মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন। এই আলোচনা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধ ইতোমধ্যেই হাজারো প্রাণহানি, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে।
আলোচনার সূচনাতেই শর্ত
ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে হলে প্রথমেই যুক্তরাষ্ট্রকে লেবাননে যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা দিতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও চাইছে তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এসব বিষয়ে ছাড় পেতে হলে ইরানকে তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনতে হবে।
লেবানন ইস্যুতে মতপার্থক্য
লেবাননে চলমান সংঘাত আলোচনার অন্যতম জটিল বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরানের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলায় বিপুল প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ইরান এই সংঘাতকে সরাসরি আলোচনার অংশ হিসেবে দেখলেও যুক্তরাষ্ট্র এটিকে আলাদা ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছে।
নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ
ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে চাপে রয়েছে। তাই তারা আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র আংশিক ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও সেটি শর্তসাপেক্ষ বলে স্পষ্ট করেছে।

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ে দুই দেশের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। ইরান সেখানে নিজের কর্তৃত্ব স্বীকৃতি এবং চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ চায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, এই পথ সব ধরনের জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকুক, কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা ফি ছাড়াই।
ক্ষতিপূরণ ও সামরিক উপস্থিতি
ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরান ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা চায়, যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চল থেকে তাদের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নিক এবং ভবিষ্যতে আগ্রাসন না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিক। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা মধ্যপ্রাচলে তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে।
পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি
সবচেয়ে বড় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে চায়, যা যুক্তরাষ্ট্র একেবারেই মেনে নিতে রাজি নয়। একইভাবে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি কমানোর দাবি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু তেহরান এটিকে তাদের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছে।
এই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান না এলেও, দুই পক্ষের অবস্থান পরিষ্কার হওয়ায় ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনীতি—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখন এই আলোচনার ফলাফলের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















