রাজনীতি ও স্থানীয় সরকারে নারী নেতৃত্বকে সমর্থন করে জামায়াতে ইসলামী—এ কথা আবারও স্পষ্ট করেছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি গ্রামীণ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করাই দলের নীতিগত অবস্থান।
বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাখ্যা
ডা. শফিকুর রহমান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অবস্থান নিয়ে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচার মোকাবিলায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, জামায়াতের ঘোষণাপত্র শুরু থেকেই স্পষ্ট। শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যখাত, প্রশাসন, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও জনসেবায় নারীর সক্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দল অঙ্গীকারবদ্ধ।
শিক্ষা থেকে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি
তার ভাষায়, কন্যাশিশুদের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা, নিরাপদ ক্যাম্পাস, হয়রানির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা, প্রতিটি জেলায় নারী-কেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা, সমান মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শিশু যত্নের সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সম্মানজনক কর্মসংস্থান—এসবই জামায়াতের দীর্ঘদিনের নীতি। তিনি বলেন, এগুলো নতুন কোনো ঘোষণা নয়; মাস কয়েক আগেই তিনি এসব নীতি প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে নীতি সম্মেলনেও তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
গুজব নয়, দীর্ঘমেয়াদি দর্শন
ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব বা চাপের প্রতিক্রিয়ায় নয়, বরং ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি দর্শনের অংশ হিসেবেই এসব অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, রেকর্ড, নীতি ও ঘোষণাপত্র দিয়েই তাকে বিচার করতে।
ঘোষণাপত্র প্রকাশের ঘোষণা
আগামী তিন ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হবে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সেখানে নারীর নিরাপদ শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ, নারী-কেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা, শক্ত আইনি সুরক্ষা, অর্থনৈতিক মর্যাদা ও বাস্তব নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। তার মতে, যে বাংলাদেশ নারীকে সম্মান করে, সেই বাংলাদেশই এগিয়ে যায়—এটাই তারা গড়তে চান।
বিতর্ক ও প্রতিবাদ
এদিকে, শফিকুর রহমানের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। ওই পোস্টের ভাষা নিয়ে সমালোচনার পর রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একটি প্রতিবাদ মিছিল করে। সংগঠনটি নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















