০৬:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের জমে থাকা অর্থ ছাড়ে সমঝোতার ইঙ্গিত, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকারে নতুন ধোঁয়াশা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির, যুদ্ধবিরতির পরও কাটছে না সংকট কোভিডের পর হাসপাতাল ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে: দীর্ঘ অপেক্ষা আর বাড়তি মৃত্যুর দুষ্টচক্রে বিশ্ব স্বাস্থ্যখাত ভোটের হার বাড়লেও কন্নুরে সিপিএমের ঘাঁটিতে কিছুটা কমেছে অংশগ্রহণ এআইয়ের নতুন আতঙ্ক: ‘মিথোস’ কি সাইবার দুনিয়ায় ঝড় তুলতে যাচ্ছে? ভারতের সংবিধানের নকশি করা শিল্পী নন্দলাল বসুর নাতি ভোটার তালিকা থেকে বাদ, প্রশ্নের মুখে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন জাপানের গাড়ি শিল্পে টানাপোড়েন: টিকে থাকতে চাই নতুন সাহসী কৌশল ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অনিশ্চয়তা, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ছায়া ফেলছে নির্বাচনী উত্তেজনা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার রহস্যঘেরা অবস্থা: গুরুতর আঘাত, তবুও যুদ্ধ ও কূটনীতিতে সক্রিয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে উত্তেজনা: যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা ও পারমাণবিক ইস্যুতে কঠিন দরকষাকষি

তেলের জোয়ারে বদলে যাচ্ছে গায়ানা, দ্রুততম অর্থনৈতিক উত্থানের আড়ালে নতুন শঙ্কা

দক্ষিণ আমেরিকার ছোট দেশ গায়ানা এখন বিশ্ব অর্থনীতির এক বিস্ময়। জনসংখ্যা এক মিলিয়নেরও কম, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেলের কারণে দেশটি হয়ে উঠেছে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি। ২০১৯ সালে সমুদ্র উপকূলে তেল উত্তোলন শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির অর্থনীতি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

তেলের জোয়ারে অর্থনীতির বিস্ফোরণ

গায়ানার জন্য সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক তেলের দাম বৃদ্ধি। সাম্প্রতিক সময়ের বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, তেলের দামকে প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। এর ফলে গায়ানার আয় হঠাৎ করেই লাফিয়ে বেড়েছে। আগে যেখানে সাপ্তাহিক আয় ছিল কয়েকশ মিলিয়ন ডলার, এখন তা আরও অনেক বেশি।

বিশাল স্টাবরোক তেলক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলো উৎপাদন বাড়াতে নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে আয় আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা

গায়ানার প্রেসিডেন্ট ইরফান আলীর পুনর্নির্বাচন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় বিদেশি কোম্পানিগুলো নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বড় তেল কোম্পানিগুলো দ্রুত নতুন প্রকল্প চালু করতে চাইছে।

একই সঙ্গে গায়ানা নিজেকে জলবায়ু সচেতন দেশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। সরকার বলছে, তেল থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ জলবায়ু অভিযোজন ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যয় করা হবে।

আয়ের ভাগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বর্তমানে তেলের আয়ের একটি বড় অংশ বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে থাকলেও ভবিষ্যতে সরকারের অংশ বাড়বে। যখন কোম্পানিগুলোর প্রাথমিক বিনিয়োগ উঠে আসবে, তখন সরকারের রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সরকার ইতোমধ্যে রাস্তা, সেতু, স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। দেশের অবকাঠামো দ্রুত উন্নত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

উন্নয়নের সঙ্গে বাড়ছে চাপ

তবে এই দ্রুত উন্নয়নের পাশাপাশি কিছু বড় চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে। খাদ্য ও বাসস্থানের খরচ কয়েক বছরে অনেক বেড়ে গেছে। তেল শিল্পে উচ্চ বেতনের কারণে অন্যান্য খাত শ্রমিক সংকটে পড়ছে।

সরকার জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পদক্ষেপ নিলেও বেসরকারি খাতে দাম বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।

‘সম্পদ অভিশাপ’ শঙ্কা

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, অতিরিক্ত তেল নির্ভরতা ‘সম্পদ অভিশাপ’-এর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে অন্যান্য খাত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। সরকার এই ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে, যেমন অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাজেট নিয়ন্ত্রণ।

তবে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, তেলের বিপুল আয়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে কি না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অর্থ সঞ্চয় করে ভবিষ্যতের জন্য রাখা জরুরি, নইলে অপচয়ের ঝুঁকি বাড়বে।

সামনে কোন পথে গায়ানা

গায়ানার সামনে এখন একদিকে অভূতপূর্ব সমৃদ্ধির সুযোগ, অন্যদিকে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি। সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশটি দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হতে পারে। কিন্তু তেলের অর্থ যদি সঠিকভাবে ব্যবহার না হয়, তাহলে এই সুযোগই বড় সংকটে পরিণত হতে পারে।

গায়ানার ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে তাদের অর্থনৈতিক নীতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের জমে থাকা অর্থ ছাড়ে সমঝোতার ইঙ্গিত, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকারে নতুন ধোঁয়াশা

তেলের জোয়ারে বদলে যাচ্ছে গায়ানা, দ্রুততম অর্থনৈতিক উত্থানের আড়ালে নতুন শঙ্কা

০৪:২৫:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

দক্ষিণ আমেরিকার ছোট দেশ গায়ানা এখন বিশ্ব অর্থনীতির এক বিস্ময়। জনসংখ্যা এক মিলিয়নেরও কম, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেলের কারণে দেশটি হয়ে উঠেছে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি। ২০১৯ সালে সমুদ্র উপকূলে তেল উত্তোলন শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির অর্থনীতি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

তেলের জোয়ারে অর্থনীতির বিস্ফোরণ

গায়ানার জন্য সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক তেলের দাম বৃদ্ধি। সাম্প্রতিক সময়ের বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, তেলের দামকে প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। এর ফলে গায়ানার আয় হঠাৎ করেই লাফিয়ে বেড়েছে। আগে যেখানে সাপ্তাহিক আয় ছিল কয়েকশ মিলিয়ন ডলার, এখন তা আরও অনেক বেশি।

বিশাল স্টাবরোক তেলক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলো উৎপাদন বাড়াতে নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে আয় আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা

গায়ানার প্রেসিডেন্ট ইরফান আলীর পুনর্নির্বাচন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় বিদেশি কোম্পানিগুলো নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বড় তেল কোম্পানিগুলো দ্রুত নতুন প্রকল্প চালু করতে চাইছে।

একই সঙ্গে গায়ানা নিজেকে জলবায়ু সচেতন দেশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। সরকার বলছে, তেল থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ জলবায়ু অভিযোজন ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যয় করা হবে।

আয়ের ভাগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বর্তমানে তেলের আয়ের একটি বড় অংশ বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে থাকলেও ভবিষ্যতে সরকারের অংশ বাড়বে। যখন কোম্পানিগুলোর প্রাথমিক বিনিয়োগ উঠে আসবে, তখন সরকারের রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সরকার ইতোমধ্যে রাস্তা, সেতু, স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। দেশের অবকাঠামো দ্রুত উন্নত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

উন্নয়নের সঙ্গে বাড়ছে চাপ

তবে এই দ্রুত উন্নয়নের পাশাপাশি কিছু বড় চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে। খাদ্য ও বাসস্থানের খরচ কয়েক বছরে অনেক বেড়ে গেছে। তেল শিল্পে উচ্চ বেতনের কারণে অন্যান্য খাত শ্রমিক সংকটে পড়ছে।

সরকার জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পদক্ষেপ নিলেও বেসরকারি খাতে দাম বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।

‘সম্পদ অভিশাপ’ শঙ্কা

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, অতিরিক্ত তেল নির্ভরতা ‘সম্পদ অভিশাপ’-এর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে অন্যান্য খাত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। সরকার এই ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে, যেমন অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাজেট নিয়ন্ত্রণ।

তবে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, তেলের বিপুল আয়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে কি না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অর্থ সঞ্চয় করে ভবিষ্যতের জন্য রাখা জরুরি, নইলে অপচয়ের ঝুঁকি বাড়বে।

সামনে কোন পথে গায়ানা

গায়ানার সামনে এখন একদিকে অভূতপূর্ব সমৃদ্ধির সুযোগ, অন্যদিকে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি। সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশটি দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হতে পারে। কিন্তু তেলের অর্থ যদি সঠিকভাবে ব্যবহার না হয়, তাহলে এই সুযোগই বড় সংকটে পরিণত হতে পারে।

গায়ানার ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে তাদের অর্থনৈতিক নীতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।