প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম টেলিভিশন ভাষণে দেশের নাগরিকদের সমান অধিকার, শান্তি ও নিরাপত্তার অঙ্গীকার করেছেন। বুধবার প্রথম কার্যদিবস শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দেন এবং সরকারের অগ্রাধিকার নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন।
সমান অধিকার ও শান্তির প্রতিশ্রুতি
তারেক রহমান বলেন, “রাজ্য সকলের। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, ধর্ম বা মতবাদ নির্বিশেষে প্রতিটি বাংলাদেশি সমান অধিকার ভোগ করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি, সাংবিধানিক ও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানগুলো নিরপেক্ষভাবে আইন অনুসারে পরিচালিত হবে। “আইনের শাসনই রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বশেষ কর্তৃত্ব,” তিনি বলেন। জুয়া ও মাদককে আইন শৃঙ্খলার প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে তার সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
রমজান ও বাজার নিয়ন্ত্রণ
রমজান মাস শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জাতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই সময় জনগণের উপর অতিরিক্ত বোঝা না বাড়া উচিত। ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “রমজানকে শুধু মুনাফার মাস হিসেবে দেখবেন না। অপরিহার্য পণ্যের দাম সাশ্রয়ী রাখতে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে।” গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার নির্দেশও দেন তিনি।
নগর জনসংখ্যা ও পরিবহন সংস্কার
শহরাঞ্চলের ঘনত্ব কমাতে রেল, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন করে নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও সহজ পরিবহন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এতে নগর নির্ভরতা কমবে এবং পরিবেশ উন্নত হবে।
যুবশক্তি ও কর্মসংস্থান
দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারের জন্য প্রস্তুত হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রতিটি নাগরিককে তার ক্ষেত্রে দক্ষ হতে হবে।” শিক্ষার্থী ও যুবদের সমর্থন দিয়ে কর্মসংস্থান ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তারেক রহমান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য শহীদদের ত্যাগ স্মরণ করে বলেন, “গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের ইচ্ছায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—পাহাড়ি হোক বা সমতল, এই দেশ সকলের। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত বাংলাদেশ তৈরি করা।”
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















