০২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচন: লড়াকু না সমাধানমুখী—কোন নেতৃত্ব চাইছে ভোটাররা ভারতে ধর্মান্তর আইন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক, মুসলিম ও খ্রিস্টানদের ওপর নজরদারি আরও কঠোর ভারত-চীন সম্পর্কে বরফ গলছে, কিন্তু বিনিয়োগ নীতিতে এখনো সংশয় যুদ্ধ থেমেও থামেনি উত্তেজনা: অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অনিশ্চয়তার শুরু মহাকাশ অভিযানে নতুন উচ্ছ্বাস, কিন্তু টিকে থাকতে দরকার শক্ত ভিত ন্যাটো ভাঙনের পথে? ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কে গভীর সংকট ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ: বিজয়ের দাবি, কিন্তু বাস্তবে ক্ষতির হিসাবই বেশি এসআইআর কি বুমেরাং হলো বিজেপির প্রসঙ্গ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী ও আওয়ামী লীগ বিশ্বের ভূরাজনৈতিক ফল্ট লাইন: ইউক্রেন থেকে আর্কটিক পর্যন্ত

নারীদের কি সত্যিই বেশি ঘুমের প্রয়োজন? গবেষণায় কী বলছে

সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়—নারীদের নাকি পুরুষদের তুলনায় বেশি ঘুম দরকার। অনেক নারীর কাছে এই ধারণাটি বাস্তব মনে হতে পারে, বিশেষ করে যারা কাজ, পরিবার ও নানা দায়িত্বে ব্যস্ত থেকে সবসময় ক্লান্ত অনুভব করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই ক্লান্তি কি সত্যিই শরীরের অতিরিক্ত ঘুমের চাহিদা, নাকি জীবনযাত্রার চাপের ফল?

গবেষণা বলছে, নারীরা গড়ে পুরুষদের তুলনায় সামান্য বেশি ঘুমান। একটি বহুল আলোচিত গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা প্রতি রাতে গড়ে প্রায় ১১ মিনিট বেশি ঘুমান। তবে এই পার্থক্য খুবই সামান্য, এবং এতে ঘুমের মান বা ঘুম থেকে ওঠার পর কেমন লাগছে—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

আরেকটি ছোট গবেষণায় দেখা যায়, একই মানের ঘুম পেলেও নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি ক্লান্তি, উদ্বেগ ও অবসাদ অনুভব করেন। অর্থাৎ শুধু বেশি সময় ঘুমালেই সমস্যার সমাধান হয় না।

Pulled an All-Nighter? This Everyday Drink May Help Restore Your Memory -  AOL

ঘুমের অভাব: সবার জন্যই বড় সমস্যা

সাধারণভাবে সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। কিন্তু অনেকেই এই চাহিদা পূরণ করতে পারেন না। ফলে পরের দিন ক্লান্তি কাটাতে কফির ওপর নির্ভর করতে হয়। পর্যাপ্ত ঘুম শুধু দৈনন্দিন কাজের জন্যই নয়, দীর্ঘায়ুর সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।

নারীদের শরীরঘড়ির ভিন্নতা

মানবদেহের জৈবিক ঘড়ি, যা প্রায় ২৪ ঘণ্টার একটি চক্র অনুসরণ করে, নারীদের ক্ষেত্রে সামান্য ছোট হতে পারে। এর ফলে নারীরা তুলনামূলকভাবে একটু আগে ঘুমাতে ও জাগতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

যখন কাজ বা সামাজিক দায়িত্বের কারণে এই স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে মিল থাকে না, তখন তৈরি হয় “সামাজিক জেট ল্যাগ”। এর ফলে ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা এবং সকালে উঠতে কষ্ট হতে পারে—যা নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।

স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও ঘুমের সমস্যা

গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের মধ্যে অনিদ্রার ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেশি। অনেক নারী ঘুমাতে দেরি করেন বা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়।

12 Reasons Why You Keep Waking Up In The Middle Of The Night

এর পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে—যেমন বেশি দায়িত্ব, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, উদ্বেগ বা বিষণ্নতা। এছাড়া “রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম” নামের একটি সমস্যা নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

অন্যদিকে, স্লিপ অ্যাপনিয়া সাধারণত পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও মেনোপজের পর নারীদের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তবে নারীদের ক্ষেত্রে এই রোগের লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্ট না হওয়ায় তা শনাক্ত করা কঠিন হয়।

হরমোন পরিবর্তনের প্রভাব

গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মের পর সময় এবং মেনোপজের মতো পর্যায়ে নারীদের হরমোনে বড় পরিবর্তন ঘটে। এই সময়গুলোতে ঘুমের সমস্যা বেড়ে যায়। বিশেষ করে গরম লাগা বা রাতে ঘাম হওয়ার মতো উপসর্গ ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে।

ঘুমের ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন

ঘুমের ঘাটতি হলে নারীরা তার প্রভাব বেশি অনুভব করেন। একই পরিমাণ কম ঘুম হলে পুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীর ও মস্তিষ্কে বেশি প্রভাব পড়ে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ঘুমের ঘাটতি পূরণ করতে গেলে নারীদের গভীর ঘুমের প্রয়োজন বেশি হয়। ফলে তারা প্রায়ই বেশি ক্লান্তি অনুভব করেন এবং দিনের কাজে মনোযোগ কমে যায়।

How Much Sleep Do Women Need? The Science Behind Female Sleep Requirements

ভালো ঘুমের জন্য করণীয়

পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি না, তা বোঝার একটি সহজ উপায় হলো বিকেলে নিজের অনুভূতি খেয়াল করা। যদি বিকেলের দিকে নিজেকে সতেজ লাগে, তাহলে ধরে নেওয়া যায় ঘুম যথেষ্ট হয়েছে।

যদি তা না হয়, তাহলে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন সাহায্য করতে পারে।

বিকেল ও সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা উচিত। যদিও অ্যালকোহল দ্রুত ঘুম আনতে সাহায্য করে, পরে তা ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণ হতে পারে।

ঘুমানোর আগে একটি নিয়মিত অভ্যাস তৈরি করা জরুরি। বই পড়া, হালকা গান শোনা বা উষ্ণ পানিতে গোসল শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে।

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগার চেষ্টা করা উচিত, এমনকি ছুটির দিনেও।

শোবার ঘরকে আরামদায়ক রাখা দরকার—শীতল, অন্ধকার ও শান্ত পরিবেশ ভালো ঘুমে সহায়ক।

যদি দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি থাকে, তাহলে ধীরে ধীরে ঘুমের সময় বাড়ানো যেতে পারে—প্রতিদিন ১৫ মিনিট করে আগে ঘুমাতে যাওয়া ভালো ফল দিতে পারে।

How Medical Marijuana Can Improve Sleep Quality - Premier Neurology &  Wellness Center

শেষ কথা

ঘুমের সমস্যা খুবই সাধারণ, তবে তা নিরাময়যোগ্য। অনেক নারী মনে করেন এটি স্বাভাবিক বা এড়ানো যায় না, কিন্তু বাস্তবে সঠিক চিকিৎসা ও অভ্যাসের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা থাকলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচন: লড়াকু না সমাধানমুখী—কোন নেতৃত্ব চাইছে ভোটাররা

নারীদের কি সত্যিই বেশি ঘুমের প্রয়োজন? গবেষণায় কী বলছে

১২:৪০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়—নারীদের নাকি পুরুষদের তুলনায় বেশি ঘুম দরকার। অনেক নারীর কাছে এই ধারণাটি বাস্তব মনে হতে পারে, বিশেষ করে যারা কাজ, পরিবার ও নানা দায়িত্বে ব্যস্ত থেকে সবসময় ক্লান্ত অনুভব করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই ক্লান্তি কি সত্যিই শরীরের অতিরিক্ত ঘুমের চাহিদা, নাকি জীবনযাত্রার চাপের ফল?

গবেষণা বলছে, নারীরা গড়ে পুরুষদের তুলনায় সামান্য বেশি ঘুমান। একটি বহুল আলোচিত গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা প্রতি রাতে গড়ে প্রায় ১১ মিনিট বেশি ঘুমান। তবে এই পার্থক্য খুবই সামান্য, এবং এতে ঘুমের মান বা ঘুম থেকে ওঠার পর কেমন লাগছে—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

আরেকটি ছোট গবেষণায় দেখা যায়, একই মানের ঘুম পেলেও নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি ক্লান্তি, উদ্বেগ ও অবসাদ অনুভব করেন। অর্থাৎ শুধু বেশি সময় ঘুমালেই সমস্যার সমাধান হয় না।

Pulled an All-Nighter? This Everyday Drink May Help Restore Your Memory -  AOL

ঘুমের অভাব: সবার জন্যই বড় সমস্যা

সাধারণভাবে সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। কিন্তু অনেকেই এই চাহিদা পূরণ করতে পারেন না। ফলে পরের দিন ক্লান্তি কাটাতে কফির ওপর নির্ভর করতে হয়। পর্যাপ্ত ঘুম শুধু দৈনন্দিন কাজের জন্যই নয়, দীর্ঘায়ুর সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।

নারীদের শরীরঘড়ির ভিন্নতা

মানবদেহের জৈবিক ঘড়ি, যা প্রায় ২৪ ঘণ্টার একটি চক্র অনুসরণ করে, নারীদের ক্ষেত্রে সামান্য ছোট হতে পারে। এর ফলে নারীরা তুলনামূলকভাবে একটু আগে ঘুমাতে ও জাগতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

যখন কাজ বা সামাজিক দায়িত্বের কারণে এই স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে মিল থাকে না, তখন তৈরি হয় “সামাজিক জেট ল্যাগ”। এর ফলে ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা এবং সকালে উঠতে কষ্ট হতে পারে—যা নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।

স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও ঘুমের সমস্যা

গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের মধ্যে অনিদ্রার ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেশি। অনেক নারী ঘুমাতে দেরি করেন বা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়।

12 Reasons Why You Keep Waking Up In The Middle Of The Night

এর পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে—যেমন বেশি দায়িত্ব, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, উদ্বেগ বা বিষণ্নতা। এছাড়া “রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম” নামের একটি সমস্যা নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

অন্যদিকে, স্লিপ অ্যাপনিয়া সাধারণত পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও মেনোপজের পর নারীদের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তবে নারীদের ক্ষেত্রে এই রোগের লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্ট না হওয়ায় তা শনাক্ত করা কঠিন হয়।

হরমোন পরিবর্তনের প্রভাব

গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মের পর সময় এবং মেনোপজের মতো পর্যায়ে নারীদের হরমোনে বড় পরিবর্তন ঘটে। এই সময়গুলোতে ঘুমের সমস্যা বেড়ে যায়। বিশেষ করে গরম লাগা বা রাতে ঘাম হওয়ার মতো উপসর্গ ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে।

ঘুমের ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন

ঘুমের ঘাটতি হলে নারীরা তার প্রভাব বেশি অনুভব করেন। একই পরিমাণ কম ঘুম হলে পুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীর ও মস্তিষ্কে বেশি প্রভাব পড়ে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ঘুমের ঘাটতি পূরণ করতে গেলে নারীদের গভীর ঘুমের প্রয়োজন বেশি হয়। ফলে তারা প্রায়ই বেশি ক্লান্তি অনুভব করেন এবং দিনের কাজে মনোযোগ কমে যায়।

How Much Sleep Do Women Need? The Science Behind Female Sleep Requirements

ভালো ঘুমের জন্য করণীয়

পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি না, তা বোঝার একটি সহজ উপায় হলো বিকেলে নিজের অনুভূতি খেয়াল করা। যদি বিকেলের দিকে নিজেকে সতেজ লাগে, তাহলে ধরে নেওয়া যায় ঘুম যথেষ্ট হয়েছে।

যদি তা না হয়, তাহলে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন সাহায্য করতে পারে।

বিকেল ও সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা উচিত। যদিও অ্যালকোহল দ্রুত ঘুম আনতে সাহায্য করে, পরে তা ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণ হতে পারে।

ঘুমানোর আগে একটি নিয়মিত অভ্যাস তৈরি করা জরুরি। বই পড়া, হালকা গান শোনা বা উষ্ণ পানিতে গোসল শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে।

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগার চেষ্টা করা উচিত, এমনকি ছুটির দিনেও।

শোবার ঘরকে আরামদায়ক রাখা দরকার—শীতল, অন্ধকার ও শান্ত পরিবেশ ভালো ঘুমে সহায়ক।

যদি দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি থাকে, তাহলে ধীরে ধীরে ঘুমের সময় বাড়ানো যেতে পারে—প্রতিদিন ১৫ মিনিট করে আগে ঘুমাতে যাওয়া ভালো ফল দিতে পারে।

How Medical Marijuana Can Improve Sleep Quality - Premier Neurology &  Wellness Center

শেষ কথা

ঘুমের সমস্যা খুবই সাধারণ, তবে তা নিরাময়যোগ্য। অনেক নারী মনে করেন এটি স্বাভাবিক বা এড়ানো যায় না, কিন্তু বাস্তবে সঠিক চিকিৎসা ও অভ্যাসের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা থাকলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।