ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় হঠাৎই নতুন মোড় এসেছে। ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র দাবি করেছে, কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড়তে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই দাবির পরপরই ওয়াশিংটন তা সরাসরি অস্বীকার করায় পুরো পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার দিকে চলে গেছে।
আলোচনায় ইতিবাচক ইঙ্গিত, নাকি কৌশলগত চাপ?
ইরানি সূত্রের মতে, এই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা মনে করছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমঝোতায় পৌঁছানোর আন্তরিকতার প্রমাণ। একই সঙ্গে জানানো হয়, এই দাবি ইরানের পক্ষ থেকে আগেই বারবার তুলে ধরা হয়েছিল এবং সম্প্রতি সে বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দ্রুতই এই দাবি নাকচ করে দেন। তাদের মতে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিভেদ দেখা দিয়েছে, যা আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক
ইরানের ওই সূত্র আরও দাবি করেছে, অর্থ ছাড়ের বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং এটি হরমুজ প্রণালীর নিরাপদ নৌ চলাচলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়, ফলে এর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রসঙ্গটি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানে, ইরান কৌশলগতভাবে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বিষয়কে একসঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।
আট বছর ধরে আটকে থাকা অর্থ
প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের এই অর্থ মূলত ইরানের তেল বিক্রির আয়, যা দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকে জমা ছিল। ২০১৮ সালে নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপের পর এই অর্থ আটকে যায়।
পরে ২০২৩ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ ছাড়ের কথা থাকলেও, একই বছরের অক্টোবরের পর আবারও তা স্থগিত হয়ে যায়। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইরান এই অর্থ সরাসরি ব্যবহার করতে পারবে না এবং প্রয়োজন হলে সম্পূর্ণভাবে তা আবারও আটকে রাখা হবে।
মানবিক খাতে ব্যবহারের শর্ত
এর আগে নির্ধারিত হয়েছিল, এই অর্থ শুধুমাত্র খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং কৃষিপণ্য আমদানির মতো মানবিক খাতে ব্যবহার করা যাবে। এই ব্যয়ও কঠোর নজরদারির মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
তবে নতুন করে অর্থ ছাড়ের প্রশ্ন সামনে আসায়, এই শর্তগুলো বহাল থাকবে কি না, সেটিও এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামনে কী অপেক্ষা করছে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট করে কিছু বলা কঠিন। একদিকে ইরান বলছে সমঝোতার পথ খুলছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করছে। এই দ্বৈত অবস্থান ইঙ্গিত দেয়, আলোচনার পর্দার আড়ালে এখনো নানা জটিলতা রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















