মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব
ফেলবে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা
পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। সোমবার রয়টার্সকে দেওয়া এক
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ না হলে আইএমএফ ২০২৬ সালে বৈশ্বিক
প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩.৩ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.২ শতাংশে সামান্য উন্নীত
করত। এখন সেই প্রবৃদ্ধি কমানো এবং মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়ানো ছাড়া
কোনো পথ নেই বলে জানান তিনি। হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে বৈশ্বিক তেল
সরবরাহ ১৩ শতাংশ কমে যাওয়ায় এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি
সংকটে পরিণত হয়েছে।

আইএমএফের নতুন পূর্বাভাস এবং সংকটের মাত্রা
আগামী ১৪ এপ্রিল প্রকাশ হতে যাওয়া আইএমএফের বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি
প্রতিবেদনে একাধিক পরিস্থিতিভিত্তিক পূর্বাভাস থাকবে বলে জানা গেছে।
যুদ্ধ দ্রুত সমাপ্ত হলেও প্রবৃদ্ধিতে “তুলনামূলকভাবে ছোট” নিম্নমুখী
সংশোধন আসবে এবং মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলে জানান
জর্জিয়েভা। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রভাব আরও তীব্র হবে। আইএমএফের ৮৫
শতাংশ সদস্য দেশ জ্বালানি আমদানিকারক, তাই এই সংকটের আঘাত সবচেয়ে বেশি
পড়েছে এই দেশগুলোতে। কাতারের মতো জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশও ইরানি
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে — দেশটির ১৭ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন
পুনরুদ্ধারে তিন থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে।

বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সতর্কতা
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭২টি
জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার এক-তৃতীয়াংশ মারাত্মকভাবে
বিধ্বস্ত। আইএমএফ প্রধান জানান, ইতিমধ্যে বেশ কিছু দেশ আর্থিক সহায়তার
আবেদন করেছে এবং বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পথে আইএমএফ প্রস্তুত।
তিনি সরকারগুলোকে ব্যাপক জ্বালানি ভর্তুকি এড়াতে পরামর্শ দেন কারণ তা
মূল্যস্ফীতি আরও উস্কে দিতে পারে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করেছে,
যুদ্ধ জুন পর্যন্ত চললে লক্ষ লক্ষ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বে। আইএমএফ
ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবই হবে মূল
আলোচ্য বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















