০২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফা বৈঠক: জেনেভায় আশাবাদের বার্তা, চুক্তির ইঙ্গিত তেহরানের গুগলের সার্চ ফলাফলে বড় পরিবর্তন, ইউরোপীয় জরিমানা এড়াতে নতুন পরীক্ষা শুরু অ্যাস্টন মার্টিনে বড় ছাঁটাই, মার্কিন শুল্ক ও চীনা চাহিদা ধাক্কায় ২০ শতাংশ কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক নীতিতে বড় পরিবর্তন, কিছু দেশের জন্য হার ১৫ শতাংশ বা তারও বেশি কোলোম্বিয়ায় কে-পপ জোয়ার, বোগোতার নাচঘরে শুরু হওয়া স্বপ্ন এখন বৈশ্বিক মঞ্চে নোয়াখালীর হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসুদের গাড়িবহরে হামলা, নাহিদের তীব্র নিন্দা ও তদন্তের দাবি রাউজানে বাজারে বসা অবস্থায় গুলিতে নিহত মজিব ভাণ্ডারী, আতঙ্কে পুরো এলাকা বরিশাল আদালত কাণ্ডে কড়া বার্তা, অবমাননার রুল জারি ও মামলা: গ্রেপ্তার শুরু মোদি–নেতানিয়াহু বৈঠকে কৌশলগত সমীকরণ, ইসরায়েল সফরে নতুন গতি ভারত–ইসরায়েল সম্পর্কে সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড, সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড, সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

ঢাকার আলোচিত অবৈধ ক্যাসিনো কাণ্ডে জড়িয়ে পড়া যুবলীগের সাবেক নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে দুই পৃথক মামলায় মোট ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে রাজধানীর সেই বহুল আলোচিত ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের গল্প।

দুটি মামলায় সম্রাটের দণ্ড

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন। অর্থপাচার মামলায় সম্রাটকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আদালত তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন।

Ex-Jubo League leader Samrat gets 20-year jail term in graft and money laundering case | The Daily Star

অভিযোগ গঠন থেকে রায়

গত বছরের ১৭ জুলাই আদালত দুই মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে আদালত এ রায় দেন।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর মতিঝিলে অবৈধ জুয়ার আসর উন্মোচনের পর সম্রাটের নাম সামনে আসে। র‍্যাবের অভিযানে বেরিয়ে আসে ক্যাসিনো ব্যবসার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। অভিযানের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

পরে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে তাকে ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন রাজধানীর কাকরাইলের কার্যালয়ে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী তল্লাশি চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, গুলি, ইয়াবা, বিদেশি মদ, বন্যপ্রাণীর চামড়া ও নির্যাতনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলা হয়।

Jubo League leader Samrat gets 20 years in jail in corruption case Khaborer Kagoj

দুদকের অনুসন্ধান ও সম্পদের হিসাব

২০১৯ সালের নভেম্বরে দুর্নীতি দমন কমিশন সম্রাটের বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা করে। পরবর্তী তদন্তে আরও বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য উঠে আসে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, তার আয়সীমার বাইরে শতকোটি টাকার সম্পদের সন্ধান মিলেছে।

২০২২ সালের আগস্টে জামিনে মুক্তি পেলেও পরবর্তীতে তিনি আবারও আত্মগোপনে চলে যান। সব মিলিয়ে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর অবশেষে ঘোষিত হলো বহুল আলোচিত এই মামলার রায়।

সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইনশৃঙ্খলা মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফা বৈঠক: জেনেভায় আশাবাদের বার্তা, চুক্তির ইঙ্গিত তেহরানের

সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড, সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

০১:০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকার আলোচিত অবৈধ ক্যাসিনো কাণ্ডে জড়িয়ে পড়া যুবলীগের সাবেক নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে দুই পৃথক মামলায় মোট ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে রাজধানীর সেই বহুল আলোচিত ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের গল্প।

দুটি মামলায় সম্রাটের দণ্ড

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন। অর্থপাচার মামলায় সম্রাটকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আদালত তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন।

Ex-Jubo League leader Samrat gets 20-year jail term in graft and money laundering case | The Daily Star

অভিযোগ গঠন থেকে রায়

গত বছরের ১৭ জুলাই আদালত দুই মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে আদালত এ রায় দেন।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর মতিঝিলে অবৈধ জুয়ার আসর উন্মোচনের পর সম্রাটের নাম সামনে আসে। র‍্যাবের অভিযানে বেরিয়ে আসে ক্যাসিনো ব্যবসার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। অভিযানের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

পরে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে তাকে ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন রাজধানীর কাকরাইলের কার্যালয়ে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী তল্লাশি চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, গুলি, ইয়াবা, বিদেশি মদ, বন্যপ্রাণীর চামড়া ও নির্যাতনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলা হয়।

Jubo League leader Samrat gets 20 years in jail in corruption case Khaborer Kagoj

দুদকের অনুসন্ধান ও সম্পদের হিসাব

২০১৯ সালের নভেম্বরে দুর্নীতি দমন কমিশন সম্রাটের বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা করে। পরবর্তী তদন্তে আরও বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য উঠে আসে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, তার আয়সীমার বাইরে শতকোটি টাকার সম্পদের সন্ধান মিলেছে।

২০২২ সালের আগস্টে জামিনে মুক্তি পেলেও পরবর্তীতে তিনি আবারও আত্মগোপনে চলে যান। সব মিলিয়ে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর অবশেষে ঘোষিত হলো বহুল আলোচিত এই মামলার রায়।

সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইনশৃঙ্খলা মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।