০৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে ক্যাবের মানববন্ধন বিশ্বযুদ্ধ কি আবার দরজায়? ইতিহাসের সতর্কবার্তা ও বর্তমান বিশ্বের অস্থির বাস্তবতা পশ্চিমবঙ্গ ভোটে বিজেপির প্রতিশ্রুতি: সমান দেওয়ানি বিধি, বাড়তি আর্থিক সহায়তা জঙ্গলমহলে প্রান্তিক মানুষের ভোটে ভর করে উন্নয়ন আর কল্যাণের লড়াই উত্তর প্রদেশে ভোটার তালিকা সংশোধন শেষ, বাদ পড়ল ২ কোটির বেশি নাম ভারতে উচ্ছেদের পর ভোটাধিকারও হারাল অসমের কাচুটালির মানুষ, নাগরিকত্ব নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা জ্বালানি সংকটে কাঁপছে দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষী শিল্পনীতি, চিপ স্বপ্নে বড় চ্যালেঞ্জ ট্রাম্প ঢেউ থামছে: বাজারে ভাঙছে পুরনো বাজি, বিনিয়োগকারীদের কৌশলে বড় পরিবর্তন নেটোতে ফাটল: ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কে নতুন সংকট এআইএমআইএম–এজেউপ জোট ভাঙল ভোটের আগে, বিতর্কিত ভিডিও ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

এআইয়ের নতুন আতঙ্ক: ‘মিথোস’ কি সাইবার দুনিয়ায় ঝড় তুলতে যাচ্ছে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি দুনিয়ার এক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান তাদের সর্বশেষ এআই মডেল প্রকাশে বিরতি দিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে—এই প্রযুক্তি এতটাই শক্তিশালী যে তা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ছেড়ে দিলে বিপজ্জনক হতে পারে।

নতুন মডেল ঘিরে বাড়ছে শঙ্কা

সম্প্রতি উন্মোচিত এই নতুন মডেল, যার নাম ‘মিথোস’, আগের যেকোনো মডেলের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতাধর বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এর দক্ষতা বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি একদিকে নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে, আবার অন্যদিকে হ্যাকারদের হাতেও শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন একটি এআই যদি ভুল হাতে পড়ে, তাহলে সাইবার হামলার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেতে পারে। কারণ এটি শুধু দুর্বলতা খুঁজে বের করতে পারে না, বরং সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর পথও দেখাতে সক্ষম।

Experts warn of AI dangers in major new report | Information Age | ACS

সতর্কবার্তা কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

সাধারণত এমন দাবিকে কিছুটা সন্দেহের চোখে দেখা হয়। কারণ যে প্রতিষ্ঠান মডেল তৈরি করে, তারাই আবার এর ক্ষমতা নিয়ে বড় বড় দাবি করে থাকে। তাছাড়া এই প্রতিষ্ঠানটি সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত ব্যবসায়িক সাফল্যও অর্জন করেছে, যা তাদের এমন প্রচারণায় উৎসাহিত করতে পারে।

তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ এই মডেল নাকি বিভিন্ন বড় অপারেটিং সিস্টেম এবং ওয়েব ব্রাউজারে গুরুতর দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে—যার মধ্যে এমন একটি ত্রুটিও রয়েছে, যা প্রায় ২৭ বছর ধরে অজানা ছিল।

বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ

এই ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি বিশেষ প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানিকে আগেভাগেই নিজেদের সিস্টেমের নিরাপত্তা যাচাই করার সুযোগ দেওয়া হবে। এতে শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ এই হুমকিকে আরও বাস্তব বলে মনে করাচ্ছে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, সফটওয়্যার প্রকাশের আগেই তার দুর্বলতা খুঁজে বের করে ঠিক করা, যাতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সাইবার হামলা এড়ানো যায়।

Will AI Replace Human Workers — or Help Them Thrive?

নিরাপত্তা বনাম ব্যবসা

এই প্রকল্পে অংশ নিতে শুরুতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলেও, ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীদের জন্য খরচ বাড়ানো হবে। অর্থাৎ নিরাপত্তার নামে এটি একটি বড় ব্যবসায়িক সুযোগেও পরিণত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের প্রযুক্তি একসময় অন্য প্রতিষ্ঠানও তৈরি করবে। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তবে সব প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার বিষয়ে সমানভাবে গুরুত্ব দেয় না—বিশেষ করে কিছু উন্মুক্ত প্রযুক্তি উন্নয়নকারী গোষ্ঠী এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকতে পারে।

সরকারের অস্বস্তি

এই নতুন উদ্যোগ শুধু হ্যাকারদের নয়, কিছু সরকারের জন্যও অস্বস্তির কারণ হতে পারে। কারণ অনেক সময় সরকার নিজের কৌশলগত স্বার্থে সফটওয়্যারের অজানা দুর্বলতা গোপন রাখে। নতুন এই প্রকল্প সফল হলে সেই সুযোগ কমে যেতে পারে।

ফলে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সরকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংক্ষেপে, এআই প্রযুক্তির এই নতুন ধাপ একদিকে যেমন সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে, অন্যদিকে তা নতুন ঝুঁকির দিকও খুলে দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ব কত দ্রুত এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে ক্যাবের মানববন্ধন

এআইয়ের নতুন আতঙ্ক: ‘মিথোস’ কি সাইবার দুনিয়ায় ঝড় তুলতে যাচ্ছে?

০৫:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি দুনিয়ার এক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান তাদের সর্বশেষ এআই মডেল প্রকাশে বিরতি দিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে—এই প্রযুক্তি এতটাই শক্তিশালী যে তা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ছেড়ে দিলে বিপজ্জনক হতে পারে।

নতুন মডেল ঘিরে বাড়ছে শঙ্কা

সম্প্রতি উন্মোচিত এই নতুন মডেল, যার নাম ‘মিথোস’, আগের যেকোনো মডেলের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতাধর বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এর দক্ষতা বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি একদিকে নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে, আবার অন্যদিকে হ্যাকারদের হাতেও শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন একটি এআই যদি ভুল হাতে পড়ে, তাহলে সাইবার হামলার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেতে পারে। কারণ এটি শুধু দুর্বলতা খুঁজে বের করতে পারে না, বরং সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর পথও দেখাতে সক্ষম।

Experts warn of AI dangers in major new report | Information Age | ACS

সতর্কবার্তা কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

সাধারণত এমন দাবিকে কিছুটা সন্দেহের চোখে দেখা হয়। কারণ যে প্রতিষ্ঠান মডেল তৈরি করে, তারাই আবার এর ক্ষমতা নিয়ে বড় বড় দাবি করে থাকে। তাছাড়া এই প্রতিষ্ঠানটি সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত ব্যবসায়িক সাফল্যও অর্জন করেছে, যা তাদের এমন প্রচারণায় উৎসাহিত করতে পারে।

তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ এই মডেল নাকি বিভিন্ন বড় অপারেটিং সিস্টেম এবং ওয়েব ব্রাউজারে গুরুতর দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে—যার মধ্যে এমন একটি ত্রুটিও রয়েছে, যা প্রায় ২৭ বছর ধরে অজানা ছিল।

বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ

এই ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি বিশেষ প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানিকে আগেভাগেই নিজেদের সিস্টেমের নিরাপত্তা যাচাই করার সুযোগ দেওয়া হবে। এতে শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ এই হুমকিকে আরও বাস্তব বলে মনে করাচ্ছে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, সফটওয়্যার প্রকাশের আগেই তার দুর্বলতা খুঁজে বের করে ঠিক করা, যাতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সাইবার হামলা এড়ানো যায়।

Will AI Replace Human Workers — or Help Them Thrive?

নিরাপত্তা বনাম ব্যবসা

এই প্রকল্পে অংশ নিতে শুরুতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলেও, ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীদের জন্য খরচ বাড়ানো হবে। অর্থাৎ নিরাপত্তার নামে এটি একটি বড় ব্যবসায়িক সুযোগেও পরিণত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের প্রযুক্তি একসময় অন্য প্রতিষ্ঠানও তৈরি করবে। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তবে সব প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার বিষয়ে সমানভাবে গুরুত্ব দেয় না—বিশেষ করে কিছু উন্মুক্ত প্রযুক্তি উন্নয়নকারী গোষ্ঠী এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকতে পারে।

সরকারের অস্বস্তি

এই নতুন উদ্যোগ শুধু হ্যাকারদের নয়, কিছু সরকারের জন্যও অস্বস্তির কারণ হতে পারে। কারণ অনেক সময় সরকার নিজের কৌশলগত স্বার্থে সফটওয়্যারের অজানা দুর্বলতা গোপন রাখে। নতুন এই প্রকল্প সফল হলে সেই সুযোগ কমে যেতে পারে।

ফলে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সরকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংক্ষেপে, এআই প্রযুক্তির এই নতুন ধাপ একদিকে যেমন সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে, অন্যদিকে তা নতুন ঝুঁকির দিকও খুলে দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ব কত দ্রুত এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।