রাজধানীর এক সেমিনারে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদে সরকারের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে, কিন্তু বাস্তবে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাচ্ছে না। এই বৈপরীত্য দেশের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সরকারের বক্তব্যের অসামঞ্জস্যকে স্পষ্ট করে তুলে ধরে।
সংসদের কথার সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক
তিনি বলেন, সংসদে মন্ত্রী ও সরকারি দলের সদস্যদের বক্তব্যে আশাবাদের ছবি ফুটে উঠলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, জ্বালানি সংকট ও দৈনন্দিন দুর্ভোগ সেই বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য জনগণের কল্যাণে আইন প্রণয়ন হলেও বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জবাবদিহি ও সুশাসনের অভাব
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, জনগণের করের প্রতিটি টাকার হিসাব দেওয়া রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংসদ থেকে জাতির জন্য উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক ফল আসেনি। রাজনীতিতে সুস্থ চর্চার অভাব এবং জবাবদিহিতার ঘাটতি দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
‘গোঁজামিলের’ অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ
দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এখন সর্বত্র গোঁজামিলের প্রবণতা চলছে। ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব আয় না থাকলেও কাগজে লাভ দেখানোর প্রবণতা বাড়ছে, যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসনের আহ্বান জানান।
কৃষিতে সংকট, খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি
তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃষির বিপর্যয় মানেই দেশের সামগ্রিক বিপর্যয়। জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষকরা সেচ দিতে পারছেন না, যা খাদ্য উৎপাদনকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। কৃষি খাত দুর্বল হয়ে পড়লে কোনো বিদেশি সহায়তাই দেশকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে পারবে না।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করণীয়
সরকারকে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্তত ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সিন্ডিকেট ভেঙে বিকল্প জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর শক্তির দিকে নজর বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
সংগঠন ও নেতৃত্বে স্বচ্ছতার দাবি
কৃষিবিদদের সংগঠন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখানে জোর করে নেতৃত্ব দখলের প্রবণতা থাকা উচিত নয়। যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে বসানোই সুশাসনের মূল শর্ত এবং দল, ধর্ম বা লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়।
সেমিনারের প্রেক্ষাপট
সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের মোট জ্বালানির একটি বড় অংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয়। বর্তমান সংকট অব্যাহত থাকলে বোরো মৌসুমে বড় ধরনের উৎপাদন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, একই ধরনের প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও ক্ষমতার অপব্যবহার অব্যাহত থাকলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
সংক্ষিপ্ত বিবরণ: জ্বালানি সংকট, সংসদের বক্তব্য ও বাস্তবতার ফারাক নিয়ে সমালোচনা; কৃষিতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা ও সমাধানে করণীয় তুলে ধরলেন বিরোধী নেতা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















