লেবাননের রাজধানী বৈরুতে এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলো যুদ্ধবিরতির পর, শহরের আকাশে ইসরায়েলি ড্রোনের আওয়াজ থেমে নেই। শহরের বাসিন্দারা এখন এই মেশিনির মতো ঘূর্ণনশব্দকে জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিয়েছেন। ড্রোনের গুঞ্জন প্রতিদিনের কথা, পারিবারিক ভোজন, প্রেমের প্রথম দেখা, ছাদে পার্টি, ক্লাসরুমে পাঠদান কিংবা সৈকতে খেলার মাঝেও বিরক্তিকর উপস্থিতি হিসেবে বিরাজ করছে। এই আওয়াজ শহরের প্রতিটি কোণে নাগরিকদের মনে এক অদৃশ্য যুদ্ধের অনুভূতি তৈরি করছে।
ড্রোনের ঘূর্ণনশব্দ ঘন্টা ঘন্টা ধরে বৈরুতে অস্থিরতার ছাপ ফেলে। শহরের সাধারণ মানুষ এখনও আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে, যেন এই আওয়াজই যুদ্ধের স্মারক। যুদ্ধবিরতির পরেও ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন অভিযান বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে। অনেকেই ভাবছেন—এই যুদ্ধ কি সত্যিই শেষ হয়েছে? এই ভয় এবং অনিশ্চয়তা এখনো শহরের মানুষকে প্রভাবিত করছে।
রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে খাদ্য বিতরণকারী মাইহার ইউনেস বলেন, ড্রোন আকাশে উঠলেই তার ফোনের জিপিএস বিকল হয়ে যায়, আর তাকে পথ জিজ্ঞেস করতে হয়। দোকানের মালিক আলি সালমান বলেন, ড্রোনের আওয়াজ শুনলেই তার স্ত্রী ও ছেলের কথা মনে পড়ে, নিজের দেশে কেউ নজর রাখছে—এমন অনুভূতি তাকে শান্ত থাকতে দেয় না।
শিল্পী ও ডি. জে. মোহামেদ চকাইর ড্রোনের আওয়াজকে সঙ্গীতে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ড্রোনের শব্দ তাকে সৃষ্টিশীলতার নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে। অন্যদিকে শিশুদের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক চালানো নুরা সাহিলি জানান, ড্রোনের আওয়াজ শিশুদের স্কুল যাওয়া, খেলাধুলা এবং হোমওয়ার্কের সময় মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটায়।

ড্রোন, যা দিনের পর দিন বৈরুতের আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং কখনো কখনো হাস্যরস ও জীবনের বাস্তবতায় মিশে যাচ্ছে, শহরটিকে যুদ্ধবিরতির পরও অস্থিরতার ছায়ায় আবৃত রাখছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















