। শ্রমবাজারের এই দুর্বলতা ফেডের অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে আরও কমিয়ে দিয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, দুর্বল শ্রমবাজারের তথ্য অক্টোবরে ফেডের সুদ বাড়ানোর প্রত্যাশা কমিয়েছে, যা সোনার বাজারকে কিছুটা সমর্থন দিচ্ছে। তবে অক্টোবর মাসে সুদ বাড়ানো না হলেও বাজার এখনো ফেডের সামগ্রিক সুদ বাড়ানোর ধারাকে বহাল আছে বলেই বিবেচনা করছে।
বাজারের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন মাত্র ২২ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগেও এই সম্ভাবনা ছিল ৬৪ শতাংশ। তবে ডিসেম্বরে সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা এখনো বেশ শক্তিশালী, বাজারে এর সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সুদের হার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নিয়ে যায়। তিন বছরের মধ্যে সেটিই ছিল ফেডের প্রথম সুদ বৃদ্ধি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও সোনার বাজারে প্রভাব ফেলছে। রোববার সৌদি আরব-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সব এলাকা পুনর্দখলের লক্ষ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা সোনার বাজারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে এর প্রভাব যদি জ্বালানি তেলের দাম ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর পড়ে। তেল, বন্ডের সুদ এবং ফেডের নীতির প্রত্যাশায় পরিবর্তন অব্যাহত থাকলে বাজারে অস্থিরতাও বেশি থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা থাকলেও সোমবার তেলের দাম কিছুটা কমেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাড়া এবং জি৭ দেশগুলোর তেল মজুত থেকে সরবরাহ বাড়ানোর ফলে বাজারে জোগান বেড়েছে। একই সময়ে ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল অবকাঠামোর আরও ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট রুপার দাম ১.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬১.৪০ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০৮.৪৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৭৫.০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।












