ঢাকার আলোচিত অবৈধ ক্যাসিনো কাণ্ডে জড়িয়ে পড়া যুবলীগের সাবেক নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে দুই পৃথক মামলায় মোট ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে রাজধানীর সেই বহুল আলোচিত ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের গল্প।
দুটি মামলায় সম্রাটের দণ্ড
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন। অর্থপাচার মামলায় সম্রাটকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আদালত তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন।

অভিযোগ গঠন থেকে রায়
গত বছরের ১৭ জুলাই আদালত দুই মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে আদালত এ রায় দেন।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর মতিঝিলে অবৈধ জুয়ার আসর উন্মোচনের পর সম্রাটের নাম সামনে আসে। র্যাবের অভিযানে বেরিয়ে আসে ক্যাসিনো ব্যবসার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। অভিযানের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
পরে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে তাকে ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন রাজধানীর কাকরাইলের কার্যালয়ে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী তল্লাশি চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, গুলি, ইয়াবা, বিদেশি মদ, বন্যপ্রাণীর চামড়া ও নির্যাতনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলা হয়।
দুদকের অনুসন্ধান ও সম্পদের হিসাব
২০১৯ সালের নভেম্বরে দুর্নীতি দমন কমিশন সম্রাটের বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা করে। পরবর্তী তদন্তে আরও বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য উঠে আসে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, তার আয়সীমার বাইরে শতকোটি টাকার সম্পদের সন্ধান মিলেছে।
২০২২ সালের আগস্টে জামিনে মুক্তি পেলেও পরবর্তীতে তিনি আবারও আত্মগোপনে চলে যান। সব মিলিয়ে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর অবশেষে ঘোষিত হলো বহুল আলোচিত এই মামলার রায়।
সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইনশৃঙ্খলা মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















