০৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
বৃহস্পতিবার রাত থেকে তিন দিন ধীরগতি ইন্টারনেট — রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে বাংলাদেশে বিঘ্ন ‘আমি কি হরিণ?’—নিজেকে ও অন্যকে বোঝার এক অদ্ভুত অনুসন্ধান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থীকে সমর্থন দিল ব্রাজিল বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়সূচি বদলে দিল বিসিবি হাঙরের শরীরে ক্যাফেইন ও কোকেনের চিহ্ন, সমুদ্র দূষণে নতুন আতঙ্ক ব্যাংক রেজোলিউশন আইন সংশোধন: লুটেরা ব্যাংক মালিকরা কি ফের তাদেরই ডুবানো ব্যাংক কিনতে পারবেন? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছড়া থেকে উদ্ধার হলো আট ফুটের কিং কোবরা ধ্বংসস্তূপে চাপা ভবিষ্যৎ: যুদ্ধ থেমেও থামে না গাজার মানুষের জীবন ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত — লাখো পরীক্ষার্থীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শীঘ্রই খুলছে বাংলাদেশিদের জন্য — প্রবাসী কর্মীদের নতুন সুযোগ

নেটো জোটে ভাঙনের আশঙ্কা: ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা এখন নেটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিনের এই সামরিক জোটে অভ্যন্তরীণ চাপ ও মতবিরোধ ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেটো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনের সময় যথাযথ সহযোগিতা করেনি। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোও ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, যা সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব
ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে ইউরোপের দেশগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জার্মানির নেতৃত্বও স্বীকার করেছে যে এই যুদ্ধ তাদের অর্থনীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে চাপে ফেলেছে।

এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো চায় না যে নেটোর ভেতরে কোনো বিভাজন তৈরি হোক। তবে বাস্তবে তাদের রাজনৈতিক চাপ ও জনগণের অসন্তোষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

WB - ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অস্থির হতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি  তেলের বাজার

ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান
ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নেটো নিয়ে সমালোচনামুখর। তার অভিযোগ, ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুবিধা নিচ্ছে, কিন্তু যথেষ্ট অবদান রাখছে না। ইরান যুদ্ধের সময় ইউরোপের অনাগ্রহ তার এই অসন্তোষকে আরও তীব্র করেছে।

এছাড়া গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রহ এবং সেই বিষয়ে ইউরোপের অনীহাও এই উত্তেজনার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ চায়, কিন্তু ইউরোপ তা দিতে রাজি নয়।

UK and Nato allies object to Trump's tariff threat

জোটে ভাঙনের শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি নেটোর জন্য এক ধরনের বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি এই মতবিরোধ দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে জোটের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে অবস্থানরত সেনাদের পুনর্বিন্যাসের কথাও ভাবছে বলে জানা গেছে। কিছু দেশ থেকে সেনা সরিয়ে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে পাঠানোর পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।

ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা
যদিও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে, তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাতের ক্ষত সহজে সারবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে আস্থার ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে জোটের কাঠামোকে দুর্বল করে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধের পর নেটো এখন এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। যেখানে মিত্রদের মধ্যে ঐক্যের বদলে সন্দেহ ও দ্বিধা বাড়ছে, আর সেটিই ভবিষ্যতের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহস্পতিবার রাত থেকে তিন দিন ধীরগতি ইন্টারনেট — রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে বাংলাদেশে বিঘ্ন

নেটো জোটে ভাঙনের আশঙ্কা: ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা

০২:১৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা এখন নেটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিনের এই সামরিক জোটে অভ্যন্তরীণ চাপ ও মতবিরোধ ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেটো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনের সময় যথাযথ সহযোগিতা করেনি। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোও ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, যা সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব
ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে ইউরোপের দেশগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জার্মানির নেতৃত্বও স্বীকার করেছে যে এই যুদ্ধ তাদের অর্থনীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে চাপে ফেলেছে।

এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো চায় না যে নেটোর ভেতরে কোনো বিভাজন তৈরি হোক। তবে বাস্তবে তাদের রাজনৈতিক চাপ ও জনগণের অসন্তোষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

WB - ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অস্থির হতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি  তেলের বাজার

ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান
ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নেটো নিয়ে সমালোচনামুখর। তার অভিযোগ, ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুবিধা নিচ্ছে, কিন্তু যথেষ্ট অবদান রাখছে না। ইরান যুদ্ধের সময় ইউরোপের অনাগ্রহ তার এই অসন্তোষকে আরও তীব্র করেছে।

এছাড়া গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রহ এবং সেই বিষয়ে ইউরোপের অনীহাও এই উত্তেজনার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ চায়, কিন্তু ইউরোপ তা দিতে রাজি নয়।

UK and Nato allies object to Trump's tariff threat

জোটে ভাঙনের শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি নেটোর জন্য এক ধরনের বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি এই মতবিরোধ দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে জোটের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে অবস্থানরত সেনাদের পুনর্বিন্যাসের কথাও ভাবছে বলে জানা গেছে। কিছু দেশ থেকে সেনা সরিয়ে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে পাঠানোর পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।

ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা
যদিও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে, তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাতের ক্ষত সহজে সারবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে আস্থার ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে জোটের কাঠামোকে দুর্বল করে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধের পর নেটো এখন এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। যেখানে মিত্রদের মধ্যে ঐক্যের বদলে সন্দেহ ও দ্বিধা বাড়ছে, আর সেটিই ভবিষ্যতের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে।