সাবেক বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরী হত্যা মামলায় আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে নতুন করে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিলেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার মহানগর হাকিম মনিরুল ইসলাম এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে দ্বিতীয় দফার সাত দিনের রিমান্ড শেষে দ্বীপকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাঁকে আরও সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে নীরব থাকার অভিযোগ
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য গোপন রাখা হয়েছে এবং সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও দ্বীপ বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং নীরব থাকছেন। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অত্যন্ত কৌশলী আচরণ করছেন।
তদন্তে গ্রেপ্তার দুই আসামি, দ্বীপ ও ১৯ বছর বয়সী জেরিকা তাসনিম দিশার, ঘটনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
হত্যার উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন, প্রকৃত জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে দ্বীপকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে দাবি করেন তদন্ত কর্মকর্তা। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন এবং তদন্ত ব্যাহত করতে পারেন বলেও আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
তবে দ্বীপের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে তা বাতিলের আবেদন জানান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের পক্ষে যুক্তি দেয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে দুই দফায় সাত দিনের রিমান্ড
এর আগে ৩১ অক্টোবর আদালত দ্বীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। পরে ৩ নভেম্বর তাঁকে আরও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। এবার নতুন করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় এ মামলায় তাঁর মোট রিমান্ডের মেয়াদ দাঁড়াল ১০ দিন।
যেভাবে উদ্ধার হয় তাহসিফের মরদেহ
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দ্বীপের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এরপর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে নদী পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২৯ অক্টোবর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দ্বীপকে হেফাজতে নেয়। পরদিন ৩০ অক্টোবর তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে ওই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে দ্বীপকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।












