ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘অনুমাননির্ভর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাহিনীটি বলেছে, সম্মেলনের আলোচ্য বিষয় ও সিদ্ধান্তগুলো প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বিজিবি জানায়, কিছু ব্যক্তি ও অল্পসংখ্যক গণমাধ্যম সম্মেলনের প্রকৃত কার্যক্রমের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মন্তব্য, অসম্পূর্ণ বিশ্লেষণ এবং অনুমানভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশনসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশ ৩১টি এবং ভারত ২১টি এজেন্ডা উত্থাপন করে। আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সমঝোতাগুলো যৌথ আলোচনা নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালকরা স্বাক্ষর করেন।
সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুতে জোর
বিজিবি জানিয়েছে, সম্মেলনে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল সীমান্ত হত্যা এবং কথিত পুশ-ইন ইস্যু। নিরস্ত্র ও নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনা বন্ধ করা এবং সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান যৌথ নথিতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
এছাড়া পুশ-ইন, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ, মাদক পাচার, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম সম্পর্কিত উদ্বেগও আলোচনায় স্থান পেয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
বিজিবির মতে, যৌথ নথি পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে বাংলাদেশের উত্থাপিত সব উদ্বেগ ও অবস্থান কোনো ধরনের আপস ছাড়াই স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
‘গোপন বৈঠক’ অভিযোগের জবাব
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের বৈঠককে ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা প্রতিবেদনগুলোকেও প্রত্যাখ্যান করেছে বিজিবি।
বাহিনীটি বলেছে, সীমান্ত সম্মেলনের অংশ হিসেবে সফররত বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে আয়োজক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি। ২০২৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলনেও বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
বিজিবির বক্তব্য অনুযায়ী, অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠকটি আগে থেকেই নির্ধারিত ও অনুমোদিত ছিল। ওই বৈঠকে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান
বিজিবি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বাহিনীটি সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, অবৈধ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, মাদক ও মানবপাচার, মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন অস্থিতিশীলতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
বাহিনীটি আরও বলেছে, প্রমাণ ছাড়া শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ন করার শামিল।
বিজিবি সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মাদক পাচার ও সীমান্ত নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, মতামত ও বিশ্লেষণ স্বাগত হলেও তা অবশ্যই যাচাই করা তথ্য, প্রামাণ্য নথি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বিজিবি।
#বিজিবি #বিএসএফ #সীমান্তহত্যা #পুশইন #বাংলাদেশভারতসীমান্ত #সীমান্তনিরাপত্তা #বাংলাদেশ #ভারত #সারাক্ষণ_রিপোর্ট
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















