সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী দিনে বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। খেলাটি হবে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে, শুরু রাত ৮টায়। আট বছর পর বাংলাদেশে ফিরেছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই আসর। সর্বশেষ ২০১৮ সালে ঢাকায় বসেছিল এই টুর্নামেন্ট। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে শুরুটা ভালো করতে চাইবে বাংলাদেশ।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ বাংলাদেশ আছে এ গ্রুপে। এই গ্রুপের অন্য দুই দল ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। বি গ্রুপে আছে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। ভারত এই আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেরা দুই দল সেমিফাইনালে উঠবে। সেমিফাইনাল ১৪ নভেম্বর এবং ফাইনাল ১৭ নভেম্বর। বাংলাদেশের সব গ্রুপ ম্যাচ হবে জাতীয় স্টেডিয়ামে।
উদ্বোধনী দিনে দুটি ম্যাচ আছে। রাত ৮টায় বাংলাদেশ ও ভুটানের খেলা। একই দিনে আছে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচও। এরপর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ও শেষ গ্রুপ ম্যাচ ১১ নভেম্বর, রাত ৮টায়। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। মাঝের ছয় দিনে ভুটান ও শ্রীলঙ্কা নিজেদের ম্যাচ খেলবে। সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের দুই ম্যাচের স্থানই জাতীয় স্টেডিয়াম।
হিসাবটা সহজ। ফুটবলে জয়ে তিন পয়েন্ট, ড্রয়ে এক পয়েন্ট পাওয়া যায়। বাংলাদেশ দুটি ম্যাচ জিতলে ছয় পয়েন্ট পাবে, আর তখন গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ে থাকা প্রায় নিশ্চিত। ভুটানের বিপক্ষে ড্র হলে এক পয়েন্ট নিয়ে শুরু করতে হবে। তখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় ছাড়া উপায় থাকবে না। ফলে উদ্বোধনী ম্যাচের ফলই পুরো গ্রুপের চেহারা অনেকটা ঠিক করে দেবে।
ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা আছে, চাপও আছে। পরিচিত মাঠ, চেনা আবহাওয়া আর সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দলকে শক্তি দেয়। আবার প্রত্যাশার চাপও বেশি থাকে। আট বছর পর ঘরের মাটিতে এমন বড় আসর হচ্ছে, তাই দর্শকদের আগ্রহও স্বাভাবিকভাবেই বেশি। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি অনেক দিন পর দেশের মাঠে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট দেখার সুযোগ।
সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, প্রতিটি দলের জন্যই কঠিন। প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি দল এগোবে, তাই তৃতীয় স্থানে থাকা দলকে বাদ পড়তে হবে। তিন দলের গ্রুপে পয়েন্ট সমান হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কম নয়। তখন গোল ব্যবধানসহ আরও কিছু নিয়ম দেখে সেরা দুই দল ঠিক হয়। এ কারণে প্রতিটি গোলই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
গ্রুপে তিনটি দল থাকায় প্রত্যেক দল খেলবে মাত্র দুটি করে ম্যাচ। তাই প্রতিটি পয়েন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচে হোঁচট খেলে পরের ম্যাচে চাপ অনেক বেড়ে যাবে। আবার ভুটানের বিপক্ষে জিতে শুরু করলে সেমিফাইনালের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে তাই ফল কী দাঁড়ায়, তার ওপর গ্রুপের শেষ হিসাব নির্ভর করতে পারে।
মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে চাইলে টিকিট ও প্রবেশের নিয়ম আয়োজকদের ঘোষণা থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো। রাতের ম্যাচ হওয়ায় স্টেডিয়াম এলাকায় সন্ধ্যার আগেই যানজট হতে পারে। তাই হাতে সময় নিয়ে বের হওয়া ভালো। যাঁরা মাঠে যেতে পারবেন না, তাঁদের জন্য সম্প্রচারের খবর জানা যায় আয়োজকদের বিজ্ঞপ্তিতে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬ ঘিরে ঢাকার ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।












