সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছে ২৭৭ কোটি ডলার। গত ১১ মাসে কোনো এক মাসে এর চেয়ে কম আয় আসেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সবচেয়ে কম আয় এসেছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে। সে মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ২৫৬ কোটি ডলার। মাসের ১ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত এসেছিল ২৫৩ কোটি ডলার। শেষ দুই দিনে যোগ হয় বাকি অংশ। জুলাই ও আগস্টে প্রবাহ বেশি থাকায় তুলনায় সেপ্টেম্বরের অঙ্ক কম দেখাচ্ছে।
তবে পুরো ছবিটা হতাশার নয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এবারের আয় কিছুটা বেশি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এসেছিল ২৬৯ কোটি ডলার। এর আগের মাস আগস্টে আয় এসেছিল ২৯৭ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের চেয়ে সাড়ে ২২ শতাংশ বেশি। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে মোট এসেছে ৮৫৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ এক মাসের ধাক্কা সত্ত্বেও বছরের শুরুটা শক্ত। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৮ দিনেও প্রবাহ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি ছিল।
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলার। এই আয়ের বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত প্রধান উৎসের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠানো সহজ হওয়ায় প্রবাহ বেড়েছে। হুন্ডি ঠেকাতে কড়াকড়িও এতে সাহায্য করেছে। রিজার্ভ ধরে রাখা ও ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রবাসী আয় এখন সরকারের সবচেয়ে বড় ভরসাগুলোর একটি। বিশ্বের শতাধিক দেশে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি কাজ করেন। তাঁদের পাঠানো টাকায় গ্রামের অর্থনীতিও সচল থাকে।
এই পটভূমিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করছে। ইয়েমেন ঘিরে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। রিয়াদ ও সানা দুই শহরেই হামলার খবর এসেছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধও মেটেনি। প্রবাসী আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস যে অঞ্চল, সেখানে যুদ্ধ ছড়ালে কর্মীদের কাজ, বেতন ও নতুন নিয়োগে প্রভাব পড়তে পারে। জ্বালানির দাম বাড়লে দেশের আমদানি খরচও বাড়বে। তবে এখনই সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় কমার পেছনে এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব আছে, এমন কোনো তথ্য নেই। উপসাগরের দেশগুলো থেকে আসা খবরের দিকে তাই প্রবাসীদের পরিবারের নজর এখন বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি সপ্তাহে প্রবাসী আয়ের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের হিসাব এলেই বোঝা যাবে, সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় কমা সাময়িক নাকি নতুন প্রবণতার শুরু। প্রবাসী কর্মীদের পরিবারগুলোর জন্য এই আয়ই সংসার চালানোর ভরসা। তাই উপসাগরের পরিস্থিতি শুধু কূটনীতির বিষয় নয়, দেশের লাখো ঘরের হিসাবেরও বিষয়। সরকারের সামনে এখন দুই কাজ: প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে আগাম প্রস্তুতি আর বৈধ পথে টাকা পাঠানোর সুবিধা আরও বাড়ানো। প্রবাসীদের দিক থেকেও সতর্কতা দরকার। অস্থির সময়ে অবৈধ পথে টাকা পাঠালে ঝুঁকি বাড়ে, বৈধ পথই নিরাপদ।












