যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে একটি প্রস্তাবিত কার্বন-সংগ্রহ পাইপলাইন প্রকল্পকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিরল এক সংঘাত, যেখানে একসঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন পরিবেশবাদী, কৃষক জমির মালিক এবং রক্ষণশীল রাজনীতিকরা। জমি, পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত অধিকারের প্রশ্নে এই লড়াই এখন বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
জমির সঙ্গে আবেগ, পাইপলাইনের সঙ্গে সংঘাত
আইওয়ার বহু কৃষক পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। তাদের কাছে জমি শুধু সম্পদ নয়, এটি পারিবারিক ঐতিহ্য ও আবেগের অংশ। এমনই এক জমির মালিক শেরি ওয়েব, যার ৪০ একর জমি সাত প্রজন্ম ধরে তাদের পরিবারের অংশ। এখন সেই জমির ওপর দিয়েই কার্বন পাইপলাইন বসানোর পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিরোধ।
এই পাইপলাইনটি প্রায় দুই হাজার মাইল দীর্ঘ হবে এবং একাধিক অঙ্গরাজ্য জুড়ে বিভিন্ন ইথানল কারখানা থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সংগ্রহ করে তা মাটির নিচে সংরক্ষণ করবে। প্রকল্পটির সমর্থকরা বলছেন, এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং কম-কার্বন জ্বালানির বাজারে সুবিধা মিলবে।
![]()
আইনি ক্ষমতা বনাম ব্যক্তিগত অধিকার
২০২৪ সালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটিকে অনুমোদন দেয়, যার ফলে প্রয়োজনে সরকার ‘জনস্বার্থে জমি অধিগ্রহণ’ আইনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত জমি ব্যবহার করতে পারবে। তবে এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই জমির মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই পাইপলাইন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অতীতে এক দুর্ঘটনায় কার্বন পাইপলাইন ফেটে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। যদিও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, এ ধরনের প্রকল্পে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি।
রাজনীতিতে অপ্রত্যাশিত জোট
এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে গড়ে উঠেছে এক অদ্ভুত জোট। পরিবেশবাদীদের সঙ্গে একই কাতারে দাঁড়িয়েছেন কিছু রক্ষণশীল রিপাবলিকান নেতা ও কৃষকরা। সাধারণত বড় জ্বালানি প্রকল্পের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক শক্তির ভেতরেই এখন বিভাজন দেখা যাচ্ছে।
কিছু প্রভাবশালী নেতা মনে করছেন, এটি আসলে জমি দখলের এক প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যক্তিগত অধিকারের ক্ষতি হচ্ছে। অনেক কৃষক তাদের জমির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় সরব হয়ে উঠেছেন।

নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব
এই ইস্যু এখন আইওয়ার রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে। আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীরা জমির অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নকে সামনে এনে প্রচার চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে কিছু রাজ্যে এই ধরনের পাইপলাইনের জন্য জমি অধিগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা পুরো প্রকল্পের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
প্রতিবাদে সরব সাধারণ মানুষ
প্রতিদিনই আইনসভায় জমায়েত হচ্ছেন বিভিন্ন মতের মানুষ। তারা দাবি করছেন, কোনো প্রকল্পের জন্য জোর করে জমি নেওয়া উচিত নয়। অনেকের হাতে ছিল স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড, যেখানে ক্ষোভ আর হতাশার প্রতিফলন স্পষ্ট।
এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, পরিবেশ রক্ষা, জ্বালানি নীতি এবং ব্যক্তিগত অধিকারের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ এলাকায় কতটা জটিল বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
কার্বন পাইপলাইন ঘিরে এই বিরোধ এখন শুধু একটি প্রকল্পের প্রশ্ন নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে জমির মালিকানা, রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি নীতির বড় লড়াই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















