০৪:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
স্বর্ণের দামে ঐতিহাসিক বিস্ফোরণ, পাঁচ হাজার ডলার ছুঁয়ে বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে দৌড় গ্রান্টার আয়নায় ভারত: আত্মবিশ্বাস আর সংশয়ের মাঝখানে এক সভ্যতার প্রতিচ্ছবি ট্রাম্পের “Board of Peace” নিয়ে আইনি উদ্বেগ জানাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন পিএলএ-র শীর্ষ পর্যায়ে তদন্ত শুরু, চীনের সামরিক দুর্নীতি দমন অভিযান জোরদার চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ালে কানাডায় ১০০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের লাইভ সম্প্রচারে রোপ ছাড়াই তাইপেই ১০১ আরোহণ করলেন এ্যালেক্স হোনোল্ড বান্নুতে পুলিশ ভ্যানে হামলা ব্যর্থ, দুই জঙ্গি নিহত পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা’—নরসিংদীতে গ্যারেজকর্মী চঞ্চল ভৌমিকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ সন্দেহে ফ্রান্সে আটক ভারতীয় জাহাজ অধিনায়ক আদালত চত্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, গ্রেপ্তার পাঁচজন

দক্ষিণ কোরিয়ায় তীব্র শীতের দাপট, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে শত শত পরিবার হিমশীতল অন্ধকারে

দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ভয়াবহ ঠান্ডার মধ্যে রাজধানী সিউলসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শত শত পরিবার দীর্ঘ সময় গরমের ব্যবস্থা ছাড়া থাকতে বাধ্য হয়েছে। হিমাঙ্কের অনেক নিচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রায় এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস
কোরিয়ার আবহাওয়া প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত পঁচিশ জানুয়ারি দেশজুড়ে সকালের তাপমাত্রা গড়ে মাইনাস দশ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করেছে। প্রবল বাতাসের কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও কমে যায়। সিউলে ওই দিন সকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে মাইনাস এগারো ডিগ্রিতে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই শীতের দাপট আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে এবং অনেক এলাকায় ভোরের তাপমাত্রা মাইনাস দশ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকবে।

South Korea to double energy vouchers amid soaring bills, cold wave |  Reuters

বয়স্ক ও শিশুদের জন্য সতর্কবার্তা
দীর্ঘস্থায়ী ঠান্ডা ও আকস্মিক তাপমাত্রা পতনের কারণে আবহাওয়া দপ্তর বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। বয়স্ক মানুষ, ছোট শিশু এবং যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাড়তি যত্ন নিতে বলা হয়েছে।

South Korea, Japan, China gripped by coldest snap of season - Nikkei Asia

সিউলের গুরো জেলায় দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট
তীব্র শীতের মধ্যেই সিউলের পশ্চিমাঞ্চলের গুরো জেলায় দুটি আবাসিক ভবনে বিদ্যুৎ চলে যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় উনিশ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিলেন নয় শতাধিক পরিবারের বাসিন্দারা। তেইশ জানুয়ারি রাত সাড়ে নয়টার দিকে একটি ভবনের বেজমেন্টে বৈদ্যুতিক কক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় এই বিপর্যয় ঘটে। বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো রাত ঘরের ভেতর হিমশীতল পরিবেশে কাটাতে হয় বাসিন্দাদের।

হিমশীতল রাতে আতঙ্ক ও ভোগান্তি
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গরমের সব ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। ওই রাতেই সিউলে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস এগারো ডিগ্রি। একজন বাসিন্দা জানান, কম্বলের নিচে গরম প্যাক ব্যবহার করেও ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি। একই সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় একটি লিফটে আটকে পড়া দুজনকে দমকল বাহিনী উদ্ধার করে।

ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, লক্ষাধিক গ্রাহক  অন্ধকারে

বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার ও সাময়িক আশ্রয়
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। কোরিয়া বিদ্যুৎ করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যন্ত্রপাতি বদল ও নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে চব্বিশ জানুয়ারি বিকেল চারটা চুয়ান্ন মিনিটে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরিয়ে আনে। গুরো জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব বাসিন্দা অস্থায়ীভাবে কমিউনিটি সেন্টার ও প্রবীণ কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর তারা ধীরে ধীরে বাড়িতে ফেরেন।

গিয়ংগি প্রদেশে আরেকটি ঘটনা
এদিকে গিয়ংগি প্রদেশের উইজংবু এলাকায় প্রায় আটশ ষাট পরিবারের একটি আবাসিক এলাকায়ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। চব্বিশ জানুয়ারি গভীর রাতে একটি ট্রান্সফরমারের ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ ফিরলেও শীতের মধ্যে গরমের ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

শীতকালীন ঝড়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন দেড় লাখের বেশি মার্কিনি | International |  FT | The National Financial Portal

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বর্ণের দামে ঐতিহাসিক বিস্ফোরণ, পাঁচ হাজার ডলার ছুঁয়ে বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে দৌড়

দক্ষিণ কোরিয়ায় তীব্র শীতের দাপট, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে শত শত পরিবার হিমশীতল অন্ধকারে

০২:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ভয়াবহ ঠান্ডার মধ্যে রাজধানী সিউলসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শত শত পরিবার দীর্ঘ সময় গরমের ব্যবস্থা ছাড়া থাকতে বাধ্য হয়েছে। হিমাঙ্কের অনেক নিচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রায় এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস
কোরিয়ার আবহাওয়া প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত পঁচিশ জানুয়ারি দেশজুড়ে সকালের তাপমাত্রা গড়ে মাইনাস দশ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করেছে। প্রবল বাতাসের কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও কমে যায়। সিউলে ওই দিন সকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে মাইনাস এগারো ডিগ্রিতে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই শীতের দাপট আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে এবং অনেক এলাকায় ভোরের তাপমাত্রা মাইনাস দশ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকবে।

South Korea to double energy vouchers amid soaring bills, cold wave |  Reuters

বয়স্ক ও শিশুদের জন্য সতর্কবার্তা
দীর্ঘস্থায়ী ঠান্ডা ও আকস্মিক তাপমাত্রা পতনের কারণে আবহাওয়া দপ্তর বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। বয়স্ক মানুষ, ছোট শিশু এবং যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাড়তি যত্ন নিতে বলা হয়েছে।

South Korea, Japan, China gripped by coldest snap of season - Nikkei Asia

সিউলের গুরো জেলায় দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট
তীব্র শীতের মধ্যেই সিউলের পশ্চিমাঞ্চলের গুরো জেলায় দুটি আবাসিক ভবনে বিদ্যুৎ চলে যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় উনিশ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিলেন নয় শতাধিক পরিবারের বাসিন্দারা। তেইশ জানুয়ারি রাত সাড়ে নয়টার দিকে একটি ভবনের বেজমেন্টে বৈদ্যুতিক কক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় এই বিপর্যয় ঘটে। বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো রাত ঘরের ভেতর হিমশীতল পরিবেশে কাটাতে হয় বাসিন্দাদের।

হিমশীতল রাতে আতঙ্ক ও ভোগান্তি
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গরমের সব ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। ওই রাতেই সিউলে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস এগারো ডিগ্রি। একজন বাসিন্দা জানান, কম্বলের নিচে গরম প্যাক ব্যবহার করেও ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি। একই সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় একটি লিফটে আটকে পড়া দুজনকে দমকল বাহিনী উদ্ধার করে।

ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, লক্ষাধিক গ্রাহক  অন্ধকারে

বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার ও সাময়িক আশ্রয়
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। কোরিয়া বিদ্যুৎ করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যন্ত্রপাতি বদল ও নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে চব্বিশ জানুয়ারি বিকেল চারটা চুয়ান্ন মিনিটে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরিয়ে আনে। গুরো জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব বাসিন্দা অস্থায়ীভাবে কমিউনিটি সেন্টার ও প্রবীণ কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর তারা ধীরে ধীরে বাড়িতে ফেরেন।

গিয়ংগি প্রদেশে আরেকটি ঘটনা
এদিকে গিয়ংগি প্রদেশের উইজংবু এলাকায় প্রায় আটশ ষাট পরিবারের একটি আবাসিক এলাকায়ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। চব্বিশ জানুয়ারি গভীর রাতে একটি ট্রান্সফরমারের ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ ফিরলেও শীতের মধ্যে গরমের ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

শীতকালীন ঝড়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন দেড় লাখের বেশি মার্কিনি | International |  FT | The National Financial Portal