ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য অমর একুশে বইমেলাকে ঘিরে কোনো ধরনের মব সহিংসতার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন।
নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা
বুধবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মো. সারওয়ার বলেন, বইমেলাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের জনতা সহিংসতার আশঙ্কা নেই। তবুও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
বাংলা একাডেমি আয়োজিত এবারের বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশে বহুস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উসকানিমূলক বই ঠেকাতে নজরদারি
ধর্ম অবমাননাকর বা উসকানিমূলক বই প্রদর্শনের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কঠোর নজরদারি চালাবে যাতে এ ধরনের কোনো প্রকাশনা মেলায় প্রবেশ করতে না পারে।
মেলা এলাকায় ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা বলয়
মেলা প্রাঙ্গণে একটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। মেলা এলাকা ও আশপাশে প্রায় ৩০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
প্রবেশপথগুলোতে ধাতব অনুসন্ধান যন্ত্র ও আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে। নিয়মিত ডগ স্কোয়াড তল্লাশি চালাচ্ছে।

এছাড়া বিশেষায়িত ইউনিট যেমন সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, সন্ত্রাসবিরোধী ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ ইউনিট এবং গোয়েন্দা বিভাগ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ সুবিধা
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেলায় হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য হেল্প সেন্টার, শিশু যত্নকেন্দ্র, স্তন্যদান কর্নার, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা ও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রয়েছে।
যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা
বইমেলা চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানজট কমাতে ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ ডাইভারশন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ভারী যানবাহন ওই এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। দর্শনার্থীর চাপ অনুযায়ী টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর সড়ক সাময়িকভাবে খোলা বা বন্ধ রাখা হতে পারে।

মেলা গেটের সামনে গাড়ির জন্য অপেক্ষা না করে কিছুটা দূরে নেমে হেঁটে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অননুমোদিত স্থানে গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বাংলা একাডেমির আশ্বাস
বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এবারের অমর একুশে বইমেলা আরও সুশৃঙ্খল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ পরিবেশে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে। এবার সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রকাশক অংশ নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বইমেলার উদ্বোধন করবেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















