০২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামলা বন্ধে সম্মত হিজবুল্লাহ, বৈরুত নিয়ে নতুন সমঝোতা ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপে উত্তেজনা, বৈরুত হামলা ঠেকাতে কড়া বার্তা ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগ দাবিতে টানা বিক্ষোভ এক বছর পেরোলেও কার্যকর হয়নি হিটু শেখের ফাঁসি, অপেক্ষায় আছিয়ার পরিবার ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপ নিয়ে তোলপাড়, লেবাননে হামলায় ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট চট্টগ্রামের হালিশহর বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস চীনের সামরিক-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এনভিডিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপের চাহিদা বাড়ছে সাংবাদিকদের ওপর হামলা-হুমকি উদ্বেগজনক, মে মাসে নির্যাতনের শিকার ৫৫ জন ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৫ এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও ইন্টারনেট বাধ্যতামূলক, কড়াকড়ি নজরদারির নির্দেশ

কীভাবে জামায়াতকে হারানো হয়েছে, দেশবাসী সবই জানে: রফিকুল ইসলাম খান

কীভাবে জামায়াতে ইসলামিকে পরাজিত করা হয়েছে, তা দেশের মানুষ ভালোভাবেই জানে— এমন মন্তব্য করেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি দাবি করেন, সর্বশেষ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, কিন্তু ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে অন্য প্রার্থীর পক্ষে। তার ভাষায়, “নির্বাচনে কী ঘটেছে, তা জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে।”

পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও নেতৃত্বশূন্য করার অভিযোগ

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, কোনো আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিকে দমন-পীড়ন, হত্যা বা ফাঁসির মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো পরিকল্পিত ঘটনার মাধ্যমে জামায়াতকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দলটির শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হলেও জামায়াত বিলীন হয়নি; বরং সাম্প্রতিক নির্বাচনে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় নিহতদের স্মরণ এবং বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: শুধু বিদ্রোহ নয়, পরিকল্পিত নৃশংসতা?

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, পিলখানার ঘটনাকে সাধারণ হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যেখানে অল্পসংখ্যক সেনা কর্মকর্তা শহীদ হয়েছিলেন এবং উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তা নিহত হননি, সেখানে পিলখানায় দুদিনব্যাপী ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। তার দাবি, তথাকথিত ‘ডালভাত কর্মসূচি’র সঙ্গে ওই কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন না, তবুও তাদের হত্যা করা হয়েছে।

সরকার ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

তিনি প্রশ্ন তোলেন, হত্যাকাণ্ড চলাকালে সরকার কী ভূমিকা পালন করেছিল। নিহতদের পরিবারের আর্তনাদের সময় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তিনি সমালোচনা করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার বক্তব্য, ঘটনার সময় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব থেকেই সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, শুধুমাত্র ‘ডালভাতের সমস্যা’কে কেন্দ্র করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে না। তার দাবি, এর পেছনে ছিল বৃহত্তর পরিকল্পনা— দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা।

রহস্য উদঘাটন ও বিচার দাবির আহ্বান

সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটিত হয়নি। তার অভিযোগ, তৎকালীন সরকার কিংবা পরবর্তী অন্তর্বর্তী প্রশাসন কেউই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জনগণের সামনে প্রকাশ করেনি।

তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান। তার মতে, সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে। পাশাপাশি ঘটনার পর যেসব কর্মকর্তা অস্বাভাবিকভাবে পদোন্নতি পেয়েছেন, তাদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামলা বন্ধে সম্মত হিজবুল্লাহ, বৈরুত নিয়ে নতুন সমঝোতা

কীভাবে জামায়াতকে হারানো হয়েছে, দেশবাসী সবই জানে: রফিকুল ইসলাম খান

০৭:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কীভাবে জামায়াতে ইসলামিকে পরাজিত করা হয়েছে, তা দেশের মানুষ ভালোভাবেই জানে— এমন মন্তব্য করেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি দাবি করেন, সর্বশেষ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, কিন্তু ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে অন্য প্রার্থীর পক্ষে। তার ভাষায়, “নির্বাচনে কী ঘটেছে, তা জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে।”

পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও নেতৃত্বশূন্য করার অভিযোগ

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, কোনো আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিকে দমন-পীড়ন, হত্যা বা ফাঁসির মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো পরিকল্পিত ঘটনার মাধ্যমে জামায়াতকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দলটির শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হলেও জামায়াত বিলীন হয়নি; বরং সাম্প্রতিক নির্বাচনে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় নিহতদের স্মরণ এবং বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: শুধু বিদ্রোহ নয়, পরিকল্পিত নৃশংসতা?

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, পিলখানার ঘটনাকে সাধারণ হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যেখানে অল্পসংখ্যক সেনা কর্মকর্তা শহীদ হয়েছিলেন এবং উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তা নিহত হননি, সেখানে পিলখানায় দুদিনব্যাপী ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। তার দাবি, তথাকথিত ‘ডালভাত কর্মসূচি’র সঙ্গে ওই কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন না, তবুও তাদের হত্যা করা হয়েছে।

সরকার ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

তিনি প্রশ্ন তোলেন, হত্যাকাণ্ড চলাকালে সরকার কী ভূমিকা পালন করেছিল। নিহতদের পরিবারের আর্তনাদের সময় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তিনি সমালোচনা করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার বক্তব্য, ঘটনার সময় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব থেকেই সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, শুধুমাত্র ‘ডালভাতের সমস্যা’কে কেন্দ্র করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে না। তার দাবি, এর পেছনে ছিল বৃহত্তর পরিকল্পনা— দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা।

রহস্য উদঘাটন ও বিচার দাবির আহ্বান

সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটিত হয়নি। তার অভিযোগ, তৎকালীন সরকার কিংবা পরবর্তী অন্তর্বর্তী প্রশাসন কেউই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জনগণের সামনে প্রকাশ করেনি।

তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান। তার মতে, সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে। পাশাপাশি ঘটনার পর যেসব কর্মকর্তা অস্বাভাবিকভাবে পদোন্নতি পেয়েছেন, তাদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।