০৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান, নিখোঁজ প্রায় ৫০ হাজার হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা এসকর্ট কার্যক্রম স্থগিত শি: বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চমানের বিআরআই সহযোগিতায় প্রস্তুত চীন গুদগুদিতে হাসে মানুষ ও বনমানুষ, মিলল হাসির বিবর্তনের ছন্দময় সূত্র ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড জনজীবন, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা বাগেরহাটে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার: দুই মাসে হাসপাতালে ২০০-এর বেশি রোগী, রেড জোন ঘোষণা শেষ মুহূর্তের গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে হারাল তুরস্ক, তবু গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন মার্কিনিরাই ওয়ার্শ যুগের সূচনা: এশিয়ার মুদ্রাগুলোর সামনে নতুন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি নতুন এশিয়ার ভ্রমণ মানচিত্র: বালির গল্পে দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিক অর্থনীতির নতুন শক্তি

জাপানের গাড়ি শিল্পে টানাপোড়েন: টিকে থাকতে চাই নতুন সাহসী কৌশল

জাপানের এক সময়ের শক্তিশালী গাড়ি শিল্প এখন কঠিন বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে। বাজারে প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং খরচের চাপ—সব মিলিয়ে এই খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বলছে, টিকে থাকতে হলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতেই হবে।

সংকটের মুখে বড় কোম্পানিগুলো

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে একটি শীর্ষ জাপানি গাড়ি কোম্পানির প্রধান স্বীকার করেন, বহু বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটি বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতির দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি বেতন কমানোর ঘোষণাও দেন। এই চিত্র শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, গোটা শিল্পই এখন চাপে।

অন্যদিকে আরেক বড় কোম্পানি ইতোমধ্যেই পুনর্গঠন পরিকল্পনায় নেমেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে একাধিক কারখানা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির প্রভাব যেমন আছে, তেমনি সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে চীনের দ্রুত উত্থান থেকে।

Japan's struggling automakers keep an eye on Trump Fed pick Warsh - Nikkei  Asia

বাজারে অংশীদারিত্ব কমছে

গত কয়েক বছরে বিশ্ববাজারে জাপানি গাড়ির অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে এশিয়ায় এই পতন আরও স্পষ্ট। চীনে বিক্রি কমেছে বড় আকারে, আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যেখানে আগে শক্ত অবস্থান ছিল, সেখানেও অংশীদারিত্ব দ্রুত কমছে।

বৈদ্যুতিক গাড়িতে পিছিয়ে পড়া

এই সংকটের মূল কারণগুলোর একটি হলো বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়া। জাপানের অনেক কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত জ্বালানিভিত্তিক বা হাইব্রিড প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করেছে।

কিন্তু বিশ্ববাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। কয়েক বছরের ব্যবধানে এই খাতের অংশ অনেক গুণ বেড়ে গেছে, বিশেষ করে এশিয়ায় এর বিস্তার সবচেয়ে বেশি। ফলে যারা সময়মতো পরিবর্তন আনতে পারেনি, তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

Japan's troubled automaker Nissan banks on hybrid EV technology | AP News

প্রযুক্তি ও সফটওয়্যারের চ্যালেঞ্জ

বর্তমানের গাড়ি শুধু যান্ত্রিক পণ্য নয়, বরং সফটওয়্যারনির্ভর একটি প্রযুক্তি পণ্য। এখানেই জাপানি কোম্পানিগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন, স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি এবং আধুনিক সহায়ক ব্যবস্থায় পিছিয়ে থাকায় তারা নতুন বাজারের চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে।

এই ঘাটতি পূরণে কিছু কোম্পানি বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ছে। তবে এসব সহযোগিতার ফল সব সময় ইতিবাচক হয়নি।

বাড়ছে খরচের চাপ

নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। গবেষণা, উন্নয়ন এবং যন্ত্রপাতির ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেশি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্রম ব্যয় ও কঠোর শ্রমনীতি, যা খরচ নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

ব্যতিক্রম একটি প্রতিষ্ঠান

সব সংকটের মধ্যেও একটি বড় জাপানি গাড়ি কোম্পানি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। হাইব্রিড প্রযুক্তিতে শক্ত অবস্থান থাকার কারণে তারা কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে। পাশাপাশি তারা বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে এবং নতুন বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

Nissan's troubles might go all the way back to Ghosn - The Japan Times

একীভূত হওয়ার আলোচনা

এই সংকট কাটাতে শিল্পে একীভূত হওয়ার আলোচনা জোরালো হয়েছে। কিছু বড় কোম্পানির মধ্যে একীভূত হওয়ার আলোচনা হলেও তা সফল হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, একীভূত হলে সব সময় লাভ হয় না, কারণ বিভিন্ন উৎপাদন প্রক্রিয়া ও মডেলের সমন্বয় কঠিন হয়ে পড়ে।

নতুন সহযোগিতার পথ

একীভূত না হলেও কোম্পানিগুলো এখন অন্যভাবে সহযোগিতার পথ খুঁজছে। যেমন—একসঙ্গে কাঁচামাল কেনা বা সরবরাহ ব্যবস্থা ভাগাভাগি করা। এতে খরচ কমানো এবং দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।

সামনে কঠিন পথ

সব মিলিয়ে জাপানের গাড়ি শিল্প এখন এক কঠিন সময় পার করছে। তবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা থাকায় এই শিল্পকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।

তবে স্পষ্ট—পুরোনো কৌশলে আর চলবে না। নতুন প্রযুক্তি, নতুন ভাবনা এবং সাহসী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, এই শিল্প ভবিষ্যতে টিকে থাকতে পারবে কি না।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান, নিখোঁজ প্রায় ৫০ হাজার

জাপানের গাড়ি শিল্পে টানাপোড়েন: টিকে থাকতে চাই নতুন সাহসী কৌশল

০৫:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

জাপানের এক সময়ের শক্তিশালী গাড়ি শিল্প এখন কঠিন বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে। বাজারে প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং খরচের চাপ—সব মিলিয়ে এই খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বলছে, টিকে থাকতে হলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতেই হবে।

সংকটের মুখে বড় কোম্পানিগুলো

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে একটি শীর্ষ জাপানি গাড়ি কোম্পানির প্রধান স্বীকার করেন, বহু বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটি বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতির দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি বেতন কমানোর ঘোষণাও দেন। এই চিত্র শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, গোটা শিল্পই এখন চাপে।

অন্যদিকে আরেক বড় কোম্পানি ইতোমধ্যেই পুনর্গঠন পরিকল্পনায় নেমেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে একাধিক কারখানা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির প্রভাব যেমন আছে, তেমনি সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে চীনের দ্রুত উত্থান থেকে।

Japan's struggling automakers keep an eye on Trump Fed pick Warsh - Nikkei  Asia

বাজারে অংশীদারিত্ব কমছে

গত কয়েক বছরে বিশ্ববাজারে জাপানি গাড়ির অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে এশিয়ায় এই পতন আরও স্পষ্ট। চীনে বিক্রি কমেছে বড় আকারে, আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যেখানে আগে শক্ত অবস্থান ছিল, সেখানেও অংশীদারিত্ব দ্রুত কমছে।

বৈদ্যুতিক গাড়িতে পিছিয়ে পড়া

এই সংকটের মূল কারণগুলোর একটি হলো বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়া। জাপানের অনেক কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত জ্বালানিভিত্তিক বা হাইব্রিড প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করেছে।

কিন্তু বিশ্ববাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। কয়েক বছরের ব্যবধানে এই খাতের অংশ অনেক গুণ বেড়ে গেছে, বিশেষ করে এশিয়ায় এর বিস্তার সবচেয়ে বেশি। ফলে যারা সময়মতো পরিবর্তন আনতে পারেনি, তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

Japan's troubled automaker Nissan banks on hybrid EV technology | AP News

প্রযুক্তি ও সফটওয়্যারের চ্যালেঞ্জ

বর্তমানের গাড়ি শুধু যান্ত্রিক পণ্য নয়, বরং সফটওয়্যারনির্ভর একটি প্রযুক্তি পণ্য। এখানেই জাপানি কোম্পানিগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন, স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি এবং আধুনিক সহায়ক ব্যবস্থায় পিছিয়ে থাকায় তারা নতুন বাজারের চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে।

এই ঘাটতি পূরণে কিছু কোম্পানি বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ছে। তবে এসব সহযোগিতার ফল সব সময় ইতিবাচক হয়নি।

বাড়ছে খরচের চাপ

নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। গবেষণা, উন্নয়ন এবং যন্ত্রপাতির ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেশি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্রম ব্যয় ও কঠোর শ্রমনীতি, যা খরচ নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

ব্যতিক্রম একটি প্রতিষ্ঠান

সব সংকটের মধ্যেও একটি বড় জাপানি গাড়ি কোম্পানি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। হাইব্রিড প্রযুক্তিতে শক্ত অবস্থান থাকার কারণে তারা কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে। পাশাপাশি তারা বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে এবং নতুন বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

Nissan's troubles might go all the way back to Ghosn - The Japan Times

একীভূত হওয়ার আলোচনা

এই সংকট কাটাতে শিল্পে একীভূত হওয়ার আলোচনা জোরালো হয়েছে। কিছু বড় কোম্পানির মধ্যে একীভূত হওয়ার আলোচনা হলেও তা সফল হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, একীভূত হলে সব সময় লাভ হয় না, কারণ বিভিন্ন উৎপাদন প্রক্রিয়া ও মডেলের সমন্বয় কঠিন হয়ে পড়ে।

নতুন সহযোগিতার পথ

একীভূত না হলেও কোম্পানিগুলো এখন অন্যভাবে সহযোগিতার পথ খুঁজছে। যেমন—একসঙ্গে কাঁচামাল কেনা বা সরবরাহ ব্যবস্থা ভাগাভাগি করা। এতে খরচ কমানো এবং দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।

সামনে কঠিন পথ

সব মিলিয়ে জাপানের গাড়ি শিল্প এখন এক কঠিন সময় পার করছে। তবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা থাকায় এই শিল্পকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।

তবে স্পষ্ট—পুরোনো কৌশলে আর চলবে না। নতুন প্রযুক্তি, নতুন ভাবনা এবং সাহসী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, এই শিল্প ভবিষ্যতে টিকে থাকতে পারবে কি না।