রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় সাংবাদিক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে চার পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযুক্তদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি
সোমবার গভীর রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ মাসুদ আলম। অভিযানের সময় দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সাংবাদিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলের একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়।

প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা
রমনা বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগে জড়িত চার পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আরও দুই থেকে তিনজন সদস্যের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। তাদের বিরুদ্ধেও প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। তারা উপকমিশনারের অপসারণ এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের দাবি, দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিক ও নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তদন্তের আশ্বাস
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে যা উঠে আসবে, সে অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় পুলিশি আচরণ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















