চলতি মাসের প্রথমার্ধে দেশ থেকে বিদায় নিতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা। তবে বর্ষা বিদায়ের এই সময়েই বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির আশঙ্কা দেখছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মাসিক দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে অক্টোবরের আবহাওয়া নিয়ে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। এর একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। মাসজুড়ে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকার সম্ভাবনা। তবে দেশের কিছু এলাকায় তিন থেকে চার দিন বজ্রঝড় হতে পারে। মাসের শুরুতে মিয়ানমারের ওপর থাকা একটি স্থল নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছিল, যার প্রভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টি হয়।
মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে পুরো মাসের হিসাবে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু নদীর পানি দ্রুত কিন্তু সাময়িকভাবে বাড়তে পারে।
উপকূলের জেলে ও নৌযান চালকদের জন্য সমুদ্রবন্দর ও নদীবন্দরের সতর্কসংকেত নিয়মিত খেয়াল রাখা জরুরি। এ মাসেই দুর্গাপূজা, তাই ঝড়বৃষ্টি হলে মণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজনেও প্রভাব পড়তে পারে। মৌসুম বদলের এই সময়ে জ্বর-সর্দির প্রকোপও বাড়ে, আর জমে থাকা বৃষ্টির পানি ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ায়।
অক্টোবরের আবহাওয়া নিয়ে সতর্ক থাকার কারণ আছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে ঘূর্ণিঝড় হামুন বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছিল। তাই অক্টোবরের আবহাওয়া নিয়ে আতঙ্ক নয়, আবহাওয়া অধিদপ্তরের দৈনিক পূর্বাভাস ও সতর্কসংকেত নিয়মিত অনুসরণ করাই নিরাপদ।












