০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা: বিশেষ অংশীদারিত্ব থেকে হিসাবি লেনদেনের পথে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বপ্ন অনিশ্চিত, রেমিট্যান্সেও চাপ ইরানের ফিফা বিশ্বকাপের টিকেট বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতে ড্রোন হামলায় ৫ বাংলাদেশি আহত, দূতাবাস মাঠে ইরান-ইসরায়েল আবার থামল, কিন্তু শান্তি কতটা টেকসই? ব্যাংক অ্যাকাউন্টে TIN বাধ্যতামূলক হচ্ছে, কোটি গ্রাহকের জীবনে বড় পরিবর্তন টাঙ্গাইলে পিকআপ-ট্রাক সংঘর্ষে ৪ জন নিহত নতুন নির্বাচন কমিশনে প্রাক্তন আমলার নাম, সুপ্রিম কোর্টে বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার শুনানি ১৬ জুন রামিসা হত্যা: ১৯ দিনে ফাঁসির রায়, দেশজুড়ে স্বস্তি ইসলামী ব্যাংকে সংকট: সাত দিনে উঠে গেল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-৬৪)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৪
  • 188

হিতৈষী স্কুলে

প্রতিদিন আমি আমার পিতার সঙ্গে স্কুলে যাইতাম। আমার পিতাকে আমার তখন এত ভালো লাগিত যে সর্বদা তাঁহার সঙ্গে সঙ্গে থাকিতে চাহিতাম। তিনি যেমন করিয়া খাইতেন আমি তাহা অনুকরণ করিতাম। তাঁহার মতো বড় বড় পা ফেলিয়া হাঁটিতে চেষ্টা করিতাম।

এই স্কুলের প্রথম দিনের ঘটনা আমার বিশেষ মনে নাই। আমাদের উপর-ক্লাসের একটি ছেলে বেশ সুন্দর করিয়া কবিতা আবৃত্তি করিত। তার গলার সুরটি ছিল ভারি চমৎকার।

তার আবৃত্তি করা একটি লাইন মনে পড়ে,

সাদা সাদা বকের ছানা

জল খাচ্ছে ঘাটে।

কত কালের কথা। কিন্তু এই লাইনটি ভুলিয়া যাই নাই। বোধহয় এই লাইনটির চিত্রধর্মের জন্যই উহা আমার মন হইতে মুছিয়া যায় নাই। সেকালে আমাদিগকে কিন্ডারগার্টেন পড়ানো হইত। নানা রং চিনাইবার জন্য সেই বই-এ সুন্দর সুন্দর কবিতা থাকিত। উহাদের দুই-এক লাইন এখন মনে আছে:

লম্বা লম্বা খেজুর গাছে খেজুর হয়েছে,

কতক কাঁচা কতক ডাঁসা কতক পেকেছে।

অথবা

পেঁচ দেয় না রামের ঘুড়ি উড়ে পুকুর পাড়ে,

ওদিক থেকে হরির ঘুড়ি পড়ল তাহার ঘাড়ে।

কেন জানি না, এই কবিতাগুলি পড়িতে আমার বড়ই ভালো লাগিত।

বাল্যকালে আমার স্মরণশক্তি খুব ভালো ছিল। স্কুলে বসিয়া পড়িয়াই আমি ক্লাসে প্রথম হইতাম। বাড়ি আসিয়া পড়িতে হইত না। আমাদের উপর-ক্লাসের ধীরেন্দ্র আর সতীশ নামে দু’টি ছেলে আমাকে পড়া তৈরি করিতে সাহায্য করিতেন। ধীরেনদা মারা গিয়াছেন। সতীশদা কোথায় আছেন জানি না।

আমাদের স্কুলে সাধারণত গরিব লোকদের ছেলেরাই আসিয়া ভর্তি হইত। আমার পিতা বলিয়া-কহিয়া আমাদের গ্রামের অনেকগুলি চাষী ছেলেকে এই স্কুলে আনিয়া ভর্তি করাইয়া দেন। তাহারা বাড়িতে পড়াশুনা করিবার কোনো সাহায্য পাইত না। তাই বছরের পর বছর ফেল করিত।

চলবে…

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা: বিশেষ অংশীদারিত্ব থেকে হিসাবি লেনদেনের পথে

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-৬৪)

১১:০০:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৪

হিতৈষী স্কুলে

প্রতিদিন আমি আমার পিতার সঙ্গে স্কুলে যাইতাম। আমার পিতাকে আমার তখন এত ভালো লাগিত যে সর্বদা তাঁহার সঙ্গে সঙ্গে থাকিতে চাহিতাম। তিনি যেমন করিয়া খাইতেন আমি তাহা অনুকরণ করিতাম। তাঁহার মতো বড় বড় পা ফেলিয়া হাঁটিতে চেষ্টা করিতাম।

এই স্কুলের প্রথম দিনের ঘটনা আমার বিশেষ মনে নাই। আমাদের উপর-ক্লাসের একটি ছেলে বেশ সুন্দর করিয়া কবিতা আবৃত্তি করিত। তার গলার সুরটি ছিল ভারি চমৎকার।

তার আবৃত্তি করা একটি লাইন মনে পড়ে,

সাদা সাদা বকের ছানা

জল খাচ্ছে ঘাটে।

কত কালের কথা। কিন্তু এই লাইনটি ভুলিয়া যাই নাই। বোধহয় এই লাইনটির চিত্রধর্মের জন্যই উহা আমার মন হইতে মুছিয়া যায় নাই। সেকালে আমাদিগকে কিন্ডারগার্টেন পড়ানো হইত। নানা রং চিনাইবার জন্য সেই বই-এ সুন্দর সুন্দর কবিতা থাকিত। উহাদের দুই-এক লাইন এখন মনে আছে:

লম্বা লম্বা খেজুর গাছে খেজুর হয়েছে,

কতক কাঁচা কতক ডাঁসা কতক পেকেছে।

অথবা

পেঁচ দেয় না রামের ঘুড়ি উড়ে পুকুর পাড়ে,

ওদিক থেকে হরির ঘুড়ি পড়ল তাহার ঘাড়ে।

কেন জানি না, এই কবিতাগুলি পড়িতে আমার বড়ই ভালো লাগিত।

বাল্যকালে আমার স্মরণশক্তি খুব ভালো ছিল। স্কুলে বসিয়া পড়িয়াই আমি ক্লাসে প্রথম হইতাম। বাড়ি আসিয়া পড়িতে হইত না। আমাদের উপর-ক্লাসের ধীরেন্দ্র আর সতীশ নামে দু’টি ছেলে আমাকে পড়া তৈরি করিতে সাহায্য করিতেন। ধীরেনদা মারা গিয়াছেন। সতীশদা কোথায় আছেন জানি না।

আমাদের স্কুলে সাধারণত গরিব লোকদের ছেলেরাই আসিয়া ভর্তি হইত। আমার পিতা বলিয়া-কহিয়া আমাদের গ্রামের অনেকগুলি চাষী ছেলেকে এই স্কুলে আনিয়া ভর্তি করাইয়া দেন। তাহারা বাড়িতে পড়াশুনা করিবার কোনো সাহায্য পাইত না। তাই বছরের পর বছর ফেল করিত।

চলবে…