সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় টেস্ট। পাঁচ দিনের এই ম্যাচ চলবে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন খেলা শুরু স্থানীয় সময় সকাল ১০টায়। দুই টেস্টের সিরিজে এখন এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্ট বাংলাদেশের জন্য সিরিজে টিকে থাকার লড়াই।
প্রথম টেস্ট হয়েছিল মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। ২৮ অক্টোবর শুরু হওয়া সেই ম্যাচ ১ নভেম্বর শেষ হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচটি আট উইকেটে জিতেছে। দলটির অধিনায়ক রোস্টন চেজের স্পিন আক্রমণ ও ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে চাপে ফেলেছিল। ব্র্যান্ডন কিংয়ের অপরাজিত ৮১ রান ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়কে সহজ করে দেয়। ওই হারের পর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ নিচে নেমে গেছে।
বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দলের বোলিংয়ের দুর্বলতা নিয়ে ম্যাচের পর কথা বলেছেন তিনি। ব্যাটসম্যানদের সম্পর্কে শান্ত বলেছেন, কখনো তাঁরা পেস ভালো খেলেন, কখনো স্পিন ভালো খেলেন। অর্থাৎ ধারাবাহিকতার অভাব এখনো বড় সমস্যা। মিরপুরের পরাজয়ের কারণ নিয়ে দেশের ক্রিকেট মহলে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে টেস্ট জেতার সূত্র নতুন করে ভাবার কথাও উঠছে।
টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসের ব্যর্থতা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। দুই ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ থাকায় কেউ প্রথম ইনিংসে ধস নামালেও দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। মিরপুরে বাংলাদেশ সেই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। সিলেটে তাই প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়াই সবচেয়ে জরুরি কাজ। উইকেটে সময় কাটানো, নতুন বলের প্রথম ঘণ্টা সামলানো এবং স্পিনারদের বিরুদ্ধে ধৈর্য ধরা, এই তিনটি বিষয় এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
সিলেটের উইকেট কেমন আচরণ করবে, সেটা এখন বড় প্রশ্ন। মিরপুরে স্পিনাররা বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। সিলেটেও যদি একই চিত্র দেখা যায়, তাহলে বাংলাদেশের স্পিন বিভাগের ওপর চাপ বাড়বে। আবার সিলেটে পেস বোলাররা সুবিধা পেলে ম্যাচের গতিপথ বদলে যেতে পারে। তাই দুই দলের জন্যই প্রথম দুই দিনের খেলা খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ম্যাচটি সরাসরি দেখতে চাইলে সম্প্রচারের সূচি আগে থেকে দেখে নেওয়া ভালো। পাঁচ দিনের টেস্টে ভোর থেকেই আগ্রহ থাকে। সকাল ১০টায় শুরু হওয়ায় অফিস ও পড়াশোনার ফাঁকে অনেকের জন্যই খেলার বড় অংশ দেখা কঠিন। তবে সন্ধ্যার পর হাইলাইটস আর স্কোর দেখে সারাদিনের খেলার হিসাব জেনে নেওয়া যাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের প্রথম দিনেই ম্যাচের সুর অনেকটা বোঝা যেতে পারে।
সিরিজের হিসাব পরিষ্কার। দ্বিতীয় টেস্ট জিতলে বাংলাদেশ সিরিজ সমতায় শেষ করবে। ড্র হলে সিরিজ জিতবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর হারলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হাতছাড়া হবে। সিলেটে তাই বাংলাদেশের সামনে জয়ের বিকল্প নেই বললেই চলে। ঘরের দর্শকদের সামনে দলটি কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। মিরপুরের হার ভুলে নতুন করে শুরু করাই এই দলের কাছে প্রত্যাশা। অধিনায়ক শান্তও ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতার কথা নিজেই স্বীকার করেছেন। সেই স্বীকারোক্তি কাজে পরিণত হলে সিলেটে ভিন্ন গল্প লেখা অসম্ভব নয়। অন্য দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ জিততে মরিয়া থাকবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্ট তাই পাঁচ দিনই উপভোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা আছে।












