একাত্তর সালের দুর্গাপূজা অক্টোবরেই হয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশ নামক এই বন্দী শিবিরে যে হিন্দুরা ছিল, তারা কীভাবে পূজা করেছিল, ঠিক জানি না। তবে ভারতের শরণার্থী শিবিরে হাঁটতে হাঁটতে আশেপাশে অনেক মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি হতে দেখতাম। শিল্পীর নিপুণ কাজে চোখ আটকে যায় ঠিকই, তবে তার থেকে বেশি চোখ আটকে যেত ক্যালেন্ডার ও ছবি বিক্রয়ের দোকানে বা পথের পাশে কোথাও ইন্দিরা গান্ধীর ছবিটি দেখলে।
দেবী দুর্গা বাস্তবে কৃষিসভ্যতার কালের গ্রামের স্বামীগৃহের এক সংসারী মেয়ের প্রতিচ্ছবি। যাকে দশ হাতে সংসার সামলাতে হয়। বাঙালি তার ওপর দেবত্ব আরোপ করে তাকে যেমন দেবীও তৈরি করেছে, তেমনি তাকে আদরের ঘরের মেয়ে ও মা হিসেবেও আপন আঙিনায় রেখেছে। এটাই বাঙালির বিশেষত্ব। সবার ওপরে বাঙালি সহজিয়া। ধর্ম মাঝে মাঝে তাকে বাধে, তাই সে যে ধর্মই হোক। খুব বেশি দিন শক্ত ধর্মের রশিতে বাঙালিকে রাখা যায় না। সে তার নিজ জীবনাচরণে, নিজ বাস্তবতায় ফিরে আসে।
একাত্তরে শরণার্থী শিবিরের বাস্তবতায় দেবী দুর্গার থেকে অনেক বেশি প্রয়োজনীয় ও বাস্তবতা ছিল ইন্দিরা গান্ধী। তাঁর ছবিই তখন ভালো লাগত। দুর্গা বাস্তবে অসুর বধ করতে পারে কি পারে না, তা নিয়ে চিন্তারও সময় ছিল না। বরং ইন্দিরা গান্ধীর ছবি দেখলে মনটা কেমন যেন একটা নতুন আশায় বুক বাঁধত, মনে হতো তিনি শীঘ্রই যুদ্ধ শুরু করবেন বাঙালির মুক্তির জন্য।
বৃহৎ শক্তি আমেরিকা শুধু নয়, ওই অর্থে কোনো দেশই কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সহায়তা করেনি। তবে আমেরিকা থেকে শুরু করে সারা পৃথিবীর মানুষ, এমনকি পাকিস্তানের জনগণের একটি অংশও বাঙালির মুক্তির পক্ষে ছিল। আর এই সকল মানুষের নেতা হিসেবে তখন ইন্দিরা গান্ধীই হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিদাত্রী হিসেবে। যা শিল্পী হুসেনের ছবিতে ইন্দিরা গান্ধীর গর্ভাশয় থেকে বাংলাদেশের ম্যাপ বেরিয়ে আসার ভেতর দিয়ে ফুটে উঠেছে।
বাস্তবে মানুষের প্রয়োজনই বড়। প্রয়োজনেই সূর্য, আকাশ, সাগর, সাগরের বড় সাপ সবই দেবতা হয়েছে। এবারের এই পূজায় আমরা ইউনূস-সৃষ্ট বন্দী শিবির থেকে ইউনূস-২-তে। এবারের পূজায় হাজার হাজার বিজিবি নামানো হয়েছে। জামায়াত-বিএনপির কর্মীরা পূজামণ্ডপ পাহারা দিয়ে চলেছে।

এবারের পূজা নিয়ে দেবাশিষ রঞ্জন সরকার নামে একজন তাঁর ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, “বনানীতে প্রতিবারের মতো পার্ক ভাড়া নিয়ে নাকি সেই পূজা হচ্ছে। ব্যাপক বিজ্ঞাপন। আচ্ছা, পূজায় পূজাটা হয়তো”।
এই স্ট্যাটাসের নিচে অনেক কমেন্টস, তার একটা লিখেছেন সুবর্ণ বর্মা, “এক মণ্ডপে শুনি, ঢাকের তালে ‘প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ’ বাজাচ্ছে”। উল্লেখ্য, ‘প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ’ ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ হোক আর না হোক, এটা বিএনপির অঘোষিত দলীয় সংগীত।
সুবর্ণ বর্মার এই মন্তব্যের উত্তরে দেবাশীষ রঞ্জন সরকার লিখেছেন, “সুবর্ণ বর্মা, যে সিজনে যেটা চলে আর কি। সব মন্দিরই তো দলবাজদের আখড়া”।
অবশ্য পূজার আগে বিএনপি নেতা রুহুল কবীর রিজভী ঘোষণা দিয়েছিলেন, সব মন্দির বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতারা কঠোরভাবে পাহারা দেবেন।
এমনিতে রাজনৈতিক কর্মীদের সুনাম দীর্ঘদিন ধরেই খুব ভালো নয়। এছাড়া বাংলাদেশে ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যাদেরকে মানুষ দেখতে পাচ্ছে, বাস্তবে তারা রাজনৈতিক কর্মী হলে, মব গ্যাং বা চাঁদাবাজ রাজনৈতিক কর্মীর সিনোনিমস হবে। আর তারা যখন মন্দির পাহারায় নিয়োজিত, তখন মা-বোনদের পূজা-অর্চনার অবস্থা কী, তা বুঝতে বাকি থাকে না।
দেবাশীষ রঞ্জন সরকারের ফেসবুক স্ট্যাটাসের নিচে সুদেব সোম নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “প্রায় প্রতিটি মন্দিরে পূজাটা তামসায় রূপ নিয়েছে। মাদারবোর্ড (শব্দটির ঠিক অর্থ বুঝতে পারলাম না) সনাতনী ধর্মীয় লিডার এবং সরকারি ও বিরোধী দলের পাণ্ডাদের আস্ফালন দেখে ঘেন্না লাগে। পাক-পবিত্র না হয়ে নতুন নতুন নেতারা পূজা চলাকালে ব্রাহ্মণের গায়ের পাশে বসে পড়ে”।
এবারের পূজা যে এমন হবে, তা আমি না বুঝলেও যারা নানা জায়গায় চলাফেরা করে, তারা আগেই বুঝতে পেরেছিল। যেমন আমাকে যে ফিজিওথেরাপি করায়, সে বাংলাদেশের সেরা ফিজিওথেরাপি কলেজ সিআরপি থেকে খুব ভালো স্কোর করে গ্র্যাজুয়েশন করেছে বছর দশেক আগে। শিক্ষকতার চাকরির অফার ত্যাগ করে ফ্রিল্যান্স করে। যশোরে ওর বাড়ি। যশোর আর নদীয়া কাছাকাছিই ছিল। এ কারণে স্বভাবতই সে বৈষ্ণব, অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের অনুরাগী। তবে এই পলিমাটির পূর্ববাংলায় যা ঘটে আর কি, এখানে বৌদ্ধরা মাছ খায় বেশি, তেমনি কৃষ্ণভক্ত হলেও তার বাড়িতে ঠিকই শক্তির কালীপূজা ও দুর্গাপূজা সবই হয়।
এবার দেখি, মহালয়ার দিন সকালে সে আমাকে ফিজিওথেরাপি করানোর জন্য চলে এসেছে। মনে করলাম, এখন দিনকাল বদলে গেছে, মহালয়ার আর আগের গুরুত্ব নেই। কিন্তু অবাক হলাম পঞ্চমীর দিন সকালে তাকে দেখে। বাধ্য হয়েই বললাম, কী, তোমার পূজা নেই?

তার নির্লিপ্ত গলার উচ্চারণ, “আর স্যার, পূজা। পূজা কি আর আগের মতো আছে?” তার ওই “আগের” উচ্চারণের মধ্যে রিকশাওয়ালা, সবজি বিক্রেতা, সিএনজি চালক, ফুটপাতের ফল বিক্রেতা (যাদের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই কথা হয়) তাদের সেই “স্যার, আগেই ভালো ছিলাম”—এর “আগেই” উচ্চারণের একই হতাশার টানটা পেলাম। মনে পড়ে গেল নিজের জীবনের সেই প্রথম হতাশার সময়, যখন শরণার্থী শিবিরে দুর্গার প্রতিমার থেকে ভালো লাগত ও আশা জাগাত, ইন্দিরা গান্ধীর ছবি দেখলে। এদেরও হয়তো দুর্গার ছবির থেকে আরেকটি ছবিকে প্রকৃত দুর্গা মনে হচ্ছে এ বছর। আসলে কোন ছবি যে কখন দশভুজা হয়, তা তো কেউ বলতে পারে না।
এরপরে সে আমাকে থেরাপি করাতে করাতে বলল, স্যার, আপনার কয়েকটি লেখায় আপনাদের বাড়ির এক সময়ের দুর্গাপূজার কথা পড়েছি। তবে তা এই অকালবোধনের দুর্গা নয়, বসন্তের দুর্গা বাসন্তীকে নিয়ে। বাসন্তীপূজা তো ডিসেম্বরের পরেই হয়।
তারা কথার গতি ভিন্ন দিকে যাচ্ছে দেখেই আমি তাড়াতাড়ি প্রসঙ্গ পাল্টে বললাম, দেখ, আমি রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র ছিলাম, সেখানে কিন্তু মূল দুর্গা জগদ্ধাত্রী। তেমনি হয়তো আমাদের পূর্বপুরুষরা বাসন্তীকেই অমন কিছু মনে করত।
না, কথা ভিন্ন দিকে নিয়েও তাকে থামাতে পারলাম না। সে সরাসরি আমাকে বলে, স্যার, একটা বছর পূজাটা বন্ধ রাখলে কী হতো? চিন্ময় প্রভুকে জেলে রেখে এই পূজা করার কোনো অর্থ আছে?
তাকে বোঝানোর জন্য খুবই নিম্ন স্বরে বললাম, দেখো, পূজায় সাধারণ মানুষ একটু আনন্দ করবে, সেখানে রাজনীতি ঢোকানো উচিত নয়। তার উত্তর এমন ছিল, রাজনীতি তো করছে হিন্দু নেতারা। ইন্ডিয়া বিএনপিকে সমর্থন করেছে বলে তারা চিন্ময় প্রভুর বিষয়টি কোনোমতে বলেই পূজায় নেমে পড়েছে। এসব হিন্দু নেতাদের ইন্ডিয়াতে বাড়ি আছে। স্যার, আমরা একাত্তর সালেও ইন্ডিয়ায় যাইনি। এখানেই ছিলাম।
ওকে কথা বলা থেকে নিবৃত করার চেষ্টা করার জন্য দীর্ঘশ্বাস নিতে থাকি। আর মনে মনে ভাবি, বেশ কয়েক মাস আগে হেলথ ক্লাবে প্রথম আলোর সম্পাদক মতি ভাই আমাকে হঠাৎ প্রশ্ন করেন, ইন্ডিয়া শেষ অবধি এই নীতিতে থাকবে তো? হেসে উত্তর দিই, ওদের সঙ্গে তো আপনারই যোগাযোগ বেশি। আপনিই ভালো বলতে পারবেন।
তারপরও তিনি আমার মতামত জানতে চান। আমি বলি, ইন্ডিয়ার নীতির খবর জানার সুযোগ আমার নেই। তবে শেখ হাসিনার সরকার পড়ে গিয়ে তো ওদের কিছু লাভ হয়েছে, যেমন যে-ই ঘটাক না কেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে তো আর “দীপু দাস”-এর ঘটনা ঘটাতে পারত না। আর দীপু দাসের ঘটনায় তো পশ্চিমবঙ্গের ভোটে বিজেপির লাভ হয়েছে। তাছাড়া, এই যে ভোটের আগে এসআইআরের মাধ্যমে প্রচুর মুসলিম ভোটারের নাম বাদ পড়ল সেখানে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে তো বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে মৌলভিরা মিছিল করত—তারেক রহমান ক্ষমতায় থাকায় সেটা তো ঘটেনি। মতি ভাই প্রসঙ্গ বদলে দিলেন।
হেলথ ক্লাবে তখন আমার পাশে বসা একজন আইনজীবী ও গায়ক বললেন, দাদা, এবার হিন্দুরা বিএনপিকে কী পরিমাণ ভোট দিয়েছে বলে আপনি মনে করেন? ভদ্রলোকের দরাজ গলার আমি খুব ভক্ত। তাই সম্পর্কটাও অন্য রকম। তাকে বলি, দেখুন, ঠাকুরগাঁর রমেশচন্দ্র সেন সৎ রাজনীতিক। তাঁর গ্রেপ্তার হওয়া ও অস্বাভাবিক মৃত্যু সবই আপনি-আমি জানি। তার পরেও তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে হিন্দু নেতারা গিয়েছিলেন, বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সুপারিশ করতে। ভদ্রলোক বললেন, কেন এমন ঘটল?
হেসে বলি, ঐতিহাসিকভাবে ভারত আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র। তাই এখানে ঐতিহাসিক কারণেই তাদের বন্ধু আছে। আর ঐতিহাসিক কারণে না হোক, স্বার্থের কারণে আমাদের মতো দেশে অনেক দেশের দালাল থাকে। আর কোন দেশ কখন দালালদের ব্যবহার করবে আর কখন বন্ধুদের পরামর্শ নেবে, সেটা তাদের বিষয়। তবে বাস্তবতা হলো, জিএম কাদের হিসাব করে দেখিয়ে দিয়েছেন, এবার ১২ থেকে ১৪ পারসেন্টের বেশি ভোটার কেন্দ্রে যায়নি। আপনি ও আমি দুজনেই কখনও অঙ্কে খারাপ ছিলাম না। বাংলা রিডিং পড়তেও পারি। তাই জিএম কাদেরের লেখা পড়ে তাঁর হিসাবটাকে একটু বাড়িয়ে নিয়ে আমরাও হিসাব করতে পারি, মোট জনসংখ্যার ৭.৮৯% হিন্দু। তাই মোট কাস্টিং ভোট ১২ থেকে ১৪ হলে, ৭.৮৯% ভোট থেকে কত ভোট কাস্ট হতে পারে? ভদ্রলোক আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে জাকুজিতে বসে দরাজ গলায় “মা তো বদনখানি মলিন হলে আমি নয়ন—ওমা, আমি নয়নজলে ভাসি” গেয়ে উঠলেন। তারপরে দুজনে একসঙ্গে ম্লান হাসির রেখা ঠোঁটে এনে একটা গভীর নিশ্চুপতায় ডুবে যাই।
ফিজিওথেরাপি নিতে নিতে নীরবে যখন কয়েক মাস আগের হেলথ ক্লাবের এই কথাগুলো মনে করছিলাম, তখন ফিজিওথেরাপিস্ট ছেলেটি আবার নীরবতা ভেঙে বলল, স্যার, চিন্ময় প্রভুকে মুক্তি দেবে না?

ছেলেটি বড় সরল, তাকে কীভাবে বোঝাই, পৃথিবীতে কেউ কাউকে মুক্তি দেয় না। যার মুক্তি, তার নিজেকে অর্জন করতে হয়। আর চিন্ময় একটি কঠিন পথ বেছে নিয়েছে। যেখানে পলায়ন নেই। ১৯৪৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশের হিন্দুদের জীবনদর্শন মানেই পলায়ন। কিন্তু ২০০৯ থেকে ২০২৪ অবধি বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি তরুণ প্রজন্ম হয়েছে, যারা সংখ্যালঘু নয়, সমমর্যাদার নাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠেছে। তাছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির কারণে বিশ্ব উন্মুক্ত হওয়ায় তারা এও বুঝতে শিখেছে—পৃথিবীর সব দেশে ধর্মীয় মাইনরিটি আছে। তবে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল যদি সেক্যুলার হয়, তাহলে সে আর তখন মাইনরিটি থাকে না। যোগ্যতা অনুযায়ী তার স্থান সে খুঁজে নিতে পারে।
অবশ্য বাংলাদেশে এই সময়টার সুযোগ নিয়ে কিছু বয়স্ক মাইনরিটি ব্যক্তি অনেক ভুল করেছেন। কিন্তু তরুণ মাইনরিটিরা তাদের নিজ দেশকে ভালোবাসতে শিখেছে। হ্যাঁ, এ জন্য তাদেরকে এবং সেক্যুলার সরকারকে কিছু বাড়তি কথা শুনতে হয়েছে। বলা হয়েছে মাইনরিটি তোষণ করা হচ্ছে। সব জায়গা হিন্দুরা দখল করে নিয়েছে—এমন অপপ্রচারও হতো।
সেক্যুলাররা ক্ষমতায় থাকলে এটা হয়। ইরাকের বাথ পার্টি ক্ষমতায় থাকতে, সিরিয়ায় আসাদ ক্ষমতায় থাকতে খ্রিষ্টানদের বেশি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বা তোষণ করা হচ্ছে বলা হতো। বাস্তবে সেক্যুলারিজম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটু বাড়তি পক্ষপাত সব সময়ই মাইনরিটির প্রতি রাখতে হয়। কারণ, চারপাশের কিছু অমানুষের কারণে সব দেশে মাইনরিটিদের কেউ কেউ মানসিকভাবে একটু ভীতু হয়—সেক্যুলার স্টেট বা ব্যক্তিদের দায়িত্বই পড়ে একটু বাড়তি মানসিক জোর দিয়ে তাদের ওই ভুল গণ্ডি থেকে বের করে আনা। এটা সবচেয়ে বুঝিয়ে বলতেন, রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ।
যাহোক, বাংলাদেশে মাইনরিটিদের মধ্যে সেই সাহসী তরুণ প্রজন্ম তৈরি হয়েছে। যারা নজরুলে বিশ্বাস করে, তাদের বোধের গভীরে সাহস হিসেবে লেখা—“মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে।” আর এই তরুণদের নেতৃত্ব দিচ্ছে চিন্ময় প্রভু। তাই তাকে কারাগারে রাখার ফলে যে গোটা পূজা কারাগারে চলে গেছে—কোনো সুবিধাবাদীরা তা ঠেকাতে পারেনি। এটাই সত্য এবং এটাই দেশপ্রেমের জয়।
দুর্গাপূজার অকালবোধনের নিয়ম পাঁচ হাজারেরও বেশি বছরের পুরোনো বলে বলা হয়। আর অকালবোধন যখন একবার করা যায়, তখন বারবারও করা যায়। চিন্ময় মুক্ত পরিবেশে নতুন প্রজন্ম ঘেরা এক সকালে না হয় আরেকটি অকালবোধন হোক।
দুর্গা তো আমাদের গ্রামেরই মেয়ে। নদীর কূলে, উন্মুক্ত মাঠেই ছোটাছুটিতেই বেড়ে ওঠে সে একদিন দশভুজা হয়েছে। অসুর বধের ত্রিশূলধারিণী শুধু নয়, তার ত্রিশূলে অজ্ঞতা দূর ও শান্তি প্রতিষ্ঠার শক্তিও ধারণ করেছে।
লেখক: সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক, সম্পাদক, সারাক্ষণ, The Present World.
স্বদেশ রায়ের আরও লেখা
জিএম কাদেরের বাসা আক্রমণ করার আগে তো আইএমএফের সদর দপ্তর আক্রমণ করতে হয়
সাংবাদিক আমীর খসরু: ভালোবাসাই প্রাপ্য, রাজনৈতিক তকমা নয়
মূল্যস্ফীতির ধাক্কা: সবজিওয়ালার পুঁজি থেকে করপোরেট অর্থনীতি
বাংলাদেশ কি নাইজেরিয়ার পথে হাঁটছে











