রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ
রোববার বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে পুঠিয়ার পল্লাপুকুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাস ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দিলে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

নিহতদের পরিচয়
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শান্ত ইসলাম। তিনি রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। শান্ত ইসলাম পুঠিয়া উপজেলার বারিপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।
অন্য দুই নিহত একজন পুরুষ ও একজন নারী, বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহত ও চিকিৎসা
দুর্ঘটনায় আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
পবা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক কাজী জানান, অটোরিকশাটি পুঠিয়ার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাস সেটিকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই শান্ত ইসলাম নিহত হন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।

সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। তারা বাসচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পুলিশকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসচালককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় তারা বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও এক উপপরিদর্শককে আটকে রাখেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে উপপরিদর্শককে কান ধরে দাঁড় করিয়েও রাখা হয়।
সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ
প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পুলিশ সদস্যরা অবরুদ্ধ থাকার পর রাত সাড়ে নয়টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের মুক্ত করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















