০৯:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ইরানের দোরগোড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক সমাবেশ, বহু সপ্তাহের আকাশ অভিযান কি আসন্ন? ইরানের সঙ্গে সন্দেহজনক লেনদেন, অনুসন্ধান করেই শাস্তি পেলেন ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা নিঃশব্দ গ্যাস লিক, প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ: তিন দিনে চার জেলায় মৃত্যু-আতঙ্ক কারাগার থেকে হাসপাতালে ইমরান খান, চোখের চিকিৎসায় দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন, স্থিতিশীল শারীরিক অবস্থা কীভাবে জামায়াতকে হারানো হয়েছে, দেশবাসী সবই জানে: রফিকুল ইসলাম খান রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন ও গ্রেপ্তারের দাবি এনসিপির, শপথ ভঙ্গের অভিযোগও তুলল জামায়াত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গভর্নর পরিবর্তন বৃহত্তর প্রশাসনিক রদবদলের অংশ: মন্ত্রী খসরু সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি সম্পাদক পরিষদের রমজানে ব্রণ ও চুল পড়া রুখতে চাইলে এখনই বদলান অভ্যাস রাষ্ট্রগঠনে দৃষ্টিভঙ্গিই শক্তি, পরীক্ষানিরীক্ষা নয়—সংযুক্ত আরব আমিরাতের উন্নয়ন মডেলের ভিতরকার শক্তির গল্প

কীভাবে জামায়াতকে হারানো হয়েছে, দেশবাসী সবই জানে: রফিকুল ইসলাম খান

কীভাবে জামায়াতে ইসলামিকে পরাজিত করা হয়েছে, তা দেশের মানুষ ভালোভাবেই জানে— এমন মন্তব্য করেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি দাবি করেন, সর্বশেষ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, কিন্তু ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে অন্য প্রার্থীর পক্ষে। তার ভাষায়, “নির্বাচনে কী ঘটেছে, তা জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে।”

পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও নেতৃত্বশূন্য করার অভিযোগ

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, কোনো আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিকে দমন-পীড়ন, হত্যা বা ফাঁসির মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো পরিকল্পিত ঘটনার মাধ্যমে জামায়াতকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দলটির শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হলেও জামায়াত বিলীন হয়নি; বরং সাম্প্রতিক নির্বাচনে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় নিহতদের স্মরণ এবং বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: শুধু বিদ্রোহ নয়, পরিকল্পিত নৃশংসতা?

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, পিলখানার ঘটনাকে সাধারণ হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যেখানে অল্পসংখ্যক সেনা কর্মকর্তা শহীদ হয়েছিলেন এবং উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তা নিহত হননি, সেখানে পিলখানায় দুদিনব্যাপী ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। তার দাবি, তথাকথিত ‘ডালভাত কর্মসূচি’র সঙ্গে ওই কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন না, তবুও তাদের হত্যা করা হয়েছে।

সরকার ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

তিনি প্রশ্ন তোলেন, হত্যাকাণ্ড চলাকালে সরকার কী ভূমিকা পালন করেছিল। নিহতদের পরিবারের আর্তনাদের সময় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তিনি সমালোচনা করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার বক্তব্য, ঘটনার সময় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব থেকেই সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, শুধুমাত্র ‘ডালভাতের সমস্যা’কে কেন্দ্র করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে না। তার দাবি, এর পেছনে ছিল বৃহত্তর পরিকল্পনা— দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা।

রহস্য উদঘাটন ও বিচার দাবির আহ্বান

সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটিত হয়নি। তার অভিযোগ, তৎকালীন সরকার কিংবা পরবর্তী অন্তর্বর্তী প্রশাসন কেউই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জনগণের সামনে প্রকাশ করেনি।

তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান। তার মতে, সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে। পাশাপাশি ঘটনার পর যেসব কর্মকর্তা অস্বাভাবিকভাবে পদোন্নতি পেয়েছেন, তাদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের দোরগোড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক সমাবেশ, বহু সপ্তাহের আকাশ অভিযান কি আসন্ন?

কীভাবে জামায়াতকে হারানো হয়েছে, দেশবাসী সবই জানে: রফিকুল ইসলাম খান

০৭:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কীভাবে জামায়াতে ইসলামিকে পরাজিত করা হয়েছে, তা দেশের মানুষ ভালোভাবেই জানে— এমন মন্তব্য করেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি দাবি করেন, সর্বশেষ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, কিন্তু ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে অন্য প্রার্থীর পক্ষে। তার ভাষায়, “নির্বাচনে কী ঘটেছে, তা জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে।”

পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও নেতৃত্বশূন্য করার অভিযোগ

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, কোনো আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিকে দমন-পীড়ন, হত্যা বা ফাঁসির মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো পরিকল্পিত ঘটনার মাধ্যমে জামায়াতকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দলটির শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হলেও জামায়াত বিলীন হয়নি; বরং সাম্প্রতিক নির্বাচনে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় নিহতদের স্মরণ এবং বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: শুধু বিদ্রোহ নয়, পরিকল্পিত নৃশংসতা?

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, পিলখানার ঘটনাকে সাধারণ হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যেখানে অল্পসংখ্যক সেনা কর্মকর্তা শহীদ হয়েছিলেন এবং উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তা নিহত হননি, সেখানে পিলখানায় দুদিনব্যাপী ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। তার দাবি, তথাকথিত ‘ডালভাত কর্মসূচি’র সঙ্গে ওই কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন না, তবুও তাদের হত্যা করা হয়েছে।

সরকার ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

তিনি প্রশ্ন তোলেন, হত্যাকাণ্ড চলাকালে সরকার কী ভূমিকা পালন করেছিল। নিহতদের পরিবারের আর্তনাদের সময় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তিনি সমালোচনা করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার বক্তব্য, ঘটনার সময় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব থেকেই সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, শুধুমাত্র ‘ডালভাতের সমস্যা’কে কেন্দ্র করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে না। তার দাবি, এর পেছনে ছিল বৃহত্তর পরিকল্পনা— দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা।

রহস্য উদঘাটন ও বিচার দাবির আহ্বান

সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটিত হয়নি। তার অভিযোগ, তৎকালীন সরকার কিংবা পরবর্তী অন্তর্বর্তী প্রশাসন কেউই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জনগণের সামনে প্রকাশ করেনি।

তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান। তার মতে, সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে। পাশাপাশি ঘটনার পর যেসব কর্মকর্তা অস্বাভাবিকভাবে পদোন্নতি পেয়েছেন, তাদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।