চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাই ও মবসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে এখন থেকে সরাসরি গ্রেপ্তার করা যাবে। আইন মেনে মাঠের পুলিশ কর্মকর্তারা নিজ দায়িত্বে অভিযুক্তদের আটক করতে পারবেন, কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি লাগবে না।
আইজিপি বাহারুল আলম রোববার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব নির্দেশ দেন। বৈঠকে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশকে কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধ দমনে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।

নতুন সরকারের গঠনের পর মাঠ প্রশাসনের আইন প্রয়োগকে আরও কার্যকর করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে একজন কর্মকর্তা জানান, কিছু থানায় লটারি পদ্ধতিতে ওসি পদায়ন হওয়ায় দক্ষতার ঘাটতি দেখা দেয়। ফেব্রুয়ারি শেষের পর থেকে ওসিদের যোগ্যতা অনুযায়ী পদায়ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল বিভাগের দুটি জেলার এসপি জানান, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে কিছুজন সশস্ত্র গানম্যান চেয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের স্বাভাবিকভাবে গানম্যান দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বৈঠকে মাঠে আইজিপি বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার এবং মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আইজিপি বলেন, যেকোনো মূল্যে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক বা রাজনৈতিক দলের নিষিদ্ধ কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। মহাসড়কে ডাকাতি রোধে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশকে সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নীতিমালা অনুসারে সশস্ত্র গানম্যান বা রিটেইনার নিয়োগ এবং সীমিত সময়ের আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স পেতে পারছেন। নির্বাচনের পর ওসিদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হচ্ছে।
পুলিশের নতুন পোশাক নিয়েও বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন তাদের মতামত জানাবে। কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুজ্জামান জানান, নতুন পোশাক সাধারণ নিরাপত্তারক্ষীর পোশাকের মতো হওয়ায় মনোবল ধরে রাখা কঠিন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















