নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নতুন একটি কূপে গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি, সংক্ষেপে বাপেক্স। ২ নভেম্বর বিকেলে কূপ খননের কাজ শেষ হওয়ার পর গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। প্রাথমিক হিসাবে এই কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। নোয়াখালীতে নতুন গ্যাস কূপের এই খবর জ্বালানি খাতের জন্য আশার সংবাদ।
বাপেক্সের খনন কাজের দায়িত্বে থাকা রাকিবুল হাসান জানান, খনন শেষে কূপের মুখে আগুন ধরিয়ে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাপেক্স স্পষ্ট করেছে, ৭ মিলিয়ন ঘনফুটের হিসাবটি একেবারে প্রাথমিক। কূপ থেকে প্রতিদিন আসলে কত গ্যাস পাওয়া যাবে, তা নির্ধারিত হবে পরীক্ষার মাধ্যমে। এই পরীক্ষার নাম ড্রিল স্টেম টেস্ট। এতে কূপের উৎপাদন ক্ষমতা মাপা হয়। পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।
পাঠকের জন্য সংখ্যাটি একটু সহজ করে বলা যায়। এক মিলিয়ন ঘনফুট মানে ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস। সাত মিলিয়ন ঘনফুট মানে দিনে ৭০ লাখ ঘনফুট। এই গ্যাস পাইপলাইনে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও ঘরোয়া ব্যবহারকারীরা উপকৃত হতে পারেন। তবে কূপটি উৎপাদনে আসতে হলে পরীক্ষা, সংযোগ লাইন ও অন্যান্য অবকাঠামোর কাজ শেষ করতে হবে। এ কাজে কতটা সময় লাগবে, তা এখনো জানানো হয়নি।
কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় এর আগেও বাপেক্স একাধিক কূপ খনন করেছে। রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠান দেশের ভেতরে গ্যাস খুঁজে বের করার কাজ করে। নোয়াখালীতে নতুন গ্যাস কূপের আবিষ্কার তাই তাদের অনুসন্ধান কাজের ধারাবাহিকতারই অংশ। খননের সময় কূপের মুখে তাপ এত বেশি হয়েছিল যে আগুন নিভে গিয়েছিল। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়েছে। তাদের উপস্থিতিতে আবার আগুন জ্বালানো হবে বলে জানিয়েছে বাপেক্স।
গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর কূপ থেকে উৎপাদনে যাওয়া সাধারণত কয়েকটি ধাপে হয়। প্রথমে কূপ খনন শেষ হয়। তারপর পরীক্ষা করে দেখা হয় কূপে কত চাপে কতটা গ্যাস আছে। এরপর সংযোগ পাইপলাইন বসানো হয় এবং গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করে গ্রিডে দেওয়া হয়। এই প্রতিটি ধাপে সময় ও অর্থ লাগে। তাই আবিষ্কারের খবর এলেই পরদিন থেকে ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে যায় না। কোম্পানীগঞ্জের কূপের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া মানতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই খবর কৌতূহলের। কূপের আশপাশে কাজ চলার সময় নিরাপত্তা আর পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। গ্যাসের কূপে কাজ করার সময় উচ্চ চাপ আর তাপের ঝুঁকি থাকে। এ কারণেই ফায়ার সার্ভিসকে সঙ্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব সতর্কতা মেনে পরীক্ষার কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছে বাপেক্স।
দেশে গ্যাসের চাহিদা আর জোগানের ব্যবধান অনেক দিনের সমস্যা। পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে আসায় নতুন কূপের প্রতিটি আবিষ্কার গুরুত্ব পায়। বিদেশ থেকে আমদানি করা তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপরও দেশকে নির্ভর করতে হয়। নিজস্ব গ্যাস বাড়লে সেই নির্ভরতা কিছুটা কমতে পারে।
এখন সবার নজর কূপের পরীক্ষার ফলের দিকে। পরীক্ষা শেষ করে বাপেক্স উৎপাদনের প্রকৃত পরিমাণ জানালে বোঝা যাবে, কোম্পানীগঞ্জের এই কূপ থেকে দেশের গ্রিডে কতটা গ্যাস যুক্ত হবে। ততদিন নোয়াখালীতে নতুন গ্যাস কূপের ৭ মিলিয়ন ঘনফুটকে সম্ভাবনার হিসাব হিসেবেই দেখা ভালো। ছবিটি সিলেটের হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রের ফাইল ছবি।












