ফ্রান্সের লিয়ন শহরে এক জাতীয়তাবাদী কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শনিবার ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ডাকে আয়োজিত মিছিলে প্রায় তিন হাজার মানুষ অংশ নেন। আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিভাজন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
২৩ বছর বয়সী কুয়েন্টিন দেরাঁক গত সপ্তাহে মারধরের পর গুরুতর মস্তিষ্কে আঘাতে হাসপাতালে মারা যান। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শোক ও সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি স্মরণ ও শ্রদ্ধার মুহূর্ত—প্রথমে নিহত তরুণ ও তার পরিবারের প্রতি সম্মান জানানো জরুরি, পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণও প্রয়োজন।
ঘটনার পটভূমি
তদন্ত অনুযায়ী, একটি ছাত্রসমাবেশের বাইরে ডান ও বামপন্থী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দেরাঁক আক্রান্ত হন। ওই সমাবেশে বামপন্থী এক আইনপ্রণেতা বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান চালায়।
লিয়নের পাবলিক প্রসিকিউটর কার্যালয় জানায়, সাতজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, গুরুতর সহিংসতা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনার আবেদন করা হয়েছে।
সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে তিনি মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহিংস গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে কিছু সংগঠন ভেঙে দেওয়ার কথাও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ম্যাক্রোঁ বলেন, প্রজাতন্ত্রে কোনো ধরনের সহিংসতার বৈধতা নেই এবং কোনো মিলিশিয়া বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর স্থান নেই।
ফ্রান্সে নির্বাচনের আগে এই ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সহিংসতা রোধ ও জনআস্থা ধরে রাখতে সরকারের দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















