দেশে সারের সরবরাহ ঠিক রাখতে ৭০ হাজার টন ইউরিয়া সার কিনছে সরকার। এতে খরচ হবে প্রায় ৩৬৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সোমবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন পায়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সারের একটি অংশ আসবে দেশের কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি বা কাফকো থেকে। বাকিটা আসবে সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে।
কাফকো থেকে কেনা হবে ৩০ হাজার টন বস্তাভর্তি দানাদার ইউরিয়া। প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ৪০৮ দশমিক ৩৭৫ মার্কিন ডলার। এতে খরচ পড়বে প্রায় ১৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সৌদি প্রতিষ্ঠানটি থেকে আসবে ৪০ হাজার টন খোলা দানাদার ইউরিয়া। এর প্রতি টনের দাম ৪৩১ দশমিক ৬৭ ডলার। এই চালানে খরচ হবে প্রায় ২১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। দুই চালান মিলিয়েই ৭০ হাজার টন ইউরিয়া সার। দেশের কারখানার সারের দাম বিদেশি চালানের চেয়ে টনপ্রতি প্রায় ২৩ ডলার কম পড়ছে। বস্তাভর্তি সার সরাসরি গুদামে পাঠানো যায়। অন্যদিকে খোলা অবস্থায় আসা সার বন্দরে নামিয়ে বস্তায় ভরতে হয়, তাতে বাড়তি সময় ও খরচ লাগে। তবে দেশের উৎপাদন দিয়ে পুরো চাহিদা মেটে না বলেই প্রতিবছর বড় অঙ্কের ইউরিয়া বিদেশ থেকে আনতে হয়।
ইউরিয়া বাংলাদেশের কৃষিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সার। ধান, গম, ভুট্টা, সবজিসহ প্রায় সব ফসলেই এটি লাগে। আমন ধান কাটার পর সামনে রবি মৌসুম আর বোরো আবাদ। এ সময়টায় সারের চাহিদা বাড়তে থাকে। মৌসুমের ঠিক আগে সার কেনার এই সিদ্ধান্ত তাই কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো সার না পেলে কৃষককে বেশি দামে খোলাবাজার থেকে কিনতে হয়। তাতে উৎপাদন খরচ বাড়ে, ফলনেও প্রভাব পড়ে। সরকার ভর্তুকি দিয়ে কৃষকের কাছে কম দামে সার পৌঁছে দেয়। তাই আমদানির দাম বাড়লে সেই চাপ শেষ পর্যন্ত সরকারের ভর্তুকি বাজেটে গিয়ে পড়ে।
একই দিনে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোকিল টেক্সটাইল মিলস সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপির মাধ্যমে চালুর প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি দিয়েছিল বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানায় ১৯৬৬ সালে সুতা উৎপাদন শুরু হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এটি জাতীয়করণ করে নাম রাখা হয় কোকিল টেক্সটাইল মিলস। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে কারখানাটি বন্ধ পড়ে আছে।
সারের সময়মতো সরবরাহ দেশের খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ৭০ হাজার টন ইউরিয়া সার কৃষকের মাঠে পৌঁছাতে আমদানি ও পরিবহন ঠিক সময়ে শেষ হওয়া জরুরি। অন্যদিকে কোকিল টেক্সটাইল আবার চালু হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন কর্মসংস্থানের আশা তৈরি হবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাকে বেসরকারি অংশীদারের হাতে সচল করার এই মডেল সফল হলে অন্য বন্ধ কারখানার ক্ষেত্রেও একই পথ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে কবে নাগাদ বেসরকারি অংশীদার বাছাই হবে, সেটি এখনো জানা যায়নি।












