মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদরের কুখ্যাত মেগা কারাগার সন্ত্রাসী বন্দিশালা বা সেকোটের ভেতরের বিরল কিছু ছবি প্রকাশিত হয়েছে। রাজধানী সান সালভাদর থেকে ৬৪ কিলোমিটারের বেশি দূরে তেকোলুকা এলাকায় অবস্থিত এই কারাগারটি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু করা হয়। দেশটির সরকার অপরাধী চক্রের সদস্যদের আটক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারাগারটি নির্মাণ করে। তবে কঠোর বন্দি ব্যবস্থাপনা ও কারাগারের পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ জানিয়েছে।
কারাগারটির পূর্ণ নাম সন্ত্রাসী বন্দি কেন্দ্র। প্রায় ৫৭ একর জায়গাজুড়ে স্থাপিত এই কারাগারকে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম কারাগার বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার। এখানে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার বন্দি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। অপরাধী চক্রের নেতা ও সদস্যদের পাশাপাশি বিশেষ করে মারা সালভাত্রুচা বা এমএস-১৩ এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বারিও ১৮ চক্রের সদস্যদের এখানে রাখা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে কারাগারটিতে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ বন্দি ছিলেন। কারাগারটি জনবসতি থেকে দূরে স্থাপন করা হয়েছে। এর নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর এবং বন্দিদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
২০২৪ সালের জুনে তোলা ছবিতে দেখা যায়, অপরাধী চক্রের সদস্যদের কারাগারে আনার পর তাঁদের নির্দিষ্ট কক্ষে নেওয়া হচ্ছে। কোথাও বন্দিদের কক্ষে বসে থাকতে দেখা যায়, কোথাও নিরাপত্তাকর্মীদের তাঁদের তল্লাশি ও পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। কারাগারের ভেতরে বন্দিদের সারিবদ্ধ অবস্থান এবং তাঁদের পাশে সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতিও ছবিতে উঠে এসেছে।
২০২৬ সালের অক্টোবরের ছবিতে বন্দিদের কক্ষের ভেতর থেকে বাইরে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। একই বছরের এপ্রিলে কারাগারটির ভেতরে এমএস-১৩ চক্রের কথিত সদস্যদের একটি গণবিচারের শুনানিতে অংশ নেওয়ার ছবিও প্রকাশিত হয়েছে। এসব ছবি কারাগারটির বন্দি ব্যবস্থাপনা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার একটি চিত্র তুলে ধরে।
এল সালভাদরের কঠোর নিরাপত্তানীতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন কারাগারের কঠোর পরিবেশ এবং সরকারের অপরাধ দমন অভিযানের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে বন্দিদের অধিকার ও আটক অবস্থায় তাঁদের সঙ্গে আচরণের বিষয়টি।
বিশ্ব কারাগারবিষয়ক তথ্যভান্ডারের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে বন্দির সংখ্যার হিসাবে এল সালভাদর বিশ্বের সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। এই হিসাবে দেশটিতে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে বন্দির সংখ্যা ১ হাজার ৬৫৯। দেশটির অপরাধ দমননীতির ব্যাপকতা বোঝাতে এই পরিসংখ্যান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সেকোট কারাগার এল সালভাদরের অপরাধী চক্র দমনের কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারের কাছে এটি অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কঠোর পদক্ষেপের প্রতীক। অন্যদিকে, কারাগারের পরিবেশ ও বন্দিদের অধিকার নিয়ে চলমান উদ্বেগের কারণে স্থাপনাটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আলোচনারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।












