১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
চীন কি গোপনে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নতুন আশঙ্কা জমাট বাঁধা অর্থ ছাড় নিয়ে বিভ্রান্তি, আলোচনার আগেই নতুন শর্ত তুলল ইরান ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধ: সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি, তবে সমাধান এখনো দূরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত, মাইন অপসারণে সমস্যায় ইরান শান্তি আলোচনায় দুই পক্ষের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা শুরু, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামাতে ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শুরু, উত্তেজনার মাঝেই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ তেল আছে শুধু সংসদে, মাঠে নেই—জ্বালানি সংকটে কৃষি ও অর্থনীতিতে বিপদের শঙ্কা আইপিএলে টানা হার থামাতে মরিয়া চেন্নাই, দিল্লির বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই চীন-পাকিস্তান কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধবিরতিতে বড় ভূমিকা বেইজিংয়ের

চীন কি গোপনে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নতুন আশঙ্কা

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্প্রতি এমন তথ্য পেয়েছে যে, চীন হয়তো ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ব্যবহার হতে পারে। তবে এই তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়, এবং এসব ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

এই সম্ভাবনা নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এতে বোঝা যায় যে চীন এই সংঘাতে কতটা জড়িত হতে পারে।

সম্ভাব্য অস্ত্র সহায়তা ও তার গুরুত্ব

যে ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর কথা বলা হচ্ছে, তা ‘ম্যানপ্যাডস’ নামে পরিচিত। এগুলো দিয়ে নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমান সহজেই ভূপাতিত করা সম্ভব। যদি চীন সত্যিই এই ধরনের অস্ত্র ইরানকে সরবরাহ করে থাকে, তাহলে এটি যুদ্ধের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

চীন সাধারণত সরাসরি অস্ত্র সরবরাহে অনাগ্রহী ছিল। তবে দেশটির কিছু নীতিনির্ধারক ইরানকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

গোপন সহায়তা ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চীন সরাসরি অস্ত্র না দিলেও কিছু কোম্পানির মাধ্যমে ইরানে রাসায়নিক, জ্বালানি ও সামরিক উৎপাদনে ব্যবহৃত উপাদান সরবরাহ করছে। একই সঙ্গে রাশিয়াও ইরানকে স্যাটেলাইট তথ্যসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়েছে, যা মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর লক্ষ্য নির্ধারণে কাজে লাগানো হচ্ছে।

এই সমন্বিত সহায়তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীরা এই যুদ্ধকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে রাখা যায়।

Did China help rebuild Iran's defences ahead of US-Israel strikes? Missiles,  radars and drones in focus

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সংবেদনশীল সময়

এই পরিস্থিতি এমন এক সময় সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক খুবই স্পর্শকাতর। আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের চীন সফরের কথা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সামরিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ইরান যুদ্ধের কারণে এই বৈঠক ইতোমধ্যে পিছিয়ে গেছে।

চীনের অবস্থান: প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ, ভেতরে জটিলতা

চীন প্রকাশ্যে নিজেকে নিরপেক্ষ বলেই দাবি করে আসছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছে, তারা কোনো পক্ষকে অস্ত্র দেয়নি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরিতে ব্যবহৃত অনেক উপাদান চীন থেকেই আসে, যা দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় সরাসরি সামরিক সহায়তা হিসেবে অস্বীকার করা সম্ভব।

চীন একই ধরনের কৌশল ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেছিল।

অর্থনীতি, তেল ও কৌশলগত হিসাব

চীন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা। ধারণা করা হয়, ইরানের রপ্তানিকৃত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই চীন কিনে থাকে, যা দেশটির অর্থনীতি ও সামরিক ব্যয়ের বড় উৎস।

তবে একই সঙ্গে চীনের উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গেও গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এই কারণে চীন একদিকে ইরানকে সহায়তা দিতে আগ্রহী হলেও, অন্যদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হোক—এমন অবস্থানও নিতে চায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলগত দিক থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার

সব মিলিয়ে, চীন প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখলেও বাস্তবে তাদের ভূমিকা অনেক বেশি জটিল। ইরানকে সরাসরি বা পরোক্ষ সহায়তার বিষয়টি যদি সত্য হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও বিস্তৃত ও বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীন কি গোপনে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নতুন আশঙ্কা

চীন কি গোপনে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নতুন আশঙ্কা

০৮:৩৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্প্রতি এমন তথ্য পেয়েছে যে, চীন হয়তো ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ব্যবহার হতে পারে। তবে এই তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়, এবং এসব ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

এই সম্ভাবনা নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এতে বোঝা যায় যে চীন এই সংঘাতে কতটা জড়িত হতে পারে।

সম্ভাব্য অস্ত্র সহায়তা ও তার গুরুত্ব

যে ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর কথা বলা হচ্ছে, তা ‘ম্যানপ্যাডস’ নামে পরিচিত। এগুলো দিয়ে নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমান সহজেই ভূপাতিত করা সম্ভব। যদি চীন সত্যিই এই ধরনের অস্ত্র ইরানকে সরবরাহ করে থাকে, তাহলে এটি যুদ্ধের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

চীন সাধারণত সরাসরি অস্ত্র সরবরাহে অনাগ্রহী ছিল। তবে দেশটির কিছু নীতিনির্ধারক ইরানকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

গোপন সহায়তা ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চীন সরাসরি অস্ত্র না দিলেও কিছু কোম্পানির মাধ্যমে ইরানে রাসায়নিক, জ্বালানি ও সামরিক উৎপাদনে ব্যবহৃত উপাদান সরবরাহ করছে। একই সঙ্গে রাশিয়াও ইরানকে স্যাটেলাইট তথ্যসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়েছে, যা মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর লক্ষ্য নির্ধারণে কাজে লাগানো হচ্ছে।

এই সমন্বিত সহায়তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীরা এই যুদ্ধকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে রাখা যায়।

Did China help rebuild Iran's defences ahead of US-Israel strikes? Missiles,  radars and drones in focus

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সংবেদনশীল সময়

এই পরিস্থিতি এমন এক সময় সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক খুবই স্পর্শকাতর। আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের চীন সফরের কথা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সামরিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ইরান যুদ্ধের কারণে এই বৈঠক ইতোমধ্যে পিছিয়ে গেছে।

চীনের অবস্থান: প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ, ভেতরে জটিলতা

চীন প্রকাশ্যে নিজেকে নিরপেক্ষ বলেই দাবি করে আসছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছে, তারা কোনো পক্ষকে অস্ত্র দেয়নি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরিতে ব্যবহৃত অনেক উপাদান চীন থেকেই আসে, যা দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় সরাসরি সামরিক সহায়তা হিসেবে অস্বীকার করা সম্ভব।

চীন একই ধরনের কৌশল ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেছিল।

অর্থনীতি, তেল ও কৌশলগত হিসাব

চীন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা। ধারণা করা হয়, ইরানের রপ্তানিকৃত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই চীন কিনে থাকে, যা দেশটির অর্থনীতি ও সামরিক ব্যয়ের বড় উৎস।

তবে একই সঙ্গে চীনের উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গেও গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এই কারণে চীন একদিকে ইরানকে সহায়তা দিতে আগ্রহী হলেও, অন্যদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হোক—এমন অবস্থানও নিতে চায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলগত দিক থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার

সব মিলিয়ে, চীন প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখলেও বাস্তবে তাদের ভূমিকা অনেক বেশি জটিল। ইরানকে সরাসরি বা পরোক্ষ সহায়তার বিষয়টি যদি সত্য হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও বিস্তৃত ও বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে।