০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
তারার মেলায় সিডনি অপেরা হাউসে ঝলমলে রাত, সৃজনশীলতার উৎসব হয়ে উঠল গ্রীষ্মকালীন বল রুপির পতনে রাজনৈতিক চাপ, মোদির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন দ্বীপ, উত্তেজনার কেন্দ্রে অ্যান্টেলোপ রিফ পাকিস্তানের কূটনৈতিক কৌশল: যুদ্ধের মাঝেও শান্তির সেতুবন্ধন ইউরোপের প্রযুক্তি দৌড়ে টিকে থাকতে ব্রিটেনের নতুন কৌশল, একসঙ্গে এগোনোর আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের কার্বন পাইপলাইন ঘিরে জমির লড়াই: কৃষক, পরিবেশবাদী আর রাজনীতির অদ্ভুত জোট ট্রাম্প বনাম বুশ: যুদ্ধের কৌশলে আমেরিকার রূপান্তর, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের নতুন বাস্তবতা জীবনের শেষ সিদ্ধান্তেও দেরি, সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যুর আইন নিয়ে থমকে ব্রিটেন তাইওয়ানের রাজনীতিতে নতুন ঝড়, চীন সফর ঘিরে কেএমটির ভেতরেই গভীর বিভাজন এআই মাইক্রো-ড্রামার ঝড়ে বদলে যাচ্ছে বিনোদন, কঠোর হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ

ভারত-চীন সম্পর্কে বরফ গলছে, কিন্তু বিনিয়োগ নীতিতে এখনো সংশয়

কয়েক বছর আগেও সীমান্তে উত্তেজনা, সংঘর্ষ আর অবিশ্বাসে জমাট ছিল ভারত-চীন সম্পর্ক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই বরফ কিছুটা গলতে শুরু করেছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে, বাণিজ্য আলোচনাও নতুন করে শুরু হয়েছে। তবু বাস্তবতা হলো—সম্পর্কের এই উষ্ণতা এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়, বরং সতর্ক ও সীমিত।

সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত

গত এক বছরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা গেছে। দীর্ঘ বিরতির পর শীর্ষ পর্যায়ের সফর হয়েছে, সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু হয়েছে এবং বাণিজ্য নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই দেশই উত্তেজনা কমিয়ে বাস্তবমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে।

ভারতের শিল্পখাত চীনের প্রযুক্তি ও উপকরণের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে বাস্তব প্রয়োজন থেকেই ভারতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে একটি বাস্তববাদী মনোভাব তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে চীনও এমন সময়ে সম্পর্ক খারাপ রাখতে চায় না, যখন বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জ তার সামনে রয়েছে।

The tumbling rupee could be a big problem for Narendra Modi

বিনিয়োগ নীতিতে সতর্ক পরিবর্তন

সম্প্রতি ভারত সরকার বিদেশি বিনিয়োগ, বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানে চীনের অংশীদারিত্ব কম, তাদের ক্ষেত্রে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে এই পরিবর্তনকে অনেকেই আংশিক ও সীমিত বলেই মনে করছেন। কারণ, এখনো অনেক ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের বিবেচনার ওপর নির্ভর করছে অনুমোদন। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

আস্থার সংকট বড় বাধা

দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কারণে দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট। অতীতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। এতে করে চীনা বিনিয়োগকারীরা ভারতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ হারিয়েছে।

কিছু বড় প্রকল্পও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। আবার কিছু কোম্পানি তাদের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করেছে। এসব ঘটনা বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

All-out thaw: can India and China unfreeze icy ties at last? | South China  Morning Post

বাণিজ্য ও প্রযুক্তির টানাপোড়েন

ভারত চায় তার বড় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং চীনের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে। একই সঙ্গে দেশটি চীনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজস্ব শিল্পখাতকে শক্তিশালী করতে আগ্রহী।

অন্যদিকে চীন বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রভাব বাড়াতে চাইলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তরে অনীহা দেখাচ্ছে। ফলে দুই দেশের স্বার্থের মধ্যে সূক্ষ্ম দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, যা সম্পর্কের অগ্রগতিকে ধীর করে দিচ্ছে।

ভবিষ্যতের পথ অনিশ্চিত

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত-চীন সম্পর্ক এক ধরনের ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে বাস্তব প্রয়োজন, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সন্দেহ—এই দুইয়ের মাঝেই পথ খুঁজছে দুই দেশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো সম্পর্কের উন্নতির সূচনা হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য আরও স্পষ্ট নীতি ও পারস্পরিক আস্থা প্রয়োজন। আপাতত বলা যায়, দুই দেশের এই ‘সমন্বয়ের নাচ’ এখনো অস্বস্তিকর হলেও চলমান রয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তারার মেলায় সিডনি অপেরা হাউসে ঝলমলে রাত, সৃজনশীলতার উৎসব হয়ে উঠল গ্রীষ্মকালীন বল

ভারত-চীন সম্পর্কে বরফ গলছে, কিন্তু বিনিয়োগ নীতিতে এখনো সংশয়

০১:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

কয়েক বছর আগেও সীমান্তে উত্তেজনা, সংঘর্ষ আর অবিশ্বাসে জমাট ছিল ভারত-চীন সম্পর্ক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই বরফ কিছুটা গলতে শুরু করেছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে, বাণিজ্য আলোচনাও নতুন করে শুরু হয়েছে। তবু বাস্তবতা হলো—সম্পর্কের এই উষ্ণতা এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়, বরং সতর্ক ও সীমিত।

সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত

গত এক বছরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা গেছে। দীর্ঘ বিরতির পর শীর্ষ পর্যায়ের সফর হয়েছে, সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু হয়েছে এবং বাণিজ্য নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই দেশই উত্তেজনা কমিয়ে বাস্তবমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে।

ভারতের শিল্পখাত চীনের প্রযুক্তি ও উপকরণের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে বাস্তব প্রয়োজন থেকেই ভারতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে একটি বাস্তববাদী মনোভাব তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে চীনও এমন সময়ে সম্পর্ক খারাপ রাখতে চায় না, যখন বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জ তার সামনে রয়েছে।

The tumbling rupee could be a big problem for Narendra Modi

বিনিয়োগ নীতিতে সতর্ক পরিবর্তন

সম্প্রতি ভারত সরকার বিদেশি বিনিয়োগ, বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানে চীনের অংশীদারিত্ব কম, তাদের ক্ষেত্রে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে এই পরিবর্তনকে অনেকেই আংশিক ও সীমিত বলেই মনে করছেন। কারণ, এখনো অনেক ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের বিবেচনার ওপর নির্ভর করছে অনুমোদন। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

আস্থার সংকট বড় বাধা

দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কারণে দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট। অতীতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। এতে করে চীনা বিনিয়োগকারীরা ভারতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ হারিয়েছে।

কিছু বড় প্রকল্পও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। আবার কিছু কোম্পানি তাদের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করেছে। এসব ঘটনা বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

All-out thaw: can India and China unfreeze icy ties at last? | South China  Morning Post

বাণিজ্য ও প্রযুক্তির টানাপোড়েন

ভারত চায় তার বড় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং চীনের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে। একই সঙ্গে দেশটি চীনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজস্ব শিল্পখাতকে শক্তিশালী করতে আগ্রহী।

অন্যদিকে চীন বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রভাব বাড়াতে চাইলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তরে অনীহা দেখাচ্ছে। ফলে দুই দেশের স্বার্থের মধ্যে সূক্ষ্ম দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, যা সম্পর্কের অগ্রগতিকে ধীর করে দিচ্ছে।

ভবিষ্যতের পথ অনিশ্চিত

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত-চীন সম্পর্ক এক ধরনের ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে বাস্তব প্রয়োজন, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সন্দেহ—এই দুইয়ের মাঝেই পথ খুঁজছে দুই দেশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো সম্পর্কের উন্নতির সূচনা হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য আরও স্পষ্ট নীতি ও পারস্পরিক আস্থা প্রয়োজন। আপাতত বলা যায়, দুই দেশের এই ‘সমন্বয়ের নাচ’ এখনো অস্বস্তিকর হলেও চলমান রয়েছে।