ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের লক্ষ্য করে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বক্তব্যকে মানহানিকর ও মিথ্যা অভিযোগ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন সংগঠনের শিক্ষার্থীরা। রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন ডাকসু গবেষণা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্নী, সদস্য হেমা চাকমা, বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও বিপ্লবী ছাত্র ঐক্যের নেতারা। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা জামায়াত নেতার বক্তব্য প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। বিক্ষোভ চলাকালে কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয় এবং পরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে গিয়ে বিচার দাবি করেন।

যে বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক
এর আগে শনিবার রাতে নির্বাচনী প্রচারে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসান দাবি করেন, ডাকসু নির্বাচন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাকি মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল, যা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করেছে। একই বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশ থেকে অন্যায়, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দূর করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।

শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও বক্তব্য
এই বক্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন এবং একে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রীদের মর্যাদাহানিকর বলে উল্লেখ করেন। ডাকসু সদস্য হেমা চাকমা প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে একজন রাজনৈতিক নেতা প্রকাশ্য নির্বাচনী সমাবেশে এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন। তিনি বলেন, আজকের নারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকার, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মুক্তি সম্পর্কে সচেতন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা যে নারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন, তারাই আজ নিজেদের কণ্ঠ তুলে ধরছেন।
হেমা চাকমা আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ না পেলে হয়তো তিনি নিজেও আজ প্রকাশ্যে কথা বলতে পারতেন না। ডাকসুর মতো প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানকে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্র বলা হলে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বাংলাদেশ হতে পারে না।
ছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ
বক্তব্যে হেমা চাকমা অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। রাত দশটার পর মল চত্বরে যেতে নিষেধাজ্ঞা, বিকেলের পর কেন্দ্রীয় মাঠে প্রবেশে বাধা, প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং পরিচয়পত্র দেখানোর পরও হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। এসব নিপীড়নের বিরুদ্ধেই তাদের অবস্থান বলে জানান।

১৯৭১ প্রসঙ্গ টেনে সমালোচনা
আরেক ছাত্রনেতা মনোয়ার হোসেন প্রান্ত বলেন, ১৯৭১ সালে যারা হত্যা, নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে দেশের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা দমাতে চেয়েছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী একটি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। তাদের কাছ থেকে ভিন্ন কিছু প্রত্যাশা করা যায় না। ১৯৭১ সালে তারা শত্রু ছিল, আজও তারা শত্রুই রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর অবস্থান
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ওই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শামীম আহসানের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা, সুনাম, ঐতিহ্য ও সম্মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই বক্তব্যকে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে সবাইকে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















