রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে বুধবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। এর আগে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধির বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করতে ইউক্রেনকেও আগ্রহ দেখাতে হবে।
২০ অক্টোবরের আলোচনায় ইউক্রেন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতাদের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিনিধি এবং ন্যাটোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা আলোচনাকে গঠনমূলক উল্লেখ করে বলেছেন, ইউক্রেন নতুন কিছু ধারণা ও প্রস্তাব সামনে এনেছে। অংশগ্রহণকারীরা রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সমন্বিত অবস্থান তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় একটি বিস্তৃত শান্তি কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা। উইটকফের আসন্ন সফরের লক্ষ্য সরাসরি রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা এবং বৃহত্তর পরিসরে বহুপক্ষীয় সংলাপের পথ তৈরি করা।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে অসলো সফর করেছেন জেলেনস্কি। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ায় কিয়েভের উদ্বেগ বেড়েছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে ওয়াশিংটন আগের মতো সহযোগিতা করছে না।
অসলোতে বৈঠকের পর এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে ইউক্রেন আবারও আগাম সতর্কবার্তা পাচ্ছে। তিনি বলেন, সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থাটি এখন কার্যকরভাবে কাজ করছে।
জেলেনস্কি আরও জানান, রুবিওর সঙ্গে আলোচনায় প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ এবং স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা স্টারলিংকের বিষয়টি উঠে এসেছে। দ্রুতগতিতে চলা ড্রোনের মতো যানে স্টারলিংক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যার কথা জানিয়েছিল কিয়েভ।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। তিনি ন্যাটোর পঞ্চম অনুচ্ছেদের আদলে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করেন। ন্যাটোর এই বিধান অনুযায়ী, জোটের কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জেলেনস্কি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা শক্তিশালী হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আবারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ শেষ করার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের অংশগ্রহণে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের প্রত্যাশাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে অসলো বৈঠককে ভালো ও গঠনমূলক বলে বর্ণনা করেছেন। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব বলেন, তাঁর ধারণা শান্তি আলোচনা আবার সঠিক পথে ফিরেছে।
ইউক্রেনকে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান ট্রাম্পের
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনকে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী হতে হবে। তাঁর দাবি, রাশিয়াও যুদ্ধের অবসান চায়।
ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনকে এই যুদ্ধের সমাধান চাইতে হবে। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া একটি বড় সামরিক শক্তি এবং তারা ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড দখল করেছে।
ট্রাম্প এর আগেও জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন এবং ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে ওয়াশিংটন দাবি করে আসছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে না।
রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কিছু উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। রাশিয়ার ডিজেল কেনার বিষয়ে একটি চুক্তি এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কংগ্রেসের দুই দলের সদস্যদের মধ্যে আপত্তি দেখা দিয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশও এসব পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইউক্রেনে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা
ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ অনেকটাই বন্ধ রেখেছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কিনে ইউক্রেনকে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহের অগ্রাধিকার তালিকা অনুসরণ করা হয়।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ব্যবস্থার আওতায় অধিকাংশ অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের জন্য ইউক্রেনের সর্বশেষ অনুরোধে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এখনো অনুমোদন দেননি।
মঙ্গলবার রুবিও স্বীকার করেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর কেনা এক চালান প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে দাবি করেন তিনি।
রুবিও বলেন, ইউক্রেনের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো রাজনৈতিক নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথও জানান, ইউক্রেন নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন আসেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক মজুত পর্যাপ্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীর প্রয়োজনও বিবেচনায় রাখতে হবে।
স্টারলিংক নিয়ে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মতবিরোধ
ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স পরিচালিত স্টারলিংক যোগাযোগব্যবস্থা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হেগসেথ বলেছেন, ইউক্রেনের স্টারলিংক ব্যবহারের সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাহার করেনি। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সেবার নির্ধারিত শর্ত মেনে চলার বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, স্টারলিংকের সামরিক সংস্করণ স্টারশিল্ড যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ব্যবস্থার ব্যবহারে কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করার পর মাস্ক স্টারশিল্ডের ব্যবহার সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর আগে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইউক্রেনে সেবাটির ব্যবহার সীমিত করার নির্দেশ হোয়াইট হাউস থেকেই এসেছিল।
যোগাযোগব্যবস্থাটি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান, সমন্বয় এবং বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগের ওপর নির্ভরতা রয়েছে দেশটির।
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্কের অবনতি ঘটার মধ্যেই ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি স্থাপনা এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। দুই পক্ষের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখার জন্য ট্রাম্প আহ্বান জানালেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত পশ্চিম ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। যেসব অঞ্চল আগে তুলনামূলকভাবে বড় ধরনের হামলার বাইরে ছিল, সেসব এলাকাতেও আঘাত হানা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেনের রেনি বন্দরে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে এবং ওদেসার পথে থাকা আরও দুটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেনের দুটি সরবরাহ ও রসদকেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
রাতের হামলায় ইউক্রেনের সাতটি অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভ অঞ্চলেও দিনের বেলায় আবার হামলা চালানো হয়। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, মঙ্গলবার রাজধানীর একটি জ্বালানি স্থাপনায় রুশ ড্রোন আঘাত হেনেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শহরের চারটি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্পের অনুরোধের পর কয়েক দিন রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা থেকে বিরত ছিল কিয়েভ। তবে রাশিয়া একই ধরনের সংযম দেখায়নি বলে অভিযোগ করে ইউক্রেন আবার হামলা শুরু করেছে। দুই পক্ষের হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে তথ্যকেন্দ্রও রয়েছে।
ট্রাম্প ইউক্রেনের রাশিয়ায় চালানো হামলার সমালোচনা করে আসছেন। তবে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার তুলনামূলক ব্যাপক হামলার বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে একই মাত্রার সমালোচনা দেখা যায়নি।
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞায় ছাড় নিয়ে বিতর্ক
রাশিয়ার ডিজেল কেনার বিষয়ে ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে সম্মত হওয়া একটি চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কে টানাপোড়েন আরও বেড়েছে। ট্রাম্পের যুক্তি, এই পদক্ষেপের ফলে জ্বালানির উচ্চমূল্য কমাতে সহায়তা মিলবে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম মার্কিন ভোটারদের উদ্বেগের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
এ ছাড়া সপ্তাহান্তে ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ক্ষেত্রে ব্যাপক ছাড় দেন। এসব নিষেধাজ্ঞা চলতি সপ্তাহে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ এবং ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে ওয়াশিংটন শান্তি আলোচনার পথ তৈরির চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রুশ হামলা অব্যাহত রয়েছে।
উইটকফের পুতিনের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে এই বিরোধগুলোর কতটা সমাধান হয়, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন এবং রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কাঠামো নিয়ে অগ্রগতি হলে শান্তি প্রক্রিয়া এগোতে পারে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা অব্যাহত থাকা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সেই প্রক্রিয়ার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।












