সমকালের একটি শিরোনাম “কৃষি ও কর্মসংস্থান খাতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের”
দেশের উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি ও কর্মসংস্থান খাতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার রাত আড়াইটার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর বালুর মাঠে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘গত কয়েক বছরে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা হুমকির মুখে। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি অপরাধের বিচার দেশের প্রচলিত আইনে নিশ্চিত করা হবে। দখলবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।’
দুর্নীতি ও মাদক সমাজের প্রধান শত্রু হিসেবে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ শহর ও এর আশপাশে মাদক ব্যবসার যে বিস্তার ঘটেছে, তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’ তরুণ প্রজন্মের বেকারত্ব দূরীকরণে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু পড়াশোনা নয়, বিভিন্ন ভাষা শিক্ষা ও আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। এছাড়া ইমাম, খতিব ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও হালাল উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
কৃষি খাতের উন্নয়নে তারেক রহমান তার বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার ‘খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘নদী ও খাল দখল হয়ে যাওয়ায় কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, এই সমস্যা সমাধানে সারা দেশে জলাশয় সংস্কার করা হবে।’ এছাড়া তিনি ভেঙে পড়া রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম”পোস্টারবিহীন নির্বাচনে প্রচারের ধরনে বদল”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জমজমাট প্রচার শুরু হলেও অধিকাংশ ছাপাখানায় নেই কর্মচাঞ্চল্য। কারণ, এবারই প্রথম নির্বাচনী আচরণবিধিতে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে বদলে গেছে প্রচারের ধরনও। ব্যানার, ডিজিটাল ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, স্টিকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই হয়ে উঠেছে প্রার্থীদের প্রচারের ভরসা।
প্রার্থীদের পোস্টার নিষিদ্ধ থাকায় রাজধানীর বেশির ভাগ ছাপাখানাতেই কর্মচাঞ্চল্য নেই। গতকাল রোববার রাজধানীর ছাপাখানা পাড়া হিসেবে পরিচিত ফকিরাপুল ও আরামবাগ ঘুরে এবং মুদ্রণশিল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। একই অবস্থা নগরীর নীলক্ষেত, কাঁটাবন ও মিরপুর এলাকার ছাপাখানাগুলোতেও। সারা দেশে প্রায় একই চিত্র।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, এবার নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থীদের পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রার্থীরা শুধু লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এগুলো কোনো দালান, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ বা টেলিফোনের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনা কিংবা যানবাহনে লাগানো যাবে না। এ ছাড়া প্রচারসামগ্রীতে রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসি।
পোস্টার নিষিদ্ধ থাকায় এবার আর পাড়া-মহল্লা, অলিগলির আকাশ ঢাকা পড়েনি দড়িতে টানানো সারি সারি পোস্টারে।
ফকিরাপুল ও আরামবাগে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাতে গোনা কয়েকটি প্রেসে লিফলেট ছাপার কাজে ব্যস্ত মুদ্রণশ্রমিকেরা। কেউ নকশা করছেন, কেউ ছাপানোর, কেউ কাটিং ও প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যস্ত।
মুদ্রণশিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ায় ডিজিটাল ব্যানার ও ছোট আকারের লিফলেট ছাপার চাহিদা কিছু বেড়েছে। তবে তা-ও আশানুরূপ নয়। কারণ, লিফলেট আকারে ছোট হওয়ায় ঢাকায় না দিয়ে স্থানীয় পর্যায়েই অধিকাংশ কাজ করা হচ্ছে। ঢাকায় সীমিত কয়েকটি নির্বাচনী আসনের কাজ আসছে।
বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “আদানির সঙ্গে চুক্তি বাতিলে পরবর্তী সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে”
ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে ধরনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে তা ওই চুক্তি বাতিলের জন্য যথেষ্ট বলে জানিয়েছে চুক্তি পর্যালোচনা সংক্রান্ত কমিটি। এ চুক্তি বাতিলে সিঙ্গাপুরের সালিশি আদালতে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তারা। তবে এমন সময় এ প্রতিবেদন জমা ও সুপারিশ করা হলো যখন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ একেবারে শেষ পর্যায়ে। ফলে পর্যাপ্ত সময় না থাকায় আদানির সঙ্গে চুক্তি বাতিলে পরবর্তী সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।
কমিটির প্রধান হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বল এখন বিদ্যুৎ বিভাগের কোর্টে। মামলার বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেহেতু বর্তমান সরকারের সময় কম, আমরা চাইব পরবর্তী সরকার যেন এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেয়।’ বিলম্ব করলে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কমিটি।
গতকাল বিদ্যুৎ ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে পর্যালোচনা কমিটি। এতে আদানির চুক্তিসহ দেশের বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন কমিটির সদস্যরা। এর আগে ২০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০-এর অধীনে সম্পাদিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। এ কমিটি দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছে।
ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। বিশেষ করে চুক্তির একপেশে শর্ত, ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ ক্রয়, ক্যাপাসিটি চার্জ, শুল্কফাঁকিসহ নানা বিষয়ে অসংগতির অভিযোগ ওঠে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর আদানির বকেয়া নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হলে চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার আদানিসহ বিশেষ আইনের অধীনে সম্পাদিত চুক্তি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
মানবজমিনের একটি শিরোন “জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি”
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের ফৌজদারি দায়মুক্তি এবং আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। রোববার প্রকাশিত এক গেজেটে এ অধ্যাদশ জারি করা হয়।
অধ্যাদেশে বলা হয়, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে। যা পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি প্রদানে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন করে উপদেষ্টা পরিষদ। তখন জানা যায়, অধ্যাদেশ পরবর্তী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশ হয়ে আইনে পরিণত হবে।
ওই সময় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটি অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
সারাক্ষণ ডেস্ক 



















