দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সিঙ্গাপুরে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ কমিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তে প্রতিদিন মোট ৩ কোটি ১০ লাখ স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমানো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বনাঞ্চলের আগুন থেকে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়া ও বায়ুদূষণ নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এ পদক্ষেপ নিল জাকার্তা।
ইন্দোনেশিয়ার তেল ও গ্যাস খাত তদারককারী সরকারি সংস্থা এসকেকে মিগাসের প্রধান জোকো সিসওয়ান্তো এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের নাতুনা এলাকা থেকে প্রতিদিন ১ কোটি ৫০ লাখ স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট এবং সুমাত্রা থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহ নির্ভরযোগ্য রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পরিস্থিতি প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন। আপাতত এই কাটছাঁটের প্রভাব পড়ছে শুধু সিঙ্গাপুরের ওপর।
সিঙ্গাপুরের গ্যাস চাহিদায় প্রভাব
ইন্দোনেশিয়া সিঙ্গাপুরের প্রাকৃতিক গ্যাসের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে সিঙ্গাপুরে ১৪৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল।
তবে সরবরাহ কমানোর পরিমাণ সিঙ্গাপুরের দৈনিক মোট গ্যাস চাহিদার ২ শতাংশেরও কম বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি বাজার কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি বলেছে, গ্যাস আমদানিকারকেরা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কারণে নিজেদের চুক্তিতে থাকা প্রাসঙ্গিক প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিঙ্গাপুরের বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে সরবরাহ কমলেও তা সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি দেশটির রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।
বনাঞ্চলের আগুন নিয়ে বিরোধ
গ্যাস সরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইন্দোনেশিয়ার বনাঞ্চলে দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়া নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিরোধ চলছে। বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপে আগুনের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়ায় ইন্দোনেশিয়ার পাশাপাশি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও পূর্ব তিমুরের বায়ুর মানও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া বলেছিলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিতে গ্যাস রপ্তানি সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়াকে যারা ‘সম্মান করে না’, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
এর আগে বুধবার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো ধোঁয়াজনিত সংকট নিয়ে তাঁর দেশকে অপমান করে—এমন দেশগুলোর সমালোচনা করেন। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
১৯ লাখ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়েছে
বন উজাড় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নুসান্তারা অ্যাটলাসের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ইন্দোনেশিয়ায় আগুনে ১৯ লাখ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। কয়েক মাস ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি।
ধোঁয়াজনিত দূষণ মোকাবিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান এ সংকট নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে, আগুনের জন্য দায়ী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সিঙ্গাপুর।
অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার যুক্তিতে ইন্দোনেশিয়ার নেওয়া এই পদক্ষেপ জ্বালানি বাণিজ্যের পাশাপাশি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি করেছে।












