চীনের রাজনীতি আবার একবার দোলাচলে বেঁধেছে, যেখানে ক্ষমতার ভবিষ্যৎ ও উত্তরসূরি নিয়ে বিশাল প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়েছে। শি জিনপিং, যিনি কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক, রাষ্ট্রপতি ও সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার হিসেবে দাপটের সাথে নেতৃত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁর ক্ষমতা রক্ষা ও সম্প্রসারণে নতুন করে পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং পার্টির উচ্চপর্যায়ের বড় reshuffle বা বদলির ধারা চলছে। বিশেষ করে আগামী ২১তম কমিউনিস্ট পার্টি কংগ্রেসে শত শত হাজার পার্টি ও রাষ্ট্রীয় পদ বদলে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চঞ্চলতা সৃষ্টি করেছে।
শি জিনপিংয়ের অবস্থান এতদসত্ত্বেও খুব নিরাপদ। ২০১৮ সালে তিনি রাষ্ট্রপতির দুই মেয়াদ সীমা তুলে দিয়ে তাঁর দায়িত্ব অনির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত রাখার পথ খুলে দিয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক ও সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে তিনি সম্ভবত আগামী কংগ্রেসের পর আবার দায়িত্ব নেবেন, এবং বিশ্লেষকরা মনে করেন তিনি ২০২৭ সালের সভা পর্যন্ত শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখবেন এবং তার পরেও ক্ষমতা ছাড়ার কোনো দৃঢ় ইঙ্গিত নেই।

এই পরিবর্তন কেবল শীর্ষ নেতাদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়; নীচু স্তর থেকেও ব্যাপক ভূমিকা বদল হচ্ছে। গ্রামীণ অঞ্চল ও শহুরে এলাকা জুড়ে সাধারণ ভোটাভুটি হলেও তা প্রকৃত অর্থে স্বাধীন বা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন নয়। পার্টি নিজের নিয়ন্ত্রিত নেতাদের জনপ্রিয়তা নিশ্চিত করে এগিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে পার্টির অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান তীব্র আকার নিয়েছে এবং সামরিক ও সরকারিভাবে অনেক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অভিযান সাধারণ দুর্নীতি তদন্তের বাইরে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ সুনিশ্চিত করার উপায় হিসেবে কাজ করছে।
সংকট ও উত্তেজনার মধ্যেও শি জিনপিং তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। পার্টির শীর্ষ স্তরের বয়সের গড় অনেক বেশি এবং রাজনৈতিক স্থানে তরুণ প্রার্থীর অভাব নতুন রক্ত সঞ্চালনের অভাবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলছে। শি নিজেও তাঁর অনুগতদের উপর পুরো পরিস্থিতিকে নির্ভরশীল করে তুলছেন।
শাসনের দীর্ঘায়িত সময়কে কেন্দ্র করে চীনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণ হলো, শি জিনপিং উত্তরসূরি হিসাবে কারো নাম বড় করে প্রকাশ করেননি এবং দলের সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নির্বাচন পরিষ্কার নয়। এর ফলে অনেকে মনে করছেন ২০২৭ ও ২০২৮ সালের কংগ্রেস পর্যন্ত শি নিজেই নেতৃত্বে থাকবেন, যা তাকে চীনের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার সুযোগ দেবে।
এই সমগ্র রাজনৈতিক পরিবর্তন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ কাঠামোকে প্রভাবিত করছে না, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। চীন এখন বৈশ্বিক রাজনীতির এক বড় খেলোয়াড়, এবং এর নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক কূটনীতির উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















