ওজন কমানোর আধুনিক ওষুধের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিটামিন, প্রোটিন, ফাইবার ও কোলাজেনের মতো খাদ্য-পরিপূরকের বাজারও দ্রুত বড় হচ্ছে। এসব পণ্য ব্যবহারে বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, দুর্বলতা ও অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমছে বলে দাবি করছেন অনেক ব্যবহারকারী। তবে এসব পণ্যের উপাদান, কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে চিকিৎসক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবশালীদের প্রচার এবং যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য-পরিপূরক বাজারের দুর্বল নিয়ন্ত্রণ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ওজন কমানোর জন্য বহুল ব্যবহৃত ওজেম্পিক ও ওয়েগোভির মতো ওষুধের মূল উপাদান জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ। স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় এসব ওষুধ কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে। তবে ওষুধগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় অনেক ব্যবহারকারী এখন বিভিন্ন খাদ্য-পরিপূরকের ওপর নির্ভর করছেন। এতে একদিকে নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে পণ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ফোর্ট পিয়ার্সের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী অ্যালিসন ভেচিওর অভিজ্ঞতা এর একটি উদাহরণ। তাঁর ভাষায়, জিএলপি-১ ওষুধ তাঁর জীবনে নতুন করে শুরু করার সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু এর পাশাপাশি হজমের সমস্যা, নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া এবং এত বেশি দুর্বলতার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় যে কখনো কখনো বিছানা ছেড়ে ওঠাও কঠিন হয়ে পড়ত।
ভেচিও জানান, ফাইবার, কোলাজেন ও ইলেকট্রোলাইটসহ কয়েক ধরনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ শুরু করার পর তাঁর উপসর্গগুলো কমে আসে। এসব পণ্যের পেছনে মাসে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ ডলার ব্যয় করেন তিনি। পেশায় জরুরি বিভাগের এই নার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে স্বাস্থ্যবিষয়ক বিষয় নিয়ে প্রচারও করেন। তাঁর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। তিনটি ব্র্যান্ডের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত বাণিজ্যিক চুক্তি রয়েছে।
তবে কোনো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে একটি সাপ্লিমেন্টের কার্যকারিতা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। একই উপাদান সবার শরীরে একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের জায়গাটি হলো, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অনেক মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পণ্য কিনছেন এবং সেগুলোকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মোকাবিলার নির্ভরযোগ্য উপায় হিসেবে বিবেচনা করছেন।
দ্রুত বাড়ছে সাপ্লিমেন্টের বাজার
যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য-পরিপূরকের বিক্রি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্টের বাজারের আকার ৭৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। ওজন কমানোর ওষুধের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বাজারে নতুন ক্রেতা যুক্ত হচ্ছেন এবং আগে থেকেই সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারকারীদের ব্যয়ও বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গে বসবাসকারী ৫২ বছর বয়সী টেরি হার্টের অভিজ্ঞতাও এই প্রবণতার সঙ্গে মিলে যায়। ২০২৩ সালে জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহার শুরু করার পর তিনি তীব্র বমিভাব, ক্লান্তি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় পড়েন বলে জানান। এরপর ম্যাগনেশিয়াম, ইলেকট্রোলাইট, ভিটামিন বি১২সহ বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ শুরু করেন। তাঁর দাবি, এগুলো ব্যবহারে উপসর্গ সামলাতে সুবিধা হয়েছে।
এসব পণ্যের জন্য হার্টের মাসে প্রায় ১১০ ডলার খরচ হয়। স্বাস্থ্যবিমা সাধারণত এই ব্যয় বহন করে না। টিকটকে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য প্রচারের মাধ্যমে কমিশনও পান তিনি।
হার্ট জানান, তিনি নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করেন না এবং অনুসারীদের সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি অনুসারীদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করেছেন।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রচার এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত চিকিৎসার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কোনো পণ্য ব্যবহারের পর কারও উপসর্গ কমে গেলেও শুধু সেই অভিজ্ঞতা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না যে পণ্যটিই উপসর্গ কমিয়েছে। একইভাবে, অনলাইনে প্রচারিত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দাবি সব সময় যথাযথ গবেষণা বা নিয়ন্ত্রক যাচাইয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় না।
টিকটকেও কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা
সাপ্লিমেন্ট বিক্রির ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। বাজারবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টিকটক শপে খাদ্য-পরিপূরক বিক্রি এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে মোট সাপ্লিমেন্ট বিক্রির প্রায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ এসেছে এই প্ল্যাটফর্ম থেকে।
দেশটিতে ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্টের সামগ্রিক বিক্রি ২০২৪ সালে ৫ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৭ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ওজন কমানোর ওষুধ নতুন ক্রেতা তৈরি করছে। পাশাপাশি আগে থেকে সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারকারীরাও তাঁদের দৈনন্দিন ব্যবহারের তালিকায় নতুন পণ্য যুক্ত করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্যবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতাদের জনপ্রিয়তা এই প্রবণতাকে আরও জোরালো করছে। বিশেষ করে যাঁরা নিজেদের চিকিৎসা বা ওজন কমানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, তাঁদের বক্তব্য অনেক অনুসারীর কাছে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়। কিন্তু এসব কনটেন্টের পেছনে পণ্য বিক্রির আর্থিক স্বার্থ থাকলে তা দর্শকের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
নিয়াসেন বায়োসায়েন্সের প্রধান নির্বাহী রব ফ্রিড সতর্ক করে বলেছেন, কোনো প্রতিষ্ঠান বিক্রি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে একজন কিংবা শত শত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারে। তাঁদের মাধ্যমে এমন সব দাবি প্রচার করা সম্ভব, যা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে। কিন্তু সেই দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা শক্তিশালী, তা ক্রেতার পক্ষে সব সময় যাচাই করা কঠিন।
প্রোটিন, ফাইবার ও কোলাজেনে বাড়ছে ব্যয়
জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রোটিন, ফাইবার, কোলাজেন ও প্রোবায়োটিকের চাহিদা বাড়ছে। একটি বাজার জরিপে দেখা গেছে, এই শ্রেণির ওষুধ গ্রহণ শুরুর পর প্রায় অর্ধেক ব্যবহারকারী নতুন ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট নেওয়া শুরু করেছেন।
বস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের চলতি বছরের একটি ভোক্তা জরিপে দেখা যায়, জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহারকারীরা ওষুধ গ্রহণ শুরুর আগের তুলনায় প্রোটিন, ফাইবার ও কোলাজেনের পেছনে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি ব্যয় করছেন। কোলাজেন এমন একটি প্রোটিন, যা ত্বকের গঠন ও দৃঢ়তা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
এই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে বড় খুচরা বিক্রেতারাও পণ্যের পরিসর বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেট তাদের সাপ্লিমেন্টের সম্ভার সম্প্রসারণ করছে। বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মালিকানাধীন ভিটামিন শপ নামের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটিও চলতি বছরে ফাইবার ও ক্রিয়েটিনের বিক্রিতে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি দেখেছে বলে জানিয়েছে। ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই পণ্যগুলোর চাহিদা রয়েছে।
ফলে সাপ্লিমেন্ট শিল্পে বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও অধিগ্রহণের প্রবণতাও বাড়ছে। আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান পিচবুকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে এই খাতে ১১৫টি একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের চুক্তি হয়েছিল, যার মোট মূল্য ছিল ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে চুক্তির সংখ্যা কমে ৯৫ হলেও মোট মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে।
২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত এ ধরনের ৬৮টি চুক্তি হয়েছে, যার মোট মূল্য ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, চুক্তির সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে।
ভোক্তাপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল সাপ্লিমেন্ট প্রস্তুতকারক থর্ন অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে জাপানের কিরিন হোল্ডিংস গত আগস্টে কানাডার জামিসন ওয়েলনেস কেনার ঘোষণা দেয়। জামিসনের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্র্যান্ড ইউথিওরি ২০২৫ সালের শুরুর দিকে জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে একটি পণ্য বাজারে আনে।
জামিসনের মুখপাত্র রুথ উইঙ্কার বলেছেন, ওজন কমানোর ওষুধের ব্যবহার বৃদ্ধি তাদের ব্যবসার প্রসারে সহায়ক হতে পারে। তাঁর মতে, মানুষ স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে মনোযোগী হলে ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ
সাপ্লিমেন্টের বাজার বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রে এসব পণ্য বাজারজাত করার আগে ওষুধের মতো বাধ্যতামূলক অনুমোদন নিতে হয় না। ফলে পণ্যের উপাদান, কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন সাধারণত খাদ্য-পরিপূরক বাজারে আসার আগে প্রতিটি পণ্যের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাই করে অনুমোদন দেয় না। নতুন খাদ্য-উপাদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও প্রচলিত কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলো আগাম পর্যালোচনা এড়িয়ে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে দেশটির স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের প্রধান রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র সাপ্লিমেন্ট ও খাদ্য-উপাদানের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দিয়েছেন। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনও নতুন খাদ্য-উপাদান পর্যালোচনার ক্ষেত্রে কী ধরনের তথ্য জমা দিতে হবে, সে বিষয়ে চলতি বছর নতুন নির্দেশনা দিয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো উপাদানকে সাধারণভাবে নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত বলে ঘোষণা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে না জানিয়েই বাজারজাত করার যে সুযোগ পায়, তা সীমিত করা। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই পদ্ধতির অবসান ঘটতে পারে।
বর্তমান ব্যবস্থায় কোনো প্রতিষ্ঠান একটি উপাদানকে সাধারণভাবে নিরাপদ বলে বিবেচিত হিসেবে ঘোষণা করতে পারে। তবে সমালোচকদের মতে, এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান এমন পণ্য বাজারে আনতে পারে, যেগুলোর নিরাপত্তা যথেষ্টভাবে যাচাই করা হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্টে ওষুধজাতীয় উপাদান মেশানো হয়, আবার কখনো প্রচারে গুরুত্ব দেওয়া উপকারী উপাদান খুব সামান্য পরিমাণে রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নারীদের লক্ষ্য করে ভিটামিন তৈরি করা প্রতিষ্ঠান বডি অব ওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী জ্যাকলিন মাসলান নতুন নিয়মের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, অন্তত বাজারে ছাড়ার আগে নতুন উপাদানগুলোর পর্যালোচনা হওয়া উচিত।
তবে শিল্পের সব পক্ষ প্রস্তাবটির পক্ষে নয়। সাপ্লিমেন্ট শিল্পের বাণিজ্যিক সংগঠন কাউন্সিল ফর রেসপনসিবল নিউট্রিশনের আশঙ্কা, হাজার হাজার উপাদানের পর্যালোচনা করতে গিয়ে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের কাজে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতে পারে। এতে নতুন পণ্য বাজারে আনার প্রক্রিয়া কয়েক মাস পিছিয়ে যেতে পারে।
থর্নের প্রধান নির্বাহী কলিন ওয়াটসও বলেছেন, নতুন উপাদান পর্যালোচনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সক্ষমতা খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তাঁর মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি নতুন উপাদান পর্যালোচনা করা সংস্থাটির জন্য কঠিন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানিয়েছে, পরিবর্তনশীল বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আধুনিক করার বিভিন্ন সুযোগ বিবেচনা করছে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন। একই সঙ্গে ভোক্তাদের পছন্দের স্বাধীনতা বজায় রেখে পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সংস্থাটির লক্ষ্য।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বদলে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত জরুরি
ওজন কমানোর ওষুধের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সাপ্লিমেন্টের বাজার সম্প্রসারণ স্বাস্থ্য ও ব্যবসা, দুই ক্ষেত্রেই নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। একদিকে ব্যবহারকারীরা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলাতে সহায়ক পণ্য খুঁজছেন, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে নতুন পণ্য তৈরি ও বিপণনে বিনিয়োগ করছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ, পণ্যের চাহিদা বাড়লেও তার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে সমানভাবে নির্ভরযোগ্য তথ্য সব সময় পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত দাবি, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ একসঙ্গে মিশে গেলে ক্রেতার পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ওজন কমানোর ওষুধ গ্রহণের সময় পুষ্টির ঘাটতি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে নিজের সিদ্ধান্তে একাধিক সাপ্লিমেন্ট শুরু করার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কোন উপাদান প্রয়োজন, কতটা প্রয়োজন এবং অন্য ওষুধের সঙ্গে তার কোনো প্রতিক্রিয়া হতে পারে কি না, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
সাপ্লিমেন্ট শিল্পের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি তাই শুধু নতুন পণ্য ও বিপণন কৌশলের ওপর নির্ভর করবে না। পণ্যের উপাদান সম্পর্কে স্বচ্ছতা, নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও এই বাজারে ভোক্তাদের আস্থা তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।












