১০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বাবা-ছেলের মৃত্যু গোপালগঞ্জে ইউএস ওপেনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আরিনা সাবালেঙ্কার

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩২০)

১৮০১ খৃঃ অব্দে প্রাণকৃষ্ণ বোর্ড অব রেভিনিউর নিকট হইতে সুপ্রসিদ্ধ বাগওয়ান ও নলদী পরগণা ক্রয় করেন; এবং বীরভূম জেলার জোবীর ও শ্রীহাটির কিয়দংশ তাঁহার সময়ে ক্রীত হয়। প্রাণকৃষ্ণের সময়ে তাঁহাদের উন্নতি চরমসীমায় উপস্থিত হয়। প্রাণকৃষ্ণও অনেক সময়ে সংকার্য্যের অনুষ্ঠান করিয়াছিলেন।

জোষ্ঠতাত ও পিতার পথানুসরণ করিয়া, তিনিও দেবসেবা, ব্রাহ্মণসেবা, অতিথিসেবায় সর্ব্বদা মনোযোগ দিতেন। তিনি অনেক স্থানে দেবমন্দির প্রতিষ্ঠা করিয়া, দেবসেবার সুবন্দোবস্ত করিয়াছেন। কান্দীর রাজবংশ চিরদিনই ধর্মানুরাগের জন্য বিখ্যাত। প্রাণকৃষ্ণের পুত্র কৃষ্ণচন্দ্র সিংহ সর্ব্বাপেক্ষা ধর্মানুরাগের পরিচয় দিয়া গিয়াছেন। কৃষ্ণচন্দ্রই সমগ্র উত্তর ভারতবর্ষে লালাবাবু নামে খ্যাত।

কৃষ্ণচন্দ্র প্রথমে বর্দ্ধমানের ম্যাজিস্ট্রেট কালেক্টর ও জজের আফিসের সেরেস্তাদারী কার্য্য করিতেন। তৎকালে সম্ভ্রান্তবংশীয় লোক ব্যতীত অপর কাহাকেও ঐরূপ পদে নিযুক্ত করা হইত না। সপ্তদশ বৎসর বয়সে তিনি উক্ত কার্য্যে নিযুক্ত হন। তাহার পর উড়িষ্যার বন্দোবস্তের সময় তিনি তথায় দেওয়ানের কার্য্য করিয়াছিলেন। উড়িষ্যায় তিনি অনেক জমিদারী ক্রয় করেন।

লালা বাবুও মহাসমারোহে পিতৃশ্রাদ্ধ সম্পন্ন করেন। তিনি আরবী, ফারসী ও সংস্কৃত ভাষায় ব্যুৎপন্ন ছিলেন। বাল্যকাল হইতে তাঁহার স্বধর্ম্মের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগ ছিল এবং সেই অনুরাগ ক্রমে বন্ধিত হইয়া তাঁহার সংসারবৈরাগ্য উৎপাদন করে। অবশেষে তিনি সহসা স্ত্রীপুত্র পরিত্যাগ করিয়া শ্রীবৃন্দাবনধামে যাত্রা করেন; এবং তথায় জীবনের অবশিষ্টাংশ যাপন করিয়াছিলেন।

তাঁহার সহসা সংসারপরিত্যাগসম্বন্ধে নানারূপ গল্প প্রচলিত আছে। তন্মধ্যে আমরা একটির বিষয় উল্লেখ করিতেছি। তাঁহার মনে পূর্ব্ব হইতেই বৈরাগ্যের সঞ্চার হইয়াছিল।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩২০)

১১:০০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

১৮০১ খৃঃ অব্দে প্রাণকৃষ্ণ বোর্ড অব রেভিনিউর নিকট হইতে সুপ্রসিদ্ধ বাগওয়ান ও নলদী পরগণা ক্রয় করেন; এবং বীরভূম জেলার জোবীর ও শ্রীহাটির কিয়দংশ তাঁহার সময়ে ক্রীত হয়। প্রাণকৃষ্ণের সময়ে তাঁহাদের উন্নতি চরমসীমায় উপস্থিত হয়। প্রাণকৃষ্ণও অনেক সময়ে সংকার্য্যের অনুষ্ঠান করিয়াছিলেন।

জোষ্ঠতাত ও পিতার পথানুসরণ করিয়া, তিনিও দেবসেবা, ব্রাহ্মণসেবা, অতিথিসেবায় সর্ব্বদা মনোযোগ দিতেন। তিনি অনেক স্থানে দেবমন্দির প্রতিষ্ঠা করিয়া, দেবসেবার সুবন্দোবস্ত করিয়াছেন। কান্দীর রাজবংশ চিরদিনই ধর্মানুরাগের জন্য বিখ্যাত। প্রাণকৃষ্ণের পুত্র কৃষ্ণচন্দ্র সিংহ সর্ব্বাপেক্ষা ধর্মানুরাগের পরিচয় দিয়া গিয়াছেন। কৃষ্ণচন্দ্রই সমগ্র উত্তর ভারতবর্ষে লালাবাবু নামে খ্যাত।

কৃষ্ণচন্দ্র প্রথমে বর্দ্ধমানের ম্যাজিস্ট্রেট কালেক্টর ও জজের আফিসের সেরেস্তাদারী কার্য্য করিতেন। তৎকালে সম্ভ্রান্তবংশীয় লোক ব্যতীত অপর কাহাকেও ঐরূপ পদে নিযুক্ত করা হইত না। সপ্তদশ বৎসর বয়সে তিনি উক্ত কার্য্যে নিযুক্ত হন। তাহার পর উড়িষ্যার বন্দোবস্তের সময় তিনি তথায় দেওয়ানের কার্য্য করিয়াছিলেন। উড়িষ্যায় তিনি অনেক জমিদারী ক্রয় করেন।

লালা বাবুও মহাসমারোহে পিতৃশ্রাদ্ধ সম্পন্ন করেন। তিনি আরবী, ফারসী ও সংস্কৃত ভাষায় ব্যুৎপন্ন ছিলেন। বাল্যকাল হইতে তাঁহার স্বধর্ম্মের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগ ছিল এবং সেই অনুরাগ ক্রমে বন্ধিত হইয়া তাঁহার সংসারবৈরাগ্য উৎপাদন করে। অবশেষে তিনি সহসা স্ত্রীপুত্র পরিত্যাগ করিয়া শ্রীবৃন্দাবনধামে যাত্রা করেন; এবং তথায় জীবনের অবশিষ্টাংশ যাপন করিয়াছিলেন।

তাঁহার সহসা সংসারপরিত্যাগসম্বন্ধে নানারূপ গল্প প্রচলিত আছে। তন্মধ্যে আমরা একটির বিষয় উল্লেখ করিতেছি। তাঁহার মনে পূর্ব্ব হইতেই বৈরাগ্যের সঞ্চার হইয়াছিল।