লন্ডন থেকে রিপোর্ট: ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কূটনীতি জগতে নতুন এক কেলেঙ্কারি আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রাক্তন যুক্তরাজ্য রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে লন্ডন পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দুর্নীতি ও অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। গ্রেফতারি অভিযান ঘটেছে জেফরি এপস্টেইনের সাথে তার সম্পর্কের তথ্য প্রকাশের পর।
পুলিশি তদন্ত ও গ্রেফতার
৭২ বছর বয়সী ম্যান্ডেলসনকে সোমবার লন্ডনের ক্যামডেন এলাকার তার বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। ম্যান্ডেলসন এই সময় মিশ্র বেসামরিক পোশাক পরিহিত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা যায়, যারা বডি ক্যামেরা ধারণ করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারের অর্থ অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সন্দেহ, কিন্তু তা দোষী সাব্যস্তের নির্দেশ নয়।
এপস্টেইনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রকাশ
মার্চ মাসে প্রকাশিত আমেরিকার বিচার বিভাগের ইমেইল প্রমাণে দেখা গেছে, ম্যান্ডেলসন এবং এপস্টেইনের সম্পর্ক জনসাধারণের জানা থেকে অনেক গভীর ছিল। ২০০৯ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন সরকারের সময় ম্যান্ডেলসন মন্ত্রী হিসেবে থাকাকালীন এপস্টেইনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করেছেন।
ম্যান্ডেলসন সম্প্রতি স্টার্মারের লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্যপদও ছেড়েছেন। তিনি আগে বলেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের জন্য তিনি গভীরভাবে অনুতপ্ত। তবে নতুন তথ্য প্রকাশের পর তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।

স্টার্মারের পদচারণা ও চাপ
ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারকে কঠিন সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। সংসদে তার ভেরিফিকেশন সম্পর্কিত নথি প্রকাশের নির্দেশের পর জনসাধারণের চাপ আরও বাড়ছে। একটি মন্ত্রী জানিয়েছেন, মার্চের প্রথম দিকে প্রথম নথি প্রকাশিত হবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ার ও বিতর্ক
ম্যান্ডেলসন ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে টনি ব্লেয়ারের নিউ লেবার প্রকল্পের অন্যতম প্রধান নকশাকারী হিসেবে পরিচিত। তবে ১৯৯৮ এবং ২০০১ সালে দুটি বড় বিতর্কে তিনি ক্যাবিনেট থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর ২০০৮ থেকে ২০১০ পর্যন্ত ব্রাউনের সরকারের মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন এবং ২০২৪ সালের শেষ দিকে স্টার্মার তাকে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত করেন।
তার রাষ্ট্রদূত নিযুক্তি শুরুতে একটি কৌশলী পদক্ষেপ মনে হলেও কয়েক মাসের মধ্যে এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রকাশের পর তাকে বরখাস্ত করা হয়। স্টার্মার বলেছেন, ভেরিফিকেশনের সময় ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃত অবস্থার তথ্য গোপন করেছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















